এক মাস পর ভোট, জাতিসংঘে এটাই কি নেতানিয়াহুর শেষ ভাষণ?
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে ভাষণ শেষে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর। ছবি: এএফপি
টাইমস অব ইসরায়েল
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:২৮ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:৫২
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দিতে বৃহস্পতিবার মঞ্চে উঠবেন। তিনি এর আগে ১৪ বার এই মঞ্চে পা রেখেছেন। এবার সম্ভবত শেষবারের মতো ভাষণ দেবেন।
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নির্বাচন। এর প্রায় এক মাস আগে নেতানিয়াহুর জন্য ভাষণটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার গঠনের জন্য নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোটকে ৬১টি আসন পেতে হবে। কিন্তু হিব্রু ভাষার গণমাধ্যম ‘জমান ইস্রায়েল’ এর জরিপ দেখাচ্ছে, জোটটি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক পিছিয়ে আছে।
ভোটের আগে জনমত পরিবর্তনের জন্য নেতানিয়াহুর সামনে খুব বেশি সুযোগ নেই। তাই আবারও আলোচনায় আসার জন্য জাতিসংঘের মঞ্চটি তাঁর কাছে বিশেষ হয়ে উঠেছে। তিনি জানেন, বিশ্বনেতাদের সামনে ভাষণ দিলেও ইসরায়েলি ভোটাররাই মূল শ্রোতা। যারা টেলিভিশনের পর্দায় ভাষণটি দেখবেন কিংবা পত্রিকার পাতায় নজর রাখবেন। তাই ভাষণে আলাদা জায়গা করে নিতে পারে জাতীয় নিরাপত্তার মতো ইস্যুগুলো।
নিউইয়র্ক নেমেসিস: মামদানিকে আক্রমণ?
শহরটিতে ইতোমধ্যে নেতানিয়াহুর একজন কার্যকর প্রতিপক্ষ তৈরি হয়েছে। তিনি হলেন সিটি মেয়র জোহরান মামদানি। যিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেপ্তারের হুমকির পাশাপাশি গণহত্যায় অভিযুক্ত করেছেন।
গত মঙ্গলবার মামদানির তীব্র সমালোচনা করে একটি ভিডিও বার্তা দেন নেতানিয়াহু। বলেন, ‘মিস্টার মামদানি, আপনার লজ্জা হওয়া উচিত। আমাদের জনগণের হত্যাকারী হামাসকে সমর্থন দেওয়ার জন্য আপনার লজ্জা হওয়া উচিত। নিউইয়র্কের ইহুদিদের বিরুদ্ধে দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার জন্যও লজ্জা পাওয়া উচিত।’
একই ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি জাতিসংঘে আসছি। সেখানে আমাদের বীর সেনাদের সম্পর্কে সত্য বলব। আপনার সম্পর্কেও সত্য তুলে ধরবো।’ ইসরায়েলে মামদানি ব্যাপক অজনপ্রিয়। ভাষণে তাঁর মতো একজন প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করার চেয়ে নেতানিয়াহুর সামনে হয়তো আরও বেশি কিছু করার লক্ষ্য থাকবে।
ইসরায়েলিদের নিরাপত্তার বার্তা দেবেন?
নির্বাচনের আগে আবারও আলোচনায় এসেছে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা। ফলে নেতানিয়াহুকে বোঝাতে হবে যে, আগামী চার বছর তিনিই পারবেন ইসরায়েলিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। তাই ভাষণে গাজা উপত্যকার ৬০ শতাংশ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, হামাসকে নিরস্ত্র করা কিংবা লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার প্রসঙ্গ উঠতে পারে।
তবে নেতানিয়াহুর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে ইরান যুদ্ধের অসন্তোষজনক ফলাফলকেও বিজয় হিসেবে তুলে ধরা। কারণ, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরান এখনো ছাড় দেওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। চ্যানেল-১২ এর তথ্য অনুযায়ী, ভাষণে নেতানিয়াহু সম্ভবত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করবেন।
তেল আবিবের অন্যতম সহযোগী ওয়াশিংটন, বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নিজেও মধ্যবর্তী নির্বাচনের চাপে আছেন। বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ এরইমধ্যে ইরানি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। গত মঙ্গলবার জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্পও নির্বাচনের পর তেহরানের সঙ্গে চুক্তির আশা প্রকাশ করেন।
ইরান বারবার বলেছে, তারা পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা করতে রাজি না। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ট্রাম্প যদি এই শর্ত মেনে নেওয়ার মতো অবস্থানে থাকেন, তাহলে চুক্তি হলেও হতে পারে।
ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক হচ্ছে না
কয়েকদিন আগে জোহরান মামদানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যেখানে দুজনকে বেশ আন্তরিক দেখা গেছে। কিন্তু ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে গেলেও সম্ভবত তাঁর সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠক হচ্ছে না। এ নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা নেই। ইরান, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে এবং গাজায় ইসরায়েলের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে আলোচনা করতে এই বৈঠকটি নেতানিয়াহুর জন্য জরুরি ছিল।
বিগত বছরগুলোতে জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার আগে ও পরে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। এবার পশ্চিমা নেতারাও কিছু ক্ষেত্রে ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান জানান দিয়েছেন। নেতানিয়াহুর সফরসূচিতেও বৈঠকের কোনো বিষয় নেই। তিনি ভাষণের ঠিক আগে নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন এবং শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে ফেরার ফ্লাইট ধরবেন।
এমন একটি সফর শেষে ইসরায়েলে ফিরে ভোটারদের সামনে ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা তুলে ধরার জন্য নেতানিয়াহুর হাতে থাকবে মাত্র চার সপ্তাহ। তাতে জনমতে বড় পরিবর্তন না এলে ইসরায়েলিরা হয়তো নতুন নেতৃত্ব পাবে।