অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে ওপেনএআই এজেন্ট: প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। ছবি: এএফপি
আল–জাজিরা
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০:৪২ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:৩৫
অস্ট্রেলিয়ার সরকারি স্বাস্থ্য পোর্টাল মেডিকেয়ারে ওপেনএআইয়ের তৈরি একটি এআই এজেন্ট অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। গত জুনে এ এজেন্ট মেডিকেয়ার পোর্টালের সর্বজনীন ও ব্যক্তিগত—উভয় ধরনের তথ্যে প্রবেশ করেছিল বলে জানান তিনি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্ষেত্রে ‘জরুরি বৈশ্বিক সুরক্ষা-ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার যৌথ আহ্বানে স্বাক্ষরের ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে বুধবার এ তথ্য জানান আলবানিজ। মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে কানাডা, স্পেন ও জার্মানিসহ আরও ২১টি পক্ষের সঙ্গে তিনি ‘ফ্রন্টিয়ার এআই মডেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আহ্বান’ শীর্ষক বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন।
আলবানিজ জানান, ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ সময় তিনি ঘটনায় ক্যানবেরার ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেন। তথ্য লঙ্ঘনের বিষয়টি স্বীকার করতে ওপেনএআইয়ের তিন মাস সময় নেওয়ায় হতাশাও প্রকাশ করেন।
তবে আলবানিজের বক্তব্যের পর ওপেনএআই এক বিবৃতিতে জানায়, বিষয়টি নিয়ে তাদের তদন্ত এখনো চলছে। রোগীদের ব্যক্তিগত তথ্য বা রেকর্ডে অননুমোদিত প্রবেশের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ওপেনএআই জানায়, তাদের পর্যালোচনায় অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সরকারি ওয়েবসাইট ও পরিষেবার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। সে সময় তাদের মডেলগুলো বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছিল।
অস্ট্রেলিয়ার লেবার সরকার নতুন অনলাইন নিরাপত্তা আইন, বয়সসীমা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং ডিজিটাল ক্ষেত্রে ‘যত্নশীলতার দায়িত্ব’ বা ‘ডিজিটাল ডিউটি অব কেয়ার’–সংক্রান্ত প্রস্তাবিত কাঠামোর মাধ্যমে প্রযুক্তি খাতের নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছে।
এদিকে, বুধবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের বৈঠকের আগে এআই কোম্পানিগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা অনিয়ন্ত্রিত এআই উন্নয়নের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেন।
কানাডীয় এআই বিশেষজ্ঞ ইয়োশুয়া বেঞ্জিও এআইয়ের কারণে সৃষ্ট ‘অভূতপূর্ব হুমকি’ এবং ‘বাস্তব ও আসন্ন’ বিপদের কথা তুলে ধরেন। তাঁকে এআইয়ের অন্যতম ‘গডফাদার’ এবং ‘স্বাধীন আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক প্যানেল’-এর সহসভাপতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বৈঠকে জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ফু কং বলেন, এআই নিয়ন্ত্রণ কাঠামো ও নীতিমালার ক্রমাগত উন্নয়ন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং আন্তসীমান্ত সহযোগিতা প্রয়োজন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, এআইয়ের জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নির্ধারণের উদ্যোগে নেতৃত্ব দিতে যুক্তরাজ্য প্রস্তুত। সতর্কবার্তাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন । একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য এআইয়ের সুফল কাজে লাগাতে চায়।
বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, এআই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে একক আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআইয়ের ঝুঁকিকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির সঙ্গে তুলনা করেছেন। মঙ্গলবার ইউএনজিএতে দেওয়া ভাষণে তিনি এআইয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘এসআই’ বা ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ রাখার প্রস্তাব দেন। এর আগে তিনি এআই-বিষয়ক একজন উপদেষ্টা নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছিলেন।
সