ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাফল্য

এক কক্ষে প্রস্তুতি নিয়ে একসঙ্গে বিচারক

এক কক্ষে প্রস্তুতি নিয়ে একসঙ্গে বিচারক
×

আনোয়ার হোসেন, শাকির আলম ও আরিফ হোসাইন সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলে দেশের ২০০ জনকে সহকারী জজ পদে সুপারিশ করা হয়েছে। গত বুধবার বিজেএস কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ফলে দেখা গেছে, তাদের ১৯ জনই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এদের দুজন আবার একই ব্যাচের। তারা থাকতেন একই কক্ষে। এ দুজনের আরেক রুমমেট ১৬তম বিজেএসে উত্তীর্ণ হয়ে এখন বিচারক। 
১৮তম বিজেএসে সুপারিশ পেয়েছেন আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র শাকির আলম ও আনোয়ার হোসেন। তাদের সঙ্গে সাদ্দাম হোসেন হলের ৪২২ নম্বর কক্ষের আরেকজন ও একই শিক্ষাবর্ষের ছাত্র আরিফ হোসাইন ১৬তম বিজেএসে উত্তীর্ণ হয়ে বিচারক পদে কর্মরত।

গতকাল বৃহস্পতিবার আনোয়ার হোসেন সমকালকে বলেন, ‘আমরা তিনজন একই কক্ষে থাকতাম। শুরু থেকে আমাদের লক্ষ্য ছিল বিচারক হওয়া। প্রতিদিন সকালে নামাজ আদায় করে পড়াশোনা শুরু করতাম। খাবারের সময় একসঙ্গে খাওয়া এবং রাতে নির্দিষ্ট সময়ে গ্রুপ স্টাডি করতাম। আমাদের তিনজনের একাডেমিক ফলাফলও ভালো ছিল।’ আরিফ ১৬তম জুডিশিয়ারিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও তারা হতাশ হননি জানিয়ে বলেন, ‘বরং আরও অনুপ্রাণিত হয়ে নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি নিয়েছি ও সফল হয়েছি। আমরা একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করিনি।’

শাকির আলম বলেন, ‘প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টারেই আমরা তিনজন মেধা তালিকার শীর্ষে স্থান করে নিই। ওই বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ভাই জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হলে তাদের অনুপ্রেরণা একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়, প্রথম চেষ্টাতেই জজ হওয়া।’ ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তারা খাওয়া, ঘুম ও দৈনন্দিন মৌলিক প্রয়োজন ছাড়া নিজেদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হন তারা।
ইবির আইন বিভাগের যে ১৯ শিক্ষার্থী এবার সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন, তারা হলেন– ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের আরিফুল ইসলাম, ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের আসিফ ইসলাম ও শফিক শোভন; ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সাদিয়া আফরিন, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের হুমায়ন কবির ও সালমা খাতুন; ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শারমিন খাতুন, শাকির আলম, মেহবুবা মোহিনী, রফিকুজ্জামান, আনোয়ার হোসেন ও ইয়াসমিন খাতুন; ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের লিখন, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমজাদ হোসেন। এ ছাড়া ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তৌহিদুল ইসলাম ও এ এইচ হাবিব, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের নুসরাত জাহান তানী, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের রুকনুজ্জামান রায়হান এবং আল ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের রাজু আহমেদও সহকারী জজ পদে সুপারিশ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে মেধাতালিকায় ২৪তম শারমিন খাতুন ও ২৬তম রাজু আহমেদ। 
 

আরও পড়ুন

×