৪ দিন পরও স্বাভাবিক হয়নি রূপপুরের বিদ্যুৎ-ইন্টারনেট, তদন্ত কমিটি গঠন
ছবি: সমকাল
এবিএম ফজলুর রহমান, পাবনা
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৪১
অগ্নিকাণ্ডের চার দিন পরও স্বাভাবিক হয়নি পাবনার ঈশ্বরদীর নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বিএইসি) পাইওনিয়ার বেজের বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও পানি সরবরাহ। আগুনে অভ্যন্তরীণ সার্ভার ও আইটি সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে বিভিন্ন দপ্তরের দাপ্তরিক কার্যক্রম। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও পানি সংকটে দৈনন্দিন কাজেও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে প্রকল্পের অভ্যন্তরে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে কাকে দিয়ে বা কত সদস্যবিশিষ্ট তা জানা যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৬ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে পাইওনিয়ার বেজ ভবনটি বন্ধ রয়েছে। ভবনটিসহ কয়েকটি স্থাপনায় এখনো বিদ্যুৎ, পানি ও ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি চালু হয়নি। এতে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিসের কাজ, ওয়াশরুম ব্যবহারসহ দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে সমস্যায় পড়ছেন।
তথ্য মতে, বর্তমানে পাইওনিয়ার বেজ, ক্যান্টিন, কাস্টমস ভবন ও বিএইসির মসজিদে বিদ্যুৎ সরবরাহ নেই। অন্যদিকে পাইওনিয়ার বেজ, কাস্টমস বিল্ডিং, ১.৬ বিল্ডিং, ট্রেনিং সেন্টার ও মেডিকেল সেন্টারে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। শুধু বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট নয়; পানি সরবরাহ নিয়েও তৈরি হয়েছে সংকট। পাইওনিয়ার বেজ, কাস্টমস ভবন ও ক্যান্টিনে পানি এবং ওয়াশরুমের পানির সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মসজিদে পানির ব্যবস্থা করা হলেও বিদ্যুৎ না থাকায় নামাজ আদায়েও ভোগান্তিতে পড়ছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। অগ্নিকাণ্ডের পর বিদ্যুৎ সংকটে দুইদিন ক্যান্টিনে রান্না বন্ধ ছিল। ফলে প্রকল্পে কর্মরত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বাইরে হোটেলে গিয়ে খাবার খেতে হয়েছে। বুধবার বিকেলে ক্যান্টিনে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হওয়ায় সেখানে আবার খাবার প্রস্তুত করা সম্ভব হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, বিদ্যুৎ, পানি ও ইন্টারনেট না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। দুই দিন ক্যান্টিনে খাবার ছিল না। বাইরে হোটেলে গিয়ে খেতে হয়েছে। এখন ক্যান্টিনে বিদ্যুৎ এসেছে। অন্যান্য স্থানেও দ্রুত সেবা স্বাভাবিক করা প্রয়োজন।
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার আবুল হাশেম বলেন, ৬ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডে অভ্যন্তরীণ সার্ভার ও ইন্টারনেট সার্ভারের কিছু যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে একটি স্পিট-টাইপ এসির ইনডোর ইউনিটের বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাইট অফিসের ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস বলেন, আগুনে কিছু নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রয়োজনীয় নথির ব্যাকআপ কপি সংরক্ষিত রয়েছে। তবে সার্ভার স্টেশনে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হওয়ায় অভ্যন্তরীণ ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হচ্ছে। সেবা স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর প্রকল্পের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এর আগে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শনের সময়ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।
তবে বুধবার রাতে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (তথ্য) ও প্রকল্পের ফোকাল পয়েন্ট সৈকত আহমেদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল স্থাপনার বাইরে থাকা একটি অস্থায়ী ভবনে সীমাবদ্ধ ছিল। এতে প্রকল্পের নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রমে কোনো প্রভাব পড়েনি এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অগ্নিকাণ্ডে অস্থায়ী ভবনের দুটি কক্ষের আসবাবপত্র, নথিপত্র, আইটি ও যোগাযোগ সরঞ্জাম আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথির ব্যাকআপ থাকায় কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত কমিটি কাজ করছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম মঈনুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল কেটে দেন। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
- বিষয় :
- পাবনা