ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘এখানে শয়তান এসেছিল’: কাস্ত্রো-গাদ্দাফিসহ যাদের ভাষণে কেঁপেছিল জাতিসংঘ

‘এখানে শয়তান এসেছিল’: কাস্ত্রো-গাদ্দাফিসহ যাদের ভাষণে কেঁপেছিল জাতিসংঘ
×

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ১৯৬০ সালে ফিদেল কাস্ত্রো ও ২০০৯ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির ভাষণের মুহূর্ত। ছবি: সংগৃহীত

সাদিকুর রহমান

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:৪৫ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:২৪

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জড়ো হয়েছেন দেড় শতাধিক দেশের নেতা ও কূটনীতিকরা। আগামী কয়েকদিনে ভাষণ দেওয়ার জন্য ১৯৩ দেশের প্রতিনিধিরা মঞ্চে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিষদের মঞ্চটি গত কয়েক দশক ধরে আধুনিক কূটনীতির সবচেয়ে আলোচিত কিছু মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছে। যেখানে স্নায়ু যুদ্ধের সতর্কবার্তা থেকে শুরু করে আগ্রাসনসহ নানা পরিস্থিতির ওপর আবেদন জানিয়েছেন নেতারা। এমন আলোচিত ৬টি ভাষণ তুলে ধরা হলো।

কিউবা একটি পাকা আপেল, যুক্তরাষ্ট্র সেটি খেতে চায়: কাস্ত্রো
জাতিসংঘের ইতিহাসে এখনো দীর্ঘ সময় ধরে ভাষণ দেওয়ার রেকর্ডটি কিউবার প্রয়াত নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর। দিনটি ছিল ১৯৬০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর। এর প্রায় দেড় বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত একনায়ক ফুসেন্সিও বাতিস্তার পতন ঘটে। ফিদেলের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন হয়। 

জাতিসংঘের অধিবেশনে নেতাদের জন্য নির্ধারিত সময় ১৫ মিনিট হলেও কাস্ত্রো সেদিন ৪ ঘণ্টা ২৯ মিনিট ধরে ভাষণ দেন। যেখানে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের তীব্র সমালোচনা, স্বৈরাচার শাসকদের সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ, লুটপাটের দর্শন, কিউবাকে মার্কিন কলোনি এবং অস্ত্র প্রতিযোগিতাসহ নানা বিষয় উঠে আসে।

১৯৬০ সালে জাতিসংঘে ভাষণ দেন কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্রো। ছবি: সংগৃহীত

ফিদেলের সেই ভাষণের পূর্ণাঙ্গ লিখিত রূপ সংরক্ষণ করা হয়েছে তাঁর নামে চালু করা একটি ওয়েবসাইটে। ইউটিউবেও ভাষণটির অংশ বিশেষ পাওয়া যায়। 

১৯৫৯ সালে নিজেদের সমর্থিত সরকার পতনের পর কিউবায় হামলা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। ফিদেল তাঁর ভাষণের শুরুর দিকে বলেন, এই দেশ (যুক্তরাষ্ট্র) থেকে আমাদের বিরুদ্ধে যেসব হামলা হয়েছে, সেগুলোর জবাব দেওয়ার সুযোগ আমাদের নেই। কিন্তু এখানে যখন এসেছি, তখন সত্য তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমাকে সেই সত্যটা বলতেই হবে।

ভাষণের পরের অংশে মার্কিন আগ্রাসন বোঝাতে ফিদেল কাস্ত্রো ঊনবিংশ শতকের ঘটনাপ্রবাহের উদাহরণ টানেন। তিনি বলেন, ওই শতকের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জন অ্যাডামসের দৃষ্টিতে কিউবা ছিল একটি আপেল ফল। যেটি স্পেনের গাছে ঝুলে আছে, কিন্তু পাকলে যুক্তরাষ্ট্র সেটি খাবে। স্পেন যখন পরাজিত হয়, যুক্তরাষ্ট্র তখন আপেলটি নেওয়ার জন্য হাত বাড়িয়ে দেয়।

ঊনবিংশ শতকে কিউবা স্পেনের অধীনে ছিল। স্বাধীনতা লাভ করে ১৯০২ সালের ২০ মে। এরপর ১৯৪৪ থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত শাসন করেন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ফুসেন্সিও বাতিস্তা। 

ফিদেলের সেই ভাষণের প্রায় ৬৫ বছর পর জাতিসংঘে আবারও কিউবার প্রসঙ্গ উত্তাপ ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করেন। 

ট্রাম্প বলেন, ‘পরিস্থিতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে। এটি পুরোপুরি একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও বেশি ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তারা পতনের মুখে পড়বে।’ ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর কিউবার প্রতিনিধিদল পরিষদ থেকে বেরিয়ে যায়। 

মূলত ওয়াশিংটনের নানা নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে কিউবায় জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকট তীব্র হয়েছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল বিভিন্ন সময় নতুন এই মার্কিন আগ্রাসনের সমালোচনা করেছেন। 

