ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এনআরসি: দিল্লিতে ১৩ বাঙালি সংগঠনের ধরনা

এনআরসি: দিল্লিতে ১৩ বাঙালি সংগঠনের ধরনা
×

ধরনা কর্মসূচিতে বক্তব্য দিচ্ছেন বক্তারা- যুগশঙ্খ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১২:৪১ | আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১২:৫৭

ভারতের আসাম রাজ্যে চূড়ান্ত জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) থেকে ১৯ লাখ মানুষ বাদ পড়ার প্রতিবাদে ১৩টি বাঙালি অরাজনৈতিক সংগঠন ধরনা কর্মসূচি পালন করেছে।

বৃহস্পতিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন প্রায় পাঁচ শতাধিক এনআরসি থেকে বাদ পড়া বাঙালি। খবর যুগশঙ্খের।

কর্মসূচিতে অল বেঙ্গলি স্টুডেন্ট অ্যান্ড ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের সভাপতি শ্রী চন্দন চ্যাটার্জী বলেন, খাতা-কলমে ১৯ লাখ মানুষকে নাগরিকত্ব দেওয়া না হলেও সংখ্যাটা আসলে ২৬ লাখ। যার মধ্যে আছেন ১২ লাখ বাঙালি। আমরা এই ১২ লাখ মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। এতদিন ধরে যারা ভারতবর্ষকে নিজের দেশ বলে মেনে এসেছেন, যারা এই দেশকেই মাতৃভূমি ভাবেন তাদের আজ হঠাৎ করে দেশ ছেড়ে দিতে বলা হলো। ভিটেমাটি হারিয়ে এরা কোথায় যাবে? সরকার সেই বিষয়ে কিছু স্পষ্ট করে না জানিয়েই এতগুলো মানুষের জীবনকে একটা প্রশ্নচিহ্নের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। 

তিনি বলেন, কারও ৮৫ বছরের বৃদ্ধ বাবা বা কারও তিন সন্তানের জননী বা চার ভাইয়ের একমাত্র বোনের নাম ওঠেনি নাগরিকপঞ্জিতে। এসব পরিবারের একটিমাত্র মানুষ কোথায় আশ্রয় নেবে? আমাদের প্রতিবাদ এর বিরুদ্ধে।

তিনি ভবিষ্যতে আসাম এবং ত্রিপুরা জুড়ে আরও বড় আন্দোলন গড়ে তোলার ডাক দেন।

অল আসাম বেঙ্গলি ইয়ুথ এবং স্টুডেন্ট ফেডারেশন পক্ষে দীপক দে দাবি করেন, বৈধ পরিচয়পত্র এবং নাগরিক অধিকার সমন্বিত প্রমাণপত্র থাকার পরেও অনেকে এনআরসি থেকে বাদ পড়েছেন। খেটে খাওয়া মানুষরা যারা এনআরসি থেকে বাদ পড়েছেন তারা কিভাবে ট্রাইব্যুনাল, হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টের ঝামেলা সামলাবেন। সরকারের উচিত এই সমস্যার সুসমাধান করা। 

অনুষ্ঠানের শেষে মঞ্চ থেকে সংগঠকরা একযোগে ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলনের ডাক দেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি এনআরসি সমস্যার সমাধান না হয়, যদি বাঙালিরা বিতাড়িত হন তাহলে সারা দেশজুড়ে তারা অরাজনৈতিক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলবেন। 

সংগঠকরা জানান, প্রাণ থাকতে একজনও বাঙালিকেও তারা ভারত থেকে বিতাড়িত হতে দেবেন না।


আরও পড়ুন

×