‘ভাঙতে থাকলে মুছে যাবে গ্রাম’
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় মধুমতীর ভাঙন থেকে রক্ষার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনের একাংশ। গতকাল বৃহস্পতিবার চর খোলাবাড়িয়া এলাকায় সমকাল
আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:০৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
মধুমতী নদীর ভাঙন থেকে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার চর খোলাবাড়িয়া গ্রাম রক্ষার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। গতকাল বৃহস্পতিবার গ্রামের পাশে বয়ে যাওয়া নদীর তীরে আয়োজিত মানববন্ধনে এমন দাবি তোলেন তারা। বক্তারা জানান, এরমধ্যে ভাঙনে দুইটি মসজিদ, প্রায় ৫০০ একর জমি, ১২০-১৩০টি বসতঘরসহ বেশ কিছু স্থাপনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
চর খোলাবাড়িয়া গ্রামটি উপজেলার বুড়াইচ ইউনিয়নে পড়েছে। এই গ্রামের কৃষক খোকন মিয়া চলতি বছর নদীভাঙনে পাঁচ একর ফসলি জমি ও চারটি বসতঘর হারিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, এখন অন্যের জমিতে কোনোমতে ঘর তুলে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
একই গ্রামের কৃষক আব্দুস ছত্তার মিয়ার দুই একর ফসলি জমি ও তিনটি ঘর গেছে নদীতে। একইভাবে ফসলি জমি ও বসতঘর হারিয়েছেন বলে জানান অন্তত ২০ জন কৃষক। তারা বলছেন, বাপ-দাদার ভিটে ছাড়তে চান না কেউ। এ কারণে মধুমতীর তীরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
সাম্প্রতিক ভাঙনে নদী এগিয়ে আসায় ঝুঁকিতে পড়েছে এনডিসি আল হেরা দাখিল মাদ্রাসা, দিগনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর খোলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি সাব-পোস্ট অফিস, একটি এতিমখানা, ছয়টি মসজিদ, ফসলি জমি, বসতঘর। স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বর্ষায় নদীতে ভাঙন দেখা দিলে পাউবো মাদ্রাসার সামনে জিও ব্যাগ ফেলেছিল। কিন্তু তা চাহিদার তুলনায় ছিল কম। চলতি মৌসুমে জিও ব্যাগসহ বেশ কিছু জায়গায় নদীতে তলিয়ে গেছে।
বুড়াইচ ইউপি চেয়ারমান আব্দুল ওহাব পান্নু বলেন, এই ইউনিয়নের দিগনগর, চর খোলাবাড়িয়া ও চর মাকড়াইল গ্রাম তিনটি নদীতে বিলীন হতে বসেছে। বিষয়টি ইউএনওকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। তারা এর স্থায়ী সমাধান চান।
ফরিদপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসেন ভাঙনকবলিত জায়গায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলার আশ্বাস দেন। তিনি স্বীকার করেন, এখানে স্থায়ী বাঁধ করতে সময় লাগবে।
- বিষয় :
- নদী