ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় আহত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা

প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক

প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক
×

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:১৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

নিজের সন্তানকে কিশোর গ্যাংয়ের হাত থেকে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে হামলায় আহত হয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল হক শাহজাহান। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ ঘটনার পর রাতে মামলা হলেও এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে অভিভাবক রক্তাক্ত হবার ঘটনা গতকাল বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জের সামাজিক মাধ্যমে ছিল সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। এখনও কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় সামাজিক মাধ্যমে 
ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। এই ঘটনার প্রতিবাদে আগামী রোববার সকাল ১০টায় সচেতন সুনামগঞ্জবাসীর ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ডাক দেওয়া হয়েছে।
জেলা সিপিবির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এনাম আহমদ বললেন, কোনোভাবে এই ঘটনা মেনে নেওয়ার মতো নয়। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ আছে মানুষের মধ্যে। সন্ত্রাসী কর্তৃক আহত শিক্ষার্থীর অভিভাবক শাহজাহান এক সপ্তাহ আগে পুলিশের কাছে লিখিত জানিয়েছেন। কিন্তু পুলিশ কোনো উদ্যোগ নেয়নি। উল্টো পুলিশকে জানানোয় শাজাহানের ছেলের ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলার ঘটনা ঠেকাতে গিয়ে তিনি নিজে রক্তাক্ত হয়েছে। এই ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ, এটি লজ্জাজনক। এই অবস্থায় শান্তিপ্রিয় শহরবাসীর ঐক্যবদ্ধ হবার বিকল্প নেই। পাড়ায় পাড়ায় সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ কমিটি করার উদ্যোগ নিতে হবে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য অ্যাডভোকেট মল্লিক মঈন উদ্দিন সোহেল পিপি বললেন, এভাবে মধ্য শহরে একজন অভিভাবক তাঁর সন্তানকে মাস্তানদের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হওয়া মেনে নেওয়া যায় না। এই ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান তিনি।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি রতন শেখ গতকাল বিকেলে বললেন, ‘আমরা এই বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। অপরাধী কিশোর-তরুণদেরও সন্ধান পাওয়া গেছে। আশা করছি দ্রুতই এই বিষয়ে পুলিশের কার্যক্রম গণমাধ্যমকে জানাতে পারব।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘অপরাধীদের কিশোর বলার সুযোগ নেই। ওদের বয়স ২০-২১ হয়েছে। এরা প্রাপ্ত বয়স্ক।’
এ ঘটনায় আহত শাহজাহানের শ্যালক জুনায়েদ আহমেদ বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে চারজনের 
নাম উল্লেখ করে ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলো– পূর্ব সুলতানপুরের সৈয়দ আলীর ছেলে জুনাব 
আলী, তাঁর ছেলে শ্রাবণ, হাছননগরের মুহিবুর রহমানের ছেলে সায়মন, সদর হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারের বাসিন্দা বুরহান উদ্দিনের ছেলে হিমেলসহ অজ্ঞাত ৮-১০ জন।
 

আরও পড়ুন

×