শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাপড় আমদানি করে ৯৮ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি
চার প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের প্রমাণ পেল ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটের কার্যালয়
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:৫১ | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:১১
রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা পণ্যের সুরক্ষিত গুদামে (বন্ডেড ওয়্যারহাউস) অভিযান চালিয়ে চার প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯৮ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটের কার্যালয়। বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্য নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহার না করা, রপ্তানি না করা, রেজিস্ট্রারে হিসাবে অসঙ্গতি ও শুল্ক কর ফাঁকিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে। ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেট কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বন্ডের আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধায় বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করে যথাসময়ে পণ্য (ফিনিশড গুডস) তৈরি করে তা বাধ্যতামূলকভাবে বিদেশে রপ্তানির নিয়ম রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় পণ্যের প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়ানো ও রপ্তানি উৎসাহিত করতে সরকার এই সুবিধা দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোন কোন উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান সরকারের ওই সুবিধার অপব্যবহার করে ফায়দা লুটছে।
সূত্র জানায়, বন্ড সুবিধা অপব্যবহারের দায়ে ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেট গত মাসে কয়েক শ' প্রতিষ্ঠানের বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। অভিযানের সময় ওইসব প্রতিষ্ঠানের আমদানি করা কাপড় তাদের নির্ধারিত গুদামে পাওয়া যায়নি। আমদানি করা কাপড়ের একটি অংশ বেআইনিভাবে গুদাম থেকে অপসারণ করা হয়েছে।
তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক ইনটিগ্রা অ্যাপারেলস লিমিটেড, ভ্যালমন্ট ফ্যাশন লিমিটেড, বিএসপি ইন্ডাস্ট্রি (বিডি) প্রাইভেট লিমিটেড ও ট্রাউজার ল্যান্ড বিডি লিমিটেড- এই চার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রায় ৯৮ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পেয়েছে ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটের প্রিভেন্টিভ শাখা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কাস্টমস কর্মকর্তা বলেন, বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানি করা পণ্য নির্ধারিত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, প্রতিষ্ঠানের মজুত ও হিসাবের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি তথ্যের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না- এসব তথ্য গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে। নিয়মিত অভিযান ও তদারকির ফলে রাজস্ব ফাঁকিতে জড়িত আরও প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল সমকালকে বলেন, বন্ড ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বৈধ ও নিয়মিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ আরও সহজ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে হবে। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বার্থ, শিল্পের সক্ষমতা এবং রাজস্ব সুরক্ষাকে সমন্বয় করে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রয়োজন।
কাস্টম বন্ড কমিশনারেটের ঢাকা (উত্তর) প্রিভেন্টিভের যুগ্ম কমিশনার সমকালকে বলেন, বন্ড সুবিধা মূলত রপ্তানিমুখী শিল্পের উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং রপ্তানি কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার জন্য দেওয়া হয়। এই সুবিধার অপব্যবহার করে কেউ যাতে রাজস্ব ফাঁকি দিতে না পারে- সে জন্য নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র জানায়, নিয়মিত অভিযান ও নজরদারির ফলে বন্ড ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানোর পাশাপাশি সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব সুরক্ষা করা সম্ভব হবে। বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধ করা গেলে প্রকৃত রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের এই ব্যবস্থার সুফল আরও কার্যকরভাবে পাবে।