বিদেশ যেতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল বিটিএসভক্ত ৩ কিশোরী, উদ্ধার যেভাবে
পাবনা সদর থানা। ছবি: সংগৃহীত
পাবনা অফিস ও কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০০:১৪ | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০০:১৮
স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল পাবনার তিন কিশোরী। উদ্দেশ্য ছিল সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যাওয়া। পরিকল্পনা অনুযায়ী বাসে নাটোর ও রংপুর হয়ে তারা পৌঁছায় কুড়িগ্রামে। কিন্তু সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার পথ হারিয়ে সন্ধ্যার পর কুড়িগ্রাম শহরে আটকা পড়ে তিন বন্ধু। শেষ পর্যন্ত এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর সন্দেহ ও তৎপরতায় তাদের সন্ধান মেলে। পরে পুলিশের সহযোগিতায় নিরাপদে উদ্ধার করা হয় তিন কিশোরীকে।
রোববার সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় তারা। তিনজনই পাবনা সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা এবং বন্ধু। তাদের মধ্যে একজন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী, অপর দুজন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্প্রতি তিন কিশোরীর একজনের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের মনোমালিন্য হয়। এর পর তিন বন্ধু মিলে বাড়ি ছেড়ে অন্য কোথাও যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। টিকটকের বিভিন্ন ভিডিও দেখা এবং বিদেশে যাওয়ার প্রতি আগ্রহ থেকেই তারা দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করে বলে পুলিশ জানিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতদল বিটিএসের প্রতিও তাদের আগ্রহ ছিল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী রোববার সকালে তারা স্কুলের পোশাক পরে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর বাসে করে নাটোর ও রংপুর হয়ে কুড়িগ্রামে পৌঁছে। সেখান থেকে সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু কুড়িগ্রামে পৌঁছানোর পর তারা পথ হারিয়ে ফেলে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে রাত কাটানোর জন্য থাকার জায়গা খুঁজতে থাকে তিন কিশোরী।
একপর্যায়ে তারা কুড়িগ্রাম বাস টার্মিনালসংলগ্ন একটি অপরিচিত এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিল। তাদের আচরণ ও গতিবিধি দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর। তিনি কৌশলে তিন কিশোরীকে নিজের বাসায় নিয়ে যান। পরে বিষয়টি তার স্বামী কুড়িগ্রাম সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাজউদ্দিন আহমেদকে জানান।
স্ত্রীর ফোন পেয়ে এসআই তাজউদ্দিন আহমেদ দ্রুত বাসায় যান। সেখানে তিনি কিশোরীদের সঙ্গে কৌশলে কথা বলে তাদের পরিচয় ও বাড়ির ঠিকানা জানার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাদের কাছ থেকে পাবনার ঠিকানা পাওয়া যায়। এরপর তিনি বিষয়টি কুড়িগ্রাম সদর থানায় জানান এবং পাবনা সদর থানার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
এদিকে তিন কিশোরী বাড়িতে ফিরে না আসায় তাদের পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে পাবনা সদর থানায় পৃথকভাবে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পুলিশ তাদের সন্ধানে কাজ শুরু করে।
কুড়িগ্রাম সদর থানার এসআই তাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, বাস টার্মিনাল এলাকার সরকারি কোয়ার্টারের সামনে তিন কিশোরীকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে তার স্ত্রী সন্দেহ করেন। পরে তাদের বাসায় নিয়ে বিষয়টি তাকে জানানো হয়। তিনি কিশোরীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বাড়ির ঠিকানা নিশ্চিত করেন এবং সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, এটি কুড়িগ্রামের কোনো ঘটনা নয়। পাবনা পুলিশকে আমরা সহযোগিতা করেছি। তিন কিশোরীকে উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম বলেন, তিন কিশোরীর নিখোঁজের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ কাজ শুরু করে। কুড়িগ্রাম সদর থানার এসআই তাজউদ্দিন আহমেদের মাধ্যমে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর কুড়িগ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
পরে সোমবার দুপুরে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে তিন কিশোরীকে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।