ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফ্যাসিস্ট সরকার রোহিঙ্গা সংকটকে জটিল করেছে

সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ফ্যাসিস্ট সরকার রোহিঙ্গা সংকটকে জটিল করেছে
×

ড. খলিলুর রহমান

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২১

| প্রিন্ট সংস্করণ

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, ফ্যাসিস্ট সরকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার বদলে লোক দেখানো তৎপরতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। যা সংকটকে আরো দীর্ঘায়িত ও জটিল করেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সেলিনা সুলতানার প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।
সরকার রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান ও বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ উল্লেখ করে সেলিনা সুলতানার প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক- সব পর্যায়ে দৃঢ় কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে এই সংকটের দ্রুত ও টেকসই সমাধানে কাজ করছে। এই সংকটের সৃষ্টি মিয়ানমারের এবং এর টেকসই সমাধানও নিহিত রয়েছে মিয়ানমারেই। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য নিজ ভূমিতে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসন। এ লক্ষ্যে সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরো জোরদার করবে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসতে আমরা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে রোহিঙ্গা সংকটকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরছি। বন্ধু রাষ্ট্র, দাতা দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। প্রচলিত কূটনীতির পাশাপাশি Track 1.5 ও Track 2 কূটনীতির সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। 

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সম্প্রতি রোহিঙ্গা বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন কমিটি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ক্যাম্পের শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সরকার একটি উচ্চ পর্যায়ের ইভেন্ট আয়োজন করছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আশা করছি ওই ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রী প্রধানবক্তা হিসেবে আংশ নেবেন। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট ও প্রত্যাবাসনের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন সুসংহত হবে।

সাতক্ষীরা-২ আসনের মুহাম্মদ আব্দুল খালেকের প্রশ্নে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে সরকার আন্তরিক। তবে সেটা অবশ্যই সমমর্যাদার ভিত্তিতে হতে হবে। সীমান্ত এলাকার বাংলাদেশী জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও বৈধপথে ব্যবসা বাণিজ্য বাড়ানোর আলোচনার ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। 
সীমান্তে পুশইন ইস্যুতে সংরক্ষিত আসনের নেওয়াজ হালিমা আরলীর প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, সীমান্তে কোন ধরনের পুশ-ইন বা পুশ-ইনের প্রচেষ্টাকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশের গভীর উদ্বেগ করার পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ভৌগলিক অখন্ডতা ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আমাদের সরকার দৃঢ়তার সঙ্গে সীমান্তে পুশ ইন রোধে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে।

সংরক্ষিত আসনের নিপুন রায় চৌধুরীর প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণে বিদেশের বাংলাদেশ মিশনগুলো সুনির্দষ্ট অর্থনৈতিক রোডম্যাপের আওতায় কাজ করছে। সরকারের মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক কৌশলের আওতায় ২০৩০-৩১ অর্থ বছরের মধ্যে এফডিআই জিডিপির ২ দশমিক ৭ শতাংশ ও সামগ্রিক বিনিয়োগ ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে।

জামালপুর-৩ আসনের মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নে ড. খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে বিশ্বের ৬৩ দেশে বাংলাদেশের ৮৬টি কূটনৈতিক মিশন কার্যক্রম পারিচালনা করছে।
কিশোরগঞ্জ-১ আসনের মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহে কার্যক্রমে দূর্বলতা ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দূতাবাসগুলোকে একটি জবাবদিহিমূলক কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ-২ আসনের মো. জালাল উদ্দীনের প্রশ্নে পারমানবিক বিদ্যুত প্রযুক্তি একটি জটিল, ব্যয়বহুল ও কৌশলগত নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিষয় উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, রাশিয়ার সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন রূপপুর পারমানিক বিদ্যুত কেন্দ্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ পারমানবিক বিদ্যুত উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।  
প্রবাসীদের পাসপোর্ট-এনআইডি সেবা সহজ করতে গুরুত্ব আরোপ
সিলেট-৩ আসনের সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের টেবিলে উপস্থাপিত প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, সরকার প্রবাসীদের পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত সেবা আরও দ্রুত, সহজ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

আরও পড়ুন

×