ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মহারাষ্ট্রে রাজনৈতিক সংকট

মহারাষ্ট্রে রাজনৈতিক সংকট
×

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২২ | ১২:০০

ভারতের সবচেয়ে ধনী রাজ্য মহারাষ্ট্রে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক সংকট। এই পরিস্থিতিতে মহাসংকটে পড়েছে রাজ্য সরকারের ভাগ্য। রাজ্য সরকারের সিনিয়র মন্ত্রী একনাথ সিন্ধে দাবি করেছেন, তাঁর সঙ্গে রয়েছে ক্ষমতাসীন দল শিবসেনার ৪০ থেকে ৫৬ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন। তাঁর বিদ্রোহের জেরে ক্ষমতাসীন শিবসেনার নেতৃত্বাধীন জোট সরকার পতনের মুখে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় গতকাল বুধবার রাজ্যবাসীর উদ্দেশে এক ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী উদ্ভভ ঠাকরে বলেন, বিদ্রোহী বিধায়করা যদি আমায় না চান, তা হলে আমি এখনই ইস্তফা দিতে তৈরি। আমি ইস্তফাপত্র তৈরি রেখেছি। বিধায়করা এসে আমায় বলুন, আমরা আপনাকে চাই না। ঠাকরে বলেন, হিন্দুত্বই শিবসেনার পরিচয় এবং আদর্শ। কিছু দল শিবসেনার হিন্দুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে দেখে অবাক লাগছে। একজন বিধায়কও যদি তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে না চান, তা হলে তিনি পর মুহূর্তেই 'বর্ষা' (মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন) ছেড়ে 'মাতুশ্রীতে' (উদ্ভভের বাসভবন) চলে যাবেন। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হব তা কখনও ভাবিনি। তাই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব আসার পর কিছুটা অবাকই হয়েছিলাম।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ভভ ঠাকরেসহ দলের সিনিয়র নেতারা একনাথ সিন্ধেকে তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সিদ্ধান্ত বদলানোর কোনো ইঙ্গিত এখন পর্যন্ত দেননি তিনি।
মহারাষ্ট্রে দীর্ঘদিনের মিত্রতার পর ২০১৯ সালের রাজ্য নির্বাচনের আগে শিবসেনা ও বিজেপির জোট ভেঙে যায়। ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে টানাপোড়েনে ভাঙে জোট। তবে নির্বাচনে রাজ্যের বিধানসভার ২৮৮ আসনের মধ্যে ১০৬ আসনে জয়লাভ করে একক বৃহত্তম দলে পরিণত হয় বিজেপি। তবে আঞ্চলিক ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি), ভারতের মূল বিরোধী দল কংগ্রেস এবং আরও কয়েকটি ছোট দল ও স্বতন্ত্র আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠন করে শিবসেনা। জানা গেছে, একনাথ সিন্ধে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির সঙ্গে ফের শিবসেনার জোট গড়তে আগ্রহী।
এই টানাপোড়েনের পরিস্থিতিতে তাঁর কাছে শরদ পওয়ার ও কমলনাথের ফোন এসেছিল বলে জানিয়েছেন উদ্ভভ। তিনি বলেন, তাঁরা আমাকে জানিয়েছেন, আপনাকেই মুখ্যমন্ত্রী পদে দেখতে চাই। একনাথ সিন্ধের সঙ্গে আছেন, এমন বিধায়করাও তাঁকে ফোন করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁরা বলেন, তাঁদের জোর করে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এই সপ্তাহে বিবাদ গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একনাথ সিন্ধে এবং ঠাকরে নিজেদের অনুগত আইনপ্রণেতাদের হোটেলে আটকে রাখেন। অপরপক্ষের তাদের দলে টানা ঠেকাতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ফলে জোরালো রাজনৈতিক নাটকীয়তা প্রত্যক্ষ করে রাজ্যটি।
ভারতের দলত্যাগ-বিরোধী আইনের অধীনে অযোগ্যতা এড়াতে একনাথ সিন্ধেকে রাজ্যের ৩৭ আইনপ্রণেতার সমর্থন পেতে হবে। তবে এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বেশ কয়েকজন সমর্থককে নিয়ে একনাথ সিন্ধে উঠেছেন উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বিজেপি শাসিত রাজ্য আসামের একটি হোটেলে। মঙ্গলবার সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের স্বাগত জানান বিজেপির দুই নেতা। রাজ্যে গত সোমবারের বিধানসভা উপনির্বাচনের পর শিবসেনার প্রবীণ নেতা একনাথ সিন্ধের সঙ্গে যোগাযোগ করা অসম্ভব হয়ে পড়ার পর থেকে সংকট শুরু হয়। শিবসেনা ও তাদের মিত্ররা দশ আসনের মধ্যে ছয়টিতে জয়ের আশা করছিলেন; কিন্তু জেতেন মাত্র পাঁচটিতে। বিজেপি চারটিতে জয়ের আশা করলেও বাকি পাঁচটিতে জয় পায় তারা।

আরও পড়ুন

×