কণ্ঠে নজরুল, আবৃত্তিতে সব্যসাচী
ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৩:০৪
নজরুলের কবিতার তেজ, ছন্দ ও ধ্বনিমাধুর্য শ্রোতার কাছে পৌঁছে দিতে কণ্ঠকে অনন্য শিল্পমাধ্যমে পরিণত করেছিলেন কাজী সব্যসাচী। তাঁর আবৃত্তিতে কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা পেয়েছিল স্বতন্ত্র প্রকাশভঙ্গি। আবৃত্তিশিল্পকে শুধু মঞ্চের পরিবেশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বাংলা একাডেমি আয়োজিত এক সেমিনারে উঠে এসেছে এই শিল্পীর অবদানের নানা দিক।
বুধবার বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে ‘কাজী সব্যসাচী : আধুনিক নজরুল আবৃত্তির প্রাণপুরুষ’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আবৃত্তিশিল্পী নাসিম আহমেদ। আলোচনায় অংশ নেন নজরুলের নাতনি ও সংগীতশিল্পী খিলখিল কাজী এবং আবৃত্তি-গবেষক ও বাচিকশিল্পী নিমাই মণ্ডল।
প্রবন্ধে নাসিম আহমেদ বলেন, স্বল্পায়ু জীবনে কাজী সব্যসাচী আবৃত্তি ও উচ্চারণকে আধুনিক নান্দনিক শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর কণ্ঠ ছিল ভরাট, পৌরুষদীপ্ত ও মেঘগম্ভীর মধুময় ধ্বনির। নজরুলের কবিতা আবৃত্তির জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত হলেও অন্য কবিদের কবিতা পরিবেশনেও তাঁর দক্ষতা ছিল অসাধারণ।
তিনি বলেন, কাজী সব্যসাচী আবৃত্তির পরিসরকে নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। মধ্যবিত্তের ঘর থেকে শুরু করে মাঠে-ময়দানে সাধারণ মানুষের কাছেও এ শিল্পকে পৌঁছে দিয়েছিলেন। আধুনিক আবৃত্তিশিল্পের বিকাশে তাঁর কাজ গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। নজরুলের কবিতার নান্দনিক ধ্বনিমাধুর্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে স্মরণীয়।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, নজরুলের কবিতার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে কাজী সব্যসাচীর আবৃত্তিকে মিলিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলা থেকেই তিনি নজরুলের কবিতা আত্মস্থ করেছিলেন। ফলে কবিতার বৈশিষ্ট্য ও তাঁর আবৃত্তির মধ্যে একটি সৃজনশীল সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।
স্বাগত বক্তব্যে বাংলা একাডেমির সচিব ড. মো. সেলিম রেজা বলেন, নজরুলের কবিতায় বিদ্রোহ, সাম্য, মানবতা, প্রেম, অসাম্প্রদায়িকতা ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষা শক্তিশালীভাবে প্রকাশ পেয়েছে। কবিতার তেজোদীপ্ত ভাষার পাশাপাশি ছন্দ, ধ্বনি ও শব্দের বিন্যাসও আবৃত্তির জন্য উপযোগী। কবিতাকে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আবৃত্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
নানা স্মৃতি তুলে ধরে খিলখিল কাজী বলেন, আবৃত্তিকে ভালোবেসে একজন মানুষ যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেন, কাজী সব্যসাচী তার উদাহরণ। আবৃত্তিকে পেশা হিসেবে গ্রহণের সম্ভাবনাও তিনি তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে দেখিয়ে গেছেন। মানুষের মন জয় করে আবৃত্তির মাধ্যমে সেই অনুভূতি শ্রোতার হৃদয়ে পৌঁছে দিতে পেরেছিলেন তিনি।
- বিষয় :
- সব্যসাচী
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম