ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির সমর্থক হয়েও ছেলের শ্বশুরের বহিষ্কারে আপত্তি লেপেজের
রিপাবলিকান নেতা পল লেপেজ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:৩১ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:৩৮
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক মেইন গভর্নর ও রিপাবলিকান নেতা পল লেপেজ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির সমর্থক। তবে এবার নিজের ছেলের শ্বশুরকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন তিনি। তার দাবি, ওই স্বজন যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস করছেন এবং তার ওয়ার্ক পারমিটও রয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। লেপেজ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের একটি আসনের জন্য রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার নির্বাচনী প্রচারে সীমান্ত ও অভিবাসননীতি অন্যতম প্রধান বিষয়।
লেপেজ বলেন, ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তার ছেলের শ্বশুরকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। এ ঘটনায় তিনি কর্মকর্তাদের কাছে ওই ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
লেপেজ বলেন, এটা ঠিক নয়। তার ওয়ার্ক পারমিট আছে। তার এখানে থাকার অনুমতি থাকা উচিত। ওই স্বজনকে বহিষ্কারের কারণ হিসেবে লেপেজ বলেন, তিনি এমন একটি দেশ থেকে এসেছেন, যা ওয়াশিংটনের ‘কিছু মানুষের পছন্দ নয়’।
মেইনে সাম্প্রতিক সময়ে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগের তৎপরতা বেড়েছে। গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন অঙ্গরাজ্যটিতে অতিরিক্ত ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এজেন্ট পাঠায়। এর কয়েক মাস পর জুলাইয়ে বিদরফোর্ডে আইসের এক এজেন্টের গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তি ছিলেন ২৫ বছর বয়সী কলম্বিয়ার নাগরিক জোহান সেবাস্তিয়ান দুরান গুয়েরেরো। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) জানিয়েছিল, একটি লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান চলাকালে দুরান গুয়েরো গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে এজেন্টরা গুলি চালান।
ফেডারেল কর্মকর্তাদের দাবি, কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হওয়ার সময় ওই গাড়িচালক জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছিলেন। তবে আইনপ্রণেতা ও অভিবাসন অধিকারকর্মীরা এ বক্তব্যের বিরোধিতা করেন। তাদের দাবি, দুরান গুয়েরোর বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছিল এবং যাকে গ্রেপ্তারের পরোয়ানা ছিল, তিনি আসলে দুরান ছিলেন না।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও স্থানীয় নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, গুলি ছোড়ার আগে ফেডারেল কর্মকর্তারা গাড়িটিকে ঘিরে ফেলেছিলেন। এ ঘটনায় দক্ষিণ মেইনের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ হয়। একই সঙ্গে আইসের গুলিতে প্রাণহানির ঘটনায় স্বাধীন ফেডারেল তদন্তের দাবিও ওঠে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের হিসাব অনুযায়ী, দুরান গুয়েরো নিহত হওয়ার ছয় দিনেরও কম সময় আগে হিউস্টনে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে লোরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো নামের আরেক ব্যক্তি নিহত হন। সংবাদপত্রটির তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের বহিষ্কার অভিযান ঘিরে ফেডারেল কর্মকর্তাদের গুলিতে এ পর্যন্ত ২৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জন নিহত হয়েছেন, যাদের তিনজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
এসব ঘটনার অধিকাংশেই গাড়ির ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে ফেডারেল এজেন্টরা গুলি চালিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, গাড়ির ভেতরে গুলি চালানো সাধারণ প্রটোকলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ফেডারেল নিয়ম অনুযায়ী, কারও মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার তাৎক্ষণিক আশঙ্কা থাকলেই কেবল প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের অনুমতি রয়েছে।
তবে সরকার একাধিক গাড়িচালকের বিরুদ্ধে ফেডারেল কর্মকর্তাদের ওপর হামলার অভিযোগ এনেছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের হিসাবে, এ ধরনের গুলির ঘটনায় অভিযুক্ত ১৩ জনের মধ্যে সাতজনের বিরুদ্ধে করা মামলা পরে আদালতে খারিজ হয়েছে।
এদিকে পল লেপেজ তার রাজনৈতিক জীবনে কঠোর আইন প্রয়োগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। মেইনের স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সমন্বিতভাবে কাজ করার পক্ষেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে সমর্থন দিয়ে আসছেন।