গত মার্চে কিউবা দখলের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেটির জবাবে মিগুয়েল বলেছিলেন, তাঁর দেশ সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে জানে। বাইরের শত্রুদের যেকোনো পদক্ষেপ অদম্য প্রতিরোধের মুখে পড়বে।  

কিউবার বর্তমান কমিউনিস্ট সরকার রাশিয়ার অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। মঙ্গলবার দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প কারও নাম উল্লেখ না করে বলেন, ‘আমেরিকার দরজার পাশে দাঁড়িয়ে কোনো বিদেশি প্রতিপক্ষকে আমরা হুমকি হতে দেব না।’

যুদ্ধই মানবজাতির অবসান ঘটাবে: কেনেডি
১৯৬১ সালের সেপ্টেম্বর। জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব দাগ হামারশোল্ডের মৃত্যুর কয়েকদিন পর অধিবেশন শুরু হয়। স্বাগতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন জন এফ কেনেডি। তাঁর নামে চালু হওয়া জাদুঘরের ওয়েবসাইটে ভাষণের পুরো অংশ আছে।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি। ছবি: সংগৃহীত

বর্তমানে জাতিসংঘের প্রতি আস্থা নিয়ে অনেকে সংশয় প্রকাশ করেন। আর ওই সময় কেনেডির ভাষণে উঠে এসেছিল সংস্থাটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গ। বৈশ্বিক সংঘাত বন্ধে জাতিসংঘের ভূমিকা কতটুকু তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কেনেডি বলেন, ‘আমরা যদি এটিকে মরতে দিই, শক্তি দুর্বল করে ফেলি, ক্ষমতা খর্ব করি, তাহলে নিজেরাই ভবিষ্যৎকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেব।’

এরপর কেনেডি বলেন, ‘মানবজাতিকে অবশ্যই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে। না হলে যুদ্ধই মানবজাতির অবসান ঘটাবে।’

এসেছি জলপাইয়ের ডাল ও বন্দুক নিয়ে: আরাফাত
‘আমি জলপাইয়ের ডাল ও একজন মুক্তিযোদ্ধার বন্দুক হাতে নিয়ে এসেছি। আমার হাত থেকে জলপাইয়ের ডালটি পড়ে যেতে দেবেন না।’ এ কথা বলে ১৯৭৫ সালের ১১ নভেম্বরে জাতিসংঘ অধিবেশনে ভাষণ শুরু করেছিলেন ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) তৎকালীন নেতা ইয়াসির আরাফাত।

টাইম সাময়িকীর তখনকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরাফাত সেদিন ৮০ মিনিট ধরে ভাষণ দেন। অসাধারণ সেই ভাষণ শেষ করার সময় তাঁর কণ্ঠে ছিল তাগিদ। আরবি ভাষার রূপক তুলে ধরার সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাঁর হাতও নড়ছিল।

ইয়াসির আরাফাত। ছবি: সংগৃহীত

ফিকে বাদামি রঙের উইন্ডব্রেকার ও ট্রাউজার পরা আরাফাতের মাথায় ছিল পরিচিত কালো-সাদা চেকের কেফিয়াহ (সুতির স্কার্ফ)। কোমরে ছিল একটি পিস্তলের হোলস্টার, যা খালি ছিল বলে দাবি করেছিলেন তাঁর সহযোগীরা। বক্তব্য শেষে তিনি মঞ্চ থেকে সরে যান এবং বক্সারদের উদযাপনের ভঙ্গিতে দুই হাত মাথার ওপর তুলে ধরেন।

কানায় কানায় পূর্ণ সাধারণ পরিষদ কক্ষ সেদিন করতালিতে গর্জে উঠেছিল। খালি ছিল শুধু ইসরায়েলি প্রতিনিধিদলের জন্য নির্ধারিত আসন। তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন স্কালি ও অধিকাংশ পশ্চিমা প্রতিনিধিরা নীরবে বসে ছিলেন।

গতকাল এখানে শয়তান এসেছিল: চাভেজ
২০০৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় সমালোচক ও ভেনেজুয়েলার নেতা হুগো চাভেজ সেদিন ভাষণ দেন। বিশ্বনেতাদের সামনে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে ‘শয়তান’ বলে সম্বোধন করেন। এর ঠিক আগের দিন একই মঞ্চে ভাষণ দিয়েছিলেন বুশ।

চাভেজের সেই ভাষণের একটি পিডিএফ সংস্করণ আছে জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে। ভয়েস অব আমেরিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভাষণে চাভেজ যখন যুক্তরাষ্ট্রকে আধিপত্যবাদী শক্তি ও মানবজাতির টিকে থাকার জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরেন তখন ব্যাপক করতালিতে পরিষদ কক্ষ মুখর হয়ে ওঠে।

ভেনেজুয়েলার সাবেক নেতা হুগো চাভেজ। ছবি: সংগৃহীত

এক পর্যায়ে বুশকে ইঙ্গিত করে চাভেজ বলেন, ‘গতকাল এখানে শয়তান এসেছিল। ঠিক এখানে। আজও তাই সালফারের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।’ বিস্ফোরক, যেমন- গানপাউডার তৈরিতে সালফার ব্যবহার হয়। 

