সিআইপিজির গোলটেবিল আলোচনা
দ্রব্যমূল্যসহ পাঁচ বিষয়ে অগ্রাধিকারের আহ্বান
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১৯ | আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:১৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
সরকারের আগামী দিনের কার্যক্রমে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানবাধিকার, আইনশৃঙ্খলাসহ পাঁচটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে এই আহ্বান জানানো হয়।
‘সরকারের ৬ মাস: প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও ঘাটতির মূল্যায়ন (প্রেক্ষিত: অর্থনৈতিক-সামাজিক নিরাপত্তা, মানবাধিকার, আইনশৃঙ্খলা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি)’ শীর্ষক বৈঠকটি আয়োজন করে গবেষণাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স (সিআইপিজি)। এতে বক্তারা সরকারের প্রথম ছয় মাসের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি, মানবাধিকার, আইনশৃঙ্খলা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও ঘাটতি নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ যে স্বাধীন, গণতান্ত্রিক, বৈষম্য ও নিপীড়নমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল, সেই আকাঙ্ক্ষা কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে তা এখন গভীরভাবে মূল্যায়নের সময় এসেছে। একটি সরকারের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য ছয় মাস দীর্ঘ সময় না হলেও সরকারের নীতি, অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়নের গতিপথ বোঝার জন্য তা যথেষ্ট।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. আবু আহমেদ বলেন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে কৃষি কার্ড বা ফ্যামিলি কার্ডের মতো উদ্যোগ প্রত্যাশিত সুফল দেবে না। ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ায় ব্যাংকগুলো তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সরকারকে ঋণ দিতে আগ্রহী হচ্ছে; যা বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং মানবাধিকারসংক্রান্ত নতুন আইনি কাঠামোর সমালোচনা করে বলেন, এতে গুমের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষার পরিবর্তে অভিযুক্তর দায়মুক্তির সুযোগ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। র্যাবের পরিবর্তে এসআরবি গঠনকে তিনি খোলস পরিবর্তন হিসেবে অভিহিত করেন।
ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আবদুল বাতেন বিচার বিভাগে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর পরিবর্তে দলীয় প্রভাবযুক্ত সার্চ কমিটির মাধ্যমে বিচারক নিয়োগের সুযোগ থাকলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহরিয়ার কবির অভিযোগ করেন, গুম ও মানবাধিকারসংক্রান্ত আইনের অস্পষ্ট বিধান ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সিআইপিজির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড পিস স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক ড. মিজানুর রহমান। গোলটেবিল থেকে সরকারের আগামী দিনের কার্যক্রমে পাঁচটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানায় সিআইপিজি।
সেগুলো হলো–মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ; মব সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও কঠোর ব্যবস্থা; ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ; যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জুলাই চার্টার ও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সময়াবদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক রোডম্যাপ প্রকাশ।
- বিষয় :
- গোলটেবিল আলোচনা