ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রেমের জেরে দম্পতি-গর্ভের সন্তানকে হত্যা করেন হৃদয়: পিবিআই

প্রেমের জেরে দম্পতি-গর্ভের সন্তানকে হত্যা করেন হৃদয়: পিবিআই
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:৪২

সাভারের আশুলিয়ায় নারী পোশাকশ্রমিক, তার গর্ভের সন্তান ও স্বামীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই বলছে, নিহত নাজমা খাতুনের বিয়ের আগেই এক ব্যক্তির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকার একটি বাসা থেকে গত ৫ সেপ্টেম্বর তাদের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মনিরুজ্জামান হৃদয় নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে হৃদয় হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় সংস্থার ঢাকা জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। 

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ বলেন, হৃদয়ের সঙ্গে নিহত নাজমার বিয়ের আগে থেকেই প্রেম ও শারীরিক সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে নাজমার স্বামী আলমগীর কবিরের সঙ্গে হৃদয়ের বিরোধ তৈরি হয়। নাজমা ও আলমগীরের সঙ্গে হৃদয়ের ওই বিরোধের জেরেই এ হত্যার ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সুপার বলেন, আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় গত ৫ সেপ্টেম্বর হযরত আলীর বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে আশুলিয়া থানা পুলিশ তালাবদ্ধ ঘরটির দরজা খুলে ভেতর থেকে পোশাকশ্রমিক নাজমা খাতুন (৩৯), তার স্বামী আলমগীর কবিরের (৪৫) অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে।

মরদেহগুলোর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় নাজমার বড় বোন শাপলা বেগম ওইদিনই অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন। পিবিআই বলছে, ঘটনার পর থেকেই তারা ছায়া তদন্ত শুরু করে। মামলাটি সিডিউলভুক্ত হওয়ায় ৮ সেপ্টেম্বর স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে তারা। মামলাটি তদন্ত করছেন এসআই আনিসুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ বলেন, বিয়ের আগে থেকেই নাজমার সঙ্গে হৃদয়ের প্রেম ও শারীরিক সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানার পর আলমগীরের সঙ্গে হৃদয়ের বিরোধ তৈরি হয়। ঘটনার দিন নাজমা ও আলমগীর হৃদয়ের বাসায় গিয়ে তাকে নিজেদের বাসায় নিয়ে আসেন। সেখানে আগের সম্পর্কের বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আলমগীর হৃদয়কে মারধর করতে থাকেন। এ সময় নাজমাও ঝাঁটা দিয়ে হৃদয়কে আঘাত করেন বলে জবানবন্দিতে বলা হয়েছে। পরে হৃদয়ও ধাক্কাধাক্কি ও ঘুষি দিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে তিনি নাজমার পেটে লাথি মারলে তিনি পড়ে যান। এতে নাজমার পেটে আঘাত লাগে এবং তার গর্ভের সন্তান মারা যায় বলে হৃদয় জবানবন্দিতে দাবি করেছেন। এরপর আলমগীর খুন্তি ও পাইপ দিয়ে হৃদয়কে আঘাত করেন। তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে হৃদয় আলমগীরের গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহগুলো খাটের ওপর রেখে হৃদয় ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এ সময় নাজমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিম, অফিসের পরিচয়পত্র ও পার্সও নিয়ে যান বলে তদন্তে পাওয়া গেছে।

পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ বলেন, ভুক্তভোগীদের পূর্বপরিচিত ব্যক্তি ও তাদের চলাফেরার তথ্য যাচাই করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে আসামি হ্দয়ের বিরুদ্ধে ২০২২ সালের আশুলিয়া থানার অন্য একটি হত্যা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন

×