ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে মাদ্রাসার ছাদে বিদ্যুতায়িত হয়ে পাঁচ শিশু দগ্ধ

জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি

নারায়ণগঞ্জে মাদ্রাসার ছাদে বিদ্যুতায়িত হয়ে পাঁচ শিশু দগ্ধ
×

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৫০ | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৫১

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশিপুর হাজিপাড়ায় একটি মাদ্রাসার ছাদে গাছে পানি দিতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে পাঁচ শিশু শিক্ষার্থী দগ্ধ হয়েছে। আজ শনিবার সন্ধ্যায় মাহেলা খাতুন মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। দগ্ধদের উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। 

দগ্ধ শিক্ষার্থীরা হলো—পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী জিদনি (১৪) ও সুমাইয়া (১৩), তৃতীয় শ্রেণির আসিয়া (১২) ও আতিয়া (১২) এবং দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী লামিয়া (১০)। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। যে ভবনে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি তিনতলা। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় মহিলা মাদ্রাসা। এই ভবনের ওপর দিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের একটি বিদ্যুতের লাইন গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুব আলম বলেন, কাশিপুর হাজীপাড়ার মাহেলা খাতুন মহিলা মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী তিনতলা ভবনের ছাদে ওঠে। মাদ্রাসা ভবনের ছাদে ছাদবাগান রয়েছে। তারা ছাদবাগানের গাছে পানি দিচ্ছিল। ছাদবাগানের একটি টবে আখগাছ ছিল। আখগাছে পানি দেওয়ার সময় হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। বিদ্যুতের তারে তারে লেগে আগুনের ফুলকি তৈরি হয়। এ সময় ছাদে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঁচজন বিদ্যুতে দগ্ধ হয়।

ঘটনার পরপরই মাদ্রাসার শিক্ষক ও আশপাশের লোকজন তাদের ছাদ থেকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নিয়ে যান।

জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. মোরশেদ উল আলম খান জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাদ্রাসা থেকে পাঁচজন দগ্ধ রোগীকে নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, আগুনে পাঁচ ছাত্রীর মধ্যে চারজনেরই শরীর ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়া ফতুল্লা বিসিক ফায়ার অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আব্দুল হালিম বলেন, মাদ্রাসার ছাদে ছাত্রীরা খেলা করতে যায়। ছাদের ওপর কাঁচা পাতাযুক্ত আখগাছ পেয়েছি। ধারণা করছি, এই আখ ৩৩ হাজার ভোল্টের তারে গিয়ে লাগলে স্পার্ক হয়। ওই স্পার্ক থেকে আগুন ধরে যায়। এতে পাঁচ শিক্ষার্থী দগ্ধ হয়। এ ছাড়া ওই ভবনের নিচতলায় (গ্রাউন্ড ফ্লোর) গ্যাসের রাইজার ছিল। ওই রাইজারে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, ছাদে বিদ্যুতের স্পার্কের সময়ে লিকেজ থেকে গ্যাসের রাইজারে বিস্ফোরণ ঘটে। তবে নিচতলায় তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

ঘটনা সম্পর্কে মাদ্রাসার মালিক আব্দুর রহমান কাসেমী বলেন, ৩৩ হাজার ভোল্টের তার থেকে আমার ভবন নিরাপদ দূরত্বে রয়েছে। বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন এসে অনুমতি (পারমিশন) দেওয়ার পরেই এটি নির্মাণ করা হয়েছে। মাদ্রাসার ছাত্রীরা বর্তমানে ঢাকায় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন।

আরও পড়ুন

×