ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুরি হওয়া লেমুরের অবস্থান নিশ্চিত নয় সিআইডি

চুরি হওয়া লেমুরের অবস্থান নিশ্চিত নয় সিআইডি
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৫১

| প্রিন্ট সংস্করণ

গাজীপুরের শ্রীপুরে সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়া দুটি রিং-টেইলড লেমুর ভারতের গুজরাটে আম্বানি পরিবারের মালিকানাধীন বন্যপ্রাণী উদ্ধার, সংরক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র বনতারায় আছে কিনা, তা এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে লেমুর দুটি বনতারায় বিক্রি হওয়ার তথ্য প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের অবস্থান জানায়। তবে সিআইডি বলছে, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ছাড়া বনতারায় থাকা লেমুরগুলোই গাজীপুরের চুরি হওয়া প্রাণী– এমন দাবি করার সুযোগ নেই।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) ছুফি উল্লাহ বলেন, সাফারি পার্ক থেকে চুরি হওয়ার পর লেমুর দুটি পাচারকারী চক্রের মাধ্যমে ভারতে নেওয়া হয়েছে বলে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে তথ্য মিলেছে। তবে ভারতে নেওয়ার পর প্রাণী দুটি কোথায় গেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়, গাজীপুর থেকে চুরি হওয়া লেমুর দুটি হাতবদল হয়ে প্রায় ৪৮ লাখ রুপিতে বনতারায় বিক্রি হয়েছে। তবে সিআইডি এ তথ্য নিশ্চিত করেনি। সংস্থাটি বলছে, বনতারায় থাকা লেমুরের সঙ্গে গাজীপুরের চুরি হওয়া লেমুরের মিল আছে কিনা, তা নির্ধারণের জন্য ডিএনএ পরীক্ষাসহ বৈজ্ঞানিক যাচাই প্রয়োজন।
এ বিষয়ে গত শুক্রবার বনতারা তাদের ফেসবুক পেজে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, বাংলাদেশের সাফারি পার্ক থেকে লেমুর চুরির ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কে তারা অবগত। তবে বাংলাদেশের কোনো তদন্ত সংস্থার কাছ থেকে তারা নোটিশ বা অনুরোধ পায়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে, তাদের কারও সঙ্গে বনতারার কোনো যোগাযোগ বা লেনদেন হয়নি। তাদের তত্ত্বাবধানে থাকা প্রতিটি প্রাণী ভারতের আইন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকির আওতায় রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি আরও বলেছে, তাদের কাছে থাকা রিং-টেইলড লেমুরগুলোর সম্পূর্ণ নথিপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনে তারা প্রস্তুত। প্রাণীগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা বা অন্য কোনো বৈজ্ঞানিক যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলে তাতেও তারা স্বাগত জানাবে।
সিআইডির কর্মকর্তা ছুফি উল্লাহ বলেন, লেমুর দুটি পাচারের তথ্য তদন্তে পাওয়া গেলেও বনতারায় সেগুলো রয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত করার মতো প্রমাণ এখনও তাদের হাতে নেই। কারণ, গাজীপুর সাফারি পার্কে থাকা ওই লেমুরগুলোর ডিএনএ প্রোফাইল আগে থেকে সংরক্ষণ করা হয়নি।
তিনি বলেন, গাজীপুর সাফারি পার্কে থাকা লেমুরগুলোর মধ্যে পরে মারা যাওয়া একটি প্রাণীর নমুনা সংরক্ষিত ছিল। সেটি ডিএনএ পরীক্ষার জন্য বন অধিদপ্তরের ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। তবে পরীক্ষার প্রতিবেদন এখনও পাওয়া যায়নি। 

বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক ছানাউল্যা পাটওয়ারী বলেন, তাদের ডিএনএ প্রোফাইল সংগ্রহের সক্ষমতা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সিআইডির সঙ্গে যোগাযোগ করে খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ম্যাকাও, ময়ূরসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির সঙ্গে দুটি রিং-টেইলড লেমুর জব্দ করা হয়। প্রাণীগুলো পরে বন বিভাগের নির্দেশে শ্রীপুরের সাফারি পার্কে পাঠানো হয়। সেখানে থাকা অবস্থায় ওই জোড়া লেমুরের দুটি পুরুষ বাচ্চা জন্ম নেয়। ২০২২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি একটি বাচ্চা মারা যায়। এর পর ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ রাতে সাফারি পার্ক থেকে বাচ্চাসহ তিনটি লেমুর চুরি হয়। পরে ১৮ এপ্রিল রাজধানীর সদরঘাটের শ্যামবাজার ঘাট এলাকা থেকে পরিত্যক্ত খাঁচাবন্দি অবস্থায় একটি বাচ্চা লেমুর উদ্ধার করা হয়। সাফারি পার্কে ফেরত পাঠানোর কয়েক মাস পর সেটিও মারা যায়।

তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের বাসিন্দা নিপেল মাহমুদ সাফারি পার্কে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কাজ করতেন। একই এলাকার বন্যপ্রাণী পাচারকারী হিসেবে পরিচিত জুয়েল মিয়া তার সঙ্গে যোগাযোগ করে লেমুর কেনাবেচার প্রস্তাব দেন। পরে ২৩ মার্চ রাতে জুয়েলসহ অজ্ঞাতনামা একজন সাফারি পার্কে গিয়ে লেমুর তিনটি চুরি করেন। জুয়েল পরে লেমুর তিনটি সাত লাখ টাকায় পাখি ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন তাওসিফের কাছে বিক্রি করেন। তাওসিফ ৯ লাখ টাকায় সেগুলো বাবলু ও শিপলু নামে দুই ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেন। তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, বাবলুর বাড়ি পশ্চিমবঙ্গে এবং শিপলুর বাড়ি মুম্বাইয়ে বলে পরিচয় দেওয়া হয়েছিল। পরে লেমুর দুটি সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করা হয়।

আরও পড়ুন

×