এরপর উপস্থিত বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে চাভেজ বলেন, ‘ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ, গতকাল এই মঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, যাকে আমি শয়তান বলে উল্লেখ করি, তিনি এমনভাবে কথা বলেছেন যেন পুরো বিশ্ব তাঁর মালিকানাধীন।’

সেদিন চাভেজের ভাষণের সময় কোনো জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা ছিলেন না। পরে সাংবাদিকরা ভাষণটি নিয়ে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কন্ডোলিজা রাইসকে প্রশ্ন করেন। জবাবে রাইস বলেন, পাল্টা মন্তব্য করে তিনি চাভেজকে গুরুত্ব দিতে চান না। 

এটি সিকিউরিটি নয়, টেরর কাউন্সিল: গাদ্দাফি
২০০৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নিরাপত্তা পরিষদের তীব্র সমালোচনা করেন লিবিয়ার তৎকালীন নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি। তিনি বলেন, মাত্র পাঁচটি স্থায়ী সদস্যের হাতে ভেটো ক্ষমতা থাকাটা জাতিসংঘ সনদের পরিপন্থি। আমরা এটি মানি না।

জাতিসংঘ সনদের কাগজ ছুঁড়ে ফেলার মুহূর্তে মুয়াম্মার গাদ্দাফি। ছবি: সংগৃহীত

প্রায় ১৫ মিনিট নির্ধারিত থাকলেও গাদ্দাফি দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ভাষণ দেন। আল জাজিরার তখনকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তা পরিষদ নিয়ে কথা বলার সময় লিবিয়ার নেতা জাতিসংঘ সনদের কিছু অংশ পড়ে শোনান। এরপর হাতে থাকা কাগজ ওপরের দিকে ছুড়ে ফেলেন।

নিরাপত্তা পরিষদ সম্প্রসারণ, নয়তো বাতিলের আহ্বান জানিয়ে গাদ্দাফি বলেন, ‘এটিকে সিকিউরিটি কাউন্সিল বলা উচিত নয়, এটি টেরর (সন্ত্রাস) কাউন্সিল।’ এর স্থায়ী সদস্যরা ছোট দেশগুলোকে দ্বিতীয় শ্রেণির ও অবজ্ঞার পাত্র হিসেবে বিবেচনা করে। আর তাই জাতিসংঘের প্রতি কোনো সম্মান নেই। সাধারণ পরিষদেরও কোনো গুরুত্ব নেই।

লুটের জন্য যুদ্ধ: ইভো মোরালেস
২০১৫ সালে আয়লান কুর্দি নামে সিরিয়ান এক অভিবাসী শিশুর মরদেহের ছবি বিশ্বে আলোচনার ঝড় তুলেছিল। যা ইউরোপের অভিবাসী সংকটকে সামনে আনে। ঘটনাটি ছিল সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকের। একই মাসে জাতিসংঘ অধিবেশনে ভাষণ দেন বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট ও সমাজতান্ত্রিক আদর্শের নেতা ইভো মোরালেস। 

ইউএন নিউজের তথ্য অনুযায়ী, মোরালেস সেদিন বলেছিলেন, অলিগার্করা ক্ষমতা ও সম্পদ অল্প কয়েকজনের হাতে ধরে রাখতে লড়াই করেছে। যার ভুক্তভোগী হচ্ছে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ। সাধারণ পরিষদে বক্তারা শান্তির কথা বললেও বাস্তবতা হলো, সামাজিক ন্যায়বিচার ছাড়া শান্তি সম্ভব নয়।

বলিভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস। ছবি: সংগৃহীত

মোরালেস বলেন, বক্তাদের কেউ কেউ পুঁজিবাদকে এগিয়ে নিচ্ছেন। কিন্তু এটি একটি ব্যর্থ মডেল, যা শেষ পর্যন্ত মানবিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত নানা সংকট তৈরি করেছে। সংহতি ও ভালোভাবে বেঁচে থাকাটাই মানবজাতির মূল বিষয়। কিন্তু পুঁজিবাদ এর ঠিক বিপরীতে অবস্থান করছে।

এরপর মোরালেস বলেন, ‘দারিদ্র্য ও মানবজাতির সামনে থাকা অন্য সব গুরুতর সমস্যা অবসানের একমাত্র উপায় হলো পুঁজিবাদ বিলুপ্ত করা।’ প্রাকৃতিক সম্পদ লুটও বন্ধ করতে হবে। কারণ সেগুলোতে প্রবেশাধিকার পেতেই যুদ্ধ পরিচালনা করা হয়।

এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনও বিশ্বের একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সংঘাতে জড়ানো পক্ষগুলোর নেতাদের বক্তব্যে বিভিন্ন সময় কৌশলগত অঞ্চল ও সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপে চেষ্টার অভিযোগ সামনে এসেছে।

আরও পড়ুন

×