জি২০ ঢেউয়ে সওয়ার হয়ে নির্বাচনে নামছেন মোদি
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ০০:৪৬
জি২০ সম্মেলন ছিল বৈশ্বিক পর্যায়ে ভারতের জন্য বড় মুহূর্ত। এটা ভারতকে আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে। সেইসঙ্গে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণেরও সুযোগ দিয়েছে।
বিজেপি তাদের সামাজিক মাধ্যমে সম্মেলন নিয়ে বিশ্বনেতাদের প্রশংসার বার্তাগুলো প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্মেলনে কিছু মতানৈক্য সত্ত্বেও ঘোষণাপত্র প্রকাশ হয়, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনসহ কয়েকটি জটিল বিষয়ে সাফল্যের দেখা মিলেছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বিরোধীদের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী মোদির নেওয়া এসব কূটনৈতিক বিষয়-আশয়ের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সংযোগ খুবই সামান্য। তারা বলছেন, গত মাসে চাঁদে ভারতীয় চন্দ্রযানের সফল অবতরণ আরেকটি ঘটনা, যা মোদির দলকে প্রচারণায় সুবিধা দেবে। বিরোধী দল কংগ্রেস জি২০ সম্মেলনকে নির্বাচনী প্রচারণার অংশে পরিণত করায় নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করেছে। তারা বলছে, মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকার যেখানে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য করছে, সেখানে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংলাপ ও শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে কথা বলছেন। অবশ্য তাঁর সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মোদির রাজনৈতিক অবস্থান এতটাই শক্তিশালী যে, তাঁর পরিকল্পনা উল্টো ফল দেওয়ার ঝুঁকি খুবই কম। নয়াদিল্লির সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব ডেভেলপিং সোসাইটির মনস্তত্ত্ববিদ সঞ্জয় কুমার বলেন, যে বিষয়টি এখন চাউর হচ্ছে, তা হলো– ভারত প্রকৃত অর্থেই বিশ্বব্যাপী শক্তিশালী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এটা হয়েছে কেবল মোদির কারণে। এটা জাতীয়ভাবে প্রত্যেক ভারতীয়ের জন্য গর্বের।
মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং কভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারে হিমশিম খাওয়া নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও আগামী জাতীয় নির্বাচনে মোদি সহজেই জিতবেন– জনসমীক্ষা ও তার অনুমোদন হার এটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য মণিপুরে সহিংসতাও মোদির ভাবমূর্তির ওপর প্রভাবে ফেলেছে।
আগামী রোববার মোদির ৭৪তম জন্মদিন। বিজেপির এক নেতা জানান, ওইদিন তারা ‘সম্মেলনের সফলতা’ তুলে ধরে উদযাপন করবেন। এ ছাড়া সামনের সপ্তাহে লোকসভার পাঁচ দিনের অধিবেশন রয়েছে, যেখানে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ভারতের উত্থানে মোদির ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হবে। বিজেপির সহসভাপতি বিজয়ন্ত জয় পাণ্ডে বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে ভারতের ভাবমূর্তি বদলেছে।
সম্প্রতি ইন্ডিয়া টুডে ম্যাগাজিনের এক সমীক্ষায় দেখা যায়, ৪৭ শতাংশ মানুষ মনে করে, ভারত জি২০-এর সভাপতিত্ব করায় বৈশ্বিক পর্যায়ে দেশটির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে; ৭৩ শতাংশ মনে করে এটা ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রচারণার হাতিয়ার। বিরোধী দল কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বলেন, বৈশ্বিক পর্যায়ে মোদির সহিষ্ণুতার বক্তব্য ‘নিখাদ ভণ্ডামি।’ তিনি বলেন, ‘দেশের অভ্যন্তরে ঘৃণাসূচক বক্তব্য, অন্যায়ভাবে মারধর, টার্গেট করে হত্যা ও পবিত্র স্থানগুলোতে হামলা নিয়ে মোদি নীরব থাকেন। তাঁর দল এবং তিনি যে ভিত্তি লালন করেন, সেটা সুপরিকল্পিত মেরূকরণমূলক প্রচারণা চালায়। তারা ভারতের সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করেছে।
- বিষয় :
- মোদি
- নির্বাচন
- জি-২০ সম্মেলন