সাক্ষাৎকার
অভিনয়ের জায়গাটা আরও প্রসারিত করা উচিত: শান্তা
শান্তা জাহান। ছবি: ফেসবুক
বুলবুল ফাহিম
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:৪৪ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:৪৫
শান্তা জাহান। মডেল, অভিনেত্রী ও উপস্থাপক। নিয়মিত উপস্থাপনা করলেও অভিনয়ের প্রতি তাঁর টান কমেনি। প্রায় ১১ বছর পর সম্প্রতি অভিনয়ে ফিরেছেন তিনি। নির্মাতা মাবরুর রশীদ বান্নাহর ‘অচেনা পথের বাঁকে’ নাটকে অভিনয় করেছেন। নাটক, ওটিটি, সিনেমা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন বুলবুল ফাহিম
প্রায় ১১ বছর পর অভিনয়ে ফিরলেন। বিরতির পর ফেরার গল্পটা কেমন?
অনেকদিন পর আবার কাজ করলাম। চেনা আঙিনায় ফেরার আনন্দ অন্যরকম। দীর্ঘ বিরতির পর নাটকে অভিনয় করা হলো। নাটকটির নাম ‘অচেনা পথের বাঁকে’। এটি মাবরুর রশীদ বান্নাহর কাজ। আমার সঙ্গে আকিব বিন প্রান্ত অভিনয় করেছে। নতুন প্রজন্মের একজন শিল্পী।
এখানে আপনার চরিত্রটি কেমন?
আমার চরিত্রটি একজন শিক্ষকের। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে যে এক ধরনের সম্পর্ক থাকে, অনেক সময় সেটিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। শিক্ষার্থী শিক্ষকের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে। সেখান থেকে গল্পটি এগিয়েছে। আমার চরিত্রটি বুঝতে পারে যে ছেলেটি তার প্রতি খুব সিরিয়াস হয়ে যাচ্ছে। তা ছাড়া সে নিজেও জীবনের একটা পর্যায়ে আছে। তার স্বামীর সঙ্গে হয়তো ভালো সম্পর্ক নেই; কিন্তু ভবিষ্যতে কী হবে, সেটাও সে জানে না।

এতদিন পর মনের মতো গল্প পাওয়া কি কঠিন হয়েছে?
আসলে বেশির ভাগ গল্প এমন আসে–কোনো বোনের চরিত্র, কারও ‘সিনিয়র ক্রাশ’ অথবা কারও স্ত্রী; যার সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে যাচ্ছে। এগুলো খুব পরিচিত গল্প। আমি একটু ভিন্নভাবে ভাবতে চাই। তাই মনের মতো গল্পের জন্য অপেক্ষা করি।
তাহলে নিয়মিত নাটকে ফিরছেন কি?
নাটক করব, তবে মাঝে মাঝে। আমার ধ্যান-জ্ঞান উপস্থাপনা। এটি আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দিন শেষে এ জায়গাতে আমি সবচেয়ে স্বস্তি পাই এবং আত্মতৃপ্তিও এখানে।
এতদিন পর নাটকে কাজ করার পেছনে বিশেষ কোনো কারণ ছিল?
বিষয়টা বেশ মজার। এতদিন অনেক নাটকের প্রস্তাব পেয়েছি। কিন্তু আমার উপস্থাপনার ইভেন্টের তারিখের সঙ্গে প্রায়ই নাটকের শুটিংয়ের তারিখ মিলে যেত। ফলে কাজ করা হয়ে উঠত না। বান্নাহ ভাই এর আগেও চার-পাঁচটি নাটকের জন্য বলেছিলেন। তাঁকে আমি আগেই বলে রেখেছিলাম, ধারাবাহিকে কাজ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। একক নাটক হলে করতে পারি, সেটাও যদি আমার সময়ের সঙ্গে মিলে যায়। এবার সেটাই হয়েছে। দুদিন কাজ করার কথা ছিল, কিন্তু এক দিন কাজ করার পর আমার আরেকটি ইভেন্ট চলে আসে।

তাহলে অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ কি এখনও আগের মতো আছে?
অবশ্যই। অভিনয় করতে আমি ভালোবাসি। নিয়মিত অভিনয় করি না বলে কতটা ভালো করি, সেটা জানি না। তবে অভিনয় সব সময় আমার ভালো লাগার একটি জায়গা ছিল।
ওটিটিতে কাজের কোনো পরিকল্পনা আছে?
ওটিটি নিয়ে কথা হয়েছে। আশা করছি একটু ভিন্ন ধরনের চরিত্র নিয়ে কাজ হবে। সব ঠিকঠাক থাকলে হয়তো কাজটি করব। গল্পটি সম্পূর্ণ নারীকেন্দ্রিক। আমি সব সময় বলি, প্রেম-ভালোবাসা বা পারিবারিক গল্পের বাইরেও নারীদের জীবনে সংগ্রাম, অনেক গল্প আছে। সেগুলো নিয়েও কাজ করা উচিত।
অভিনয়ের ক্ষেত্রটি আরও বড় করার প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন?
অবশ্যই। অভিনয়ের জায়গা আরও প্রসারিত করা উচিত। কয়েকজন শিল্পীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আরও অনেককে কাজের সুযোগ দেওয়া দরকার। আমাদের অনেক উপস্থাপক আছেন, নৃত্যশিল্পী আছেন–যারা ভালো কাজ করছেন। তাদেরও সুযোগ দেওয়া উচিত। প্রথম এক-দুটি কাজ হয়তো প্রত্যাশিত মানের না-ও হতে পারে। কিন্তু সেখান থেকেই তো পরবর্তী সময়ে অনেক ভালো শিল্পী ও তারকা বের হয়ে আসবেন।

কাজের ক্ষেত্রে ‘ভিউ’কে কতটা গুরুত্ব দেন?
ভিউকে আমি খুব একটা গুরুত্ব দিই না। ধরুন, বরিশালের গালি দেওয়া ভাষার কোনো ভিডিও মিলিয়ন ভিউ পেল। তার মানে ওই ধরনের ভাষা যারা পছন্দ করেন, তারা সেটি দেখতে পছন্দ করেছেন। কিন্তু আমি একটু ভিন্ন ধরনের দর্শকের জন্য কাজ করতে চাই।
তাহলে একজন শিল্পীর কাজের মূল্যায়ন কীভাবে হওয়া উচিত?
আমার মনে হয়, গ্রহণযোগ্যতা ও ধারাবাহিকতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ১৫ বছর ধরে কাজ করছি। হয়তো আমার অনেক কাজ মানুষ দেখেনি। তারপরও দিন শেষে একটা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। এর কারণ হচ্ছে কনসিস্টেন্সি। আপনার কাজের মান অনেকটা নির্ভর করবে আপনার ধারাবাহিকতার ওপর এবং মানুষ আপনাকে গ্রহণ করছে কিনা, সেটার ওপর। ভিউয়ের সংখ্যা দিয়ে সবকিছু বিচার করা যায় না।