ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অসহযোগিতার অভিযোগ হেমিংয়ের

অসহযোগিতার অভিযোগ হেমিংয়ের
×

টনি হেমিং

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬ | ১০:৫৮

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের প্রধান কিউরেটর বদিউল আলম খোকনের সঙ্গে টানাপোড়েন চলছে হেড অব টার্ফ ম্যানেজমেন্ট টনি হেমিংয়ের। খোকনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ এই অস্ট্রেলিয়ানের। একটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) গ্রাউন্ডস বিভাগে খোকনের বিরুদ্ধে নালিশও করেছেন তিনি। তবে টনি ও খোকনের বিবাদকে মনোমালিন্য হিসেবে দেখছেন গ্রাউন্ডস বিভাগের সদস্য সচিব মাজহার উদ্দিন। তিনি সমকালকে বলেন, ‘কিউরেটর ও মাঠকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া আছে টনিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার। একসঙ্গে কাজ করতে গেলে কখনও কখনও মনোমালিন্য থেকে অনুযোগ করা অস্বাভাবিক কিছু না।’

বিসিবির একটি সূত্রে জানায়, টনির অভিযোগ হলো– তাঁকে না জানিয়ে ক্রিকেটারদের অনুশীলন করতে দেওয়া হয় মিরপুরে সেন্টার উইকেটে। তাঁর সামনে মাঠকর্মীদের সঙ্গে বাংলায় কথা বলেন খোকন! (টনি আশা করেন তার সামনে যেন ইংলিশেই বুঝিয়ে দেওয়া হয় মাঠকর্মীদের)। শেরেবাংলার প্রতিটি দেখভাল করতে হয় তাঁকেই। অভিজ্ঞ কিউরেটর হওয়ার পরও নিজেকে আপগ্রেড করতে চান না খোকন। 

দেশের সব ভেন্যুতে আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টিং উইকেট গড়ে তোলা, বিসিবির বিদ্যমান কিউরেটরদের প্রশিক্ষিত করা এবং নতুন কিউরেটর তৈরি করার জন্য টনিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে টার্ফ ম্যানেজমেন্ট প্রধান হিসেবে। তিনি সে কাজ ভালোভাবে করছেন বলে মনে করে গ্রাউন্ডস বিভাগ। আন্তর্জাতিক সিরিজ ও ঘরোয়া লিগের উইকেট নিয়ে আগের মতো অভিযোগ নেই তারকা ক্রিকেটারদের। টনি দায়িত্ব নেওয়ার পর এই বছর মিরপুর, সিলেট ও চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত প্রতিটি আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলা হয়েছে ভালো উইকেটে। তাঁর নির্দেশনা অনুসরণ করেই উইকেটগুলো প্রস্তুত করেছিলেন কিউরেটররা। তাই খোকনের বিরুদ্ধে হঠাৎ অসহযোগিতার অভিযোগ নিয়ে জন্ম দিয়েছে প্রশ্নের। 

টনির এই অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে গ্রাউন্ডস কমিটির সদস্য সচিব বলেন, ‘টনির নির্দেশ মেনে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া আছে সবাইকে। আমরা কোথাও সমস্যা দেখতে পেলে ঠিক করে ফেলি। খোকন ভাই আর টনির মধ্যে দূরত্বও থাকবে না, আশা করি।’ 

অভিযোগগুলো সম্পর্কে কিউরেটর খোকনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘মিরপুরের প্রধান কিউরেটর আমি। টনি হেড অব টার্ফ ম্যানেজমেন্ট, পুরো দেশের দায়িত্বে। প্রধান কিউরেটর হিসেবে আমার তো কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া ও নির্দেশনা দেওয়ার এখতিয়ার থাকে। আন্তর্জাতিক ম্যাচের উইকেট বানাই আমি। শেষ সময়ে এসে পরখ করে দেখেন তিনি। টনি মাঠেই আসেন বেলা ১১টায়, চলে যান বিকেল ৪টায়। আমি সকাল ৭টায় আসি, সন্ধ্যা ৬টায় বের হই। সরকারি ছুটির দিনেও আসেন না তিনি। বৃহস্পতিবার ২টায় চলে যান। আমি তো ঘড়ি ধরে ৮ ঘণ্টা কাজ করি না।’

সেন্টার উইকেটে অনুশীলন করতে দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘সেন্টার উইকেটে কোনো প্র্যাকটিস হবে না, প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলা যাবে না, ঘরোয়া লিগের ম্যাচ হবে না। এই যে খেলা হয়, অনুশীলন হয়– এ জন্য আমাকে দায়ী করেন। আমি তাঁকে বলেছি, বিষয়টি নিয়ে বোর্ডের সঙ্গে কথা বলতে। কারণ সিদ্ধান্তগুলো আসে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে। সূচি যেভাবে দেওয়া হয়, সেটি বাস্তবায়ন করি আমি। এটা তাঁর পছন্দ না।’ মাঠকর্মীদের সঙ্গে বাংলায় কথা বলা নিয়ে টনির আপত্তি থাকলেও উপায় নেই খোকনের। কারণ, অস্ট্রেলিয়ান ইংলিশ বোঝার মতো মাঠকর্মী একজনও নেই দেশে। মাঠ ব্যবহারে টনির অনুযোগ নিয়ে গ্রাউন্ডস বিভাগের সদস্য সচিব জানান, বোর্ডের নির্দেশনা দেওয়া হয় মেইলে। টনিসহ সব কিউরেটরকে সিসিতে রাখা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আইসিসির সাবেক এই কিউরেটর নানা কারণেই হতাশ। বিসিবি একাডেমি মাঠ নতুনভাবে গড়ে তুলতে টনি যে বাজেট জমা দিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন করা বোর্ডের পক্ষে সম্ভব না। এই ইস্যুগুলো নিয়ে জানতে চেয়ে টনিকে ফোন করা হলে বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি তিনি। বিসিবির গ্রাউন্ডস বিভাগের ন্যাশনাল ম্যানেজার আব্দুল বাতেনকে একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

×