ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পানিতে ডুবেছে ১৩ গ্রাম, সাত স্কুলে বন্ধ পাঠদান

পানিতে ডুবেছে ১৩ গ্রাম, সাত স্কুলে বন্ধ পাঠদান
×

চারদিকে পানি থই থই। নৌকা ছাড়া চলাচলের উপায় নেই। সোমবার রাজশাহীর বাঘা উপজেলার নীচ পলাশী এলাকা থেকে তোলা সমকাল

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৫১ | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:৩২

| প্রিন্ট সংস্করণ

চারদিকে শুধু পানি। মাঠ, পথঘাট তলিয়ে গেছে। নৌকা ছাড়া এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ারও উপায় নেই। বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়ন এখন যেন বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপ। থমকে গেছে স্বাভাবিক জীবন। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সাপ ও পোকামাকড়ের উপদ্রব। রাত নামলেই ঘরের মাচায় ঢুকে পড়া সাপের আতঙ্কে ঘুম হারাম মানুষের।

বন্যার পানির সঙ্গে বেড়েছে সাপ ও অন্যান্য পোকামাকড়ের উপদ্রব। অনেক পরিবার ঘরের ভেতর মাচা বানিয়ে কোনো রকমে দিন-রাত পার করছে। বিশেষ করে রাত হলে বাড়ছে আতঙ্ক। কখন ঘরের মাচা বেয়ে সাপ উঠে আসে-এই ভয়ে অনেকের ঘুম নেই। এরই মধ্যে সাপের কামড়ে প্রাণ গেছে বীথি নামে ২৫ বছর বয়সী এক নারীর।  

চকরাজাপুর ইউনিয়নে মোট ১৫টি গ্রাম। এর মধ্যে ১৩টি গ্রাম পানিতে ডুবে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কেউ ঘরের মাচায় আশ্রয় নিয়েছেন, কেউ গবাদি পশু নিয়ে ছুটেছেন তুলনামূলক উঁচু জায়গায়।
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জগলু শিকদার বলেন, পানি না কমা পর্যন্ত চকরাজাপুরের মানুষের দুর্ভোগ কমার কোনো লক্ষণ নেই। তবে গত সোমবার থেকে পানি বাড়েনি বলে জানান তিনি।
বন্যার প্রভাব পড়েছে শিক্ষাজীবনেও। চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ছয়টির পাঠদান বন্ধ রয়েছে। কোনো বিদ্যালয় নদীভাঙনে সরিয়ে নিতে হয়েছে, কোনোটি পরিণত হয়েছে বন্যার্তদের আশ্রয়কেন্দ্রে। আবার কোনো বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে যাওয়ায় পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না।

প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মামুনুর রহমান জানান, নদীভাঙনের কারণে চৌমাদিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আতারপাড়া ও ফতেপুর পলাশী প্রাথমিক বিদ্যালয় বর্তমানে বন্যার্তদের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পশ্চিম চর কালীদাসখালী, লক্ষ্মীনগর ও চর কালীদাসখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি ঢুকে যাওয়ায় ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বন্ধ রয়েছে চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঠদানও। ফলে ইউনিয়নের মাত্র তিনটি বিদ্যালয়ে কোনোভাবে পাঠদান চলছে।

বন্যার পানিতে শুধু ঘরবাড়ি, স্কুল নয়, তলিয়ে গেছে মানুষের কর্মসংস্থানের প্রধান জায়গা–ফসলের মাঠও। ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুরেরা। কৃষিকাজ বন্ধ থাকায় আয় নেই। অনেক পরিবারের চুলায় নিয়মিত হাঁড়ি উঠছে না। 
৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য কালিদাসখালী গ্রামের সহিদুল ইসলাম বলেন, এ বছর সরকারি-বেসরকারি কোনো সংস্থা থেকে তেমন ত্রাণ বিতরণ করা হয়নি। তাঁর ভাষ্য, গত বছর জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন ব্যক্তি ও পক্ষের কাছ থেকে ত্রাণ সহায়তা পাওয়া গেলেও এবার পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় এক আনসার কমান্ডার নিজ অর্থায়নে শতাধিক মানুষকে শুকনো খাবার ও ওষুধ দিয়েছেন।
কথা হয় দিনমজুর হাশেম আলীর সঙ্গে তিনি বলেন, ‘ত্রাণ পাওয়া বড় কথা নয়। কাজে ফিরে পরিবার নিয়ে বাঁচতে চাই।’

গবাদি পশু পালনকারীরাও রয়েছেন মহাসংকটে। মাঠ ডুবে যাওয়ায় গোখাদ্যের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। খড় কিনতে হচ্ছে বাড়তি দামে। স্থানীয় বাসিন্দা রাজা ব্যাপারী বলেন, ‘নিজের বসবাস ও খাবারের চেয়ে গরু-ছাগল রাখা এবং তাদের খাদ্য জোগাড় করা বেশি বিপাকে ফেলেছে। মাঠ তলিয়ে যাওয়ায় গোখাদ্যের সংকট প্রকট। খড়ের দামও আকাশছোঁয়া।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালুকদার সমকাল প্রতিবেদককে জানান, আতারপাড়া ও নিচ পলাশী গ্রামের পানিবন্দি শতাধিক পরিবারের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে বাকি গ্রামের কর্মহীন মানুষের মাঝেও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হবে।
 

আরও পড়ুন

×