ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তুরাগে বন্ধুর হাতে যুবক খুন, সন্দেহে ‘পরকীয়া’

তুরাগে বন্ধুর হাতে যুবক খুন, সন্দেহে ‘পরকীয়া’
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২২ | ০৭:১১ | আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২২ | ০৭:১১

রাজধানীর তুরাগের বৃন্দাবন এলাকায় রাসেল আহমেদ (২২) ‘বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের’ জেরে খুন হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণ করছে পুলিশ।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর তুরাগের বৃন্দাবন এলাকার বস্তিতে বন্ধু হৃদয়ের হাতে খুন হন রাসেল।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানিযেছেন, অভিযুক্ত হৃদয় তার স্ত্রীকেও ছুরিকাঘাত করেছেন। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক আছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মঞ্জুর মোরশেদ সমকালকে বলেন, হত্যায় অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। তাকে পাওয়া গেলে হত্যার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে।

ডিএমপির উত্তরা জোনের পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃন্দাবন এলাকার মসজিদ সংলগ্ন বস্তিতে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন রাসেল। তিনি দুয়ারীপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তবে পাস করেছেন কি না তা জানা যায়নি। একই বস্তিতে স্ত্রী আঁখিকে নিয়ে থাকেন হৃদয়। তার স্ত্রীর সঙ্গে রাসেলের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ ছিল তার।

এ নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি হয়। একই কারণে বন্ধুর সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। সর্বশেষ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি নিজের ঘরে স্ত্রী ও বন্ধুকে একসঙ্গে দেখে প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত হন। এর পরপরই তিনি দুজনকে ছুরিকাঘাত করেন।

রাসেলের বাবা সোহরাব হাওলাদার সাংবাদিকদের জানান, ফোন করে তার ছেলেকে নিজের ঘরে ডেকে নেন হৃদয়। সেখানে তাকে এলোপাতারি ছুরিকাঘাত করে বাইরে দিয়ে তালা দিয়ে পালিয়ে যান। পরে রাসেলকে না পেয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেন স্বজনরা। শেষে ওই ঘরের তালা ভেঙে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। 

তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 

তবে তালাবদ্ধ ঘরের দরজা ভেঙে রক্তাক্ত নিথর দেহ উদ্ধারের তথ্য ‘ঠিক নয়’ বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তুরাগ থানার এসআই আরিফ হোসেন সমকালকে বলেন, ‘ঘটনার সময় বিদ্যুৎ ছিল না। প্রতিবেশীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছুরিকাঘাতের খুব অল্প সময় আগে রাসেল সেখানে যান। এর পরপরই হৃদয় সেখানে উপস্থিত হন। ঘটনাটি আসলেই পরকীয়া নাকি অতিরিক্ত সন্দেহের বশে ঘটেছে তা জানার চেষ্টা চলছে। এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

তিনি জানান, রাসেলের গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায়। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড় ছিলেন। তার বাবা পেশায় রাজমিস্ত্রি। তিনি মাঝেমধ্যে তার বাবার সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। আর হৃদয় তার বাবার চায়ের দোকানে সহায়তা করতেন। তার স্ত্রী এসএসসি পরীক্ষার্থী। ছুরিকাহত হওয়ার পর তিনি ঢামেক হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।


আরও পড়ুন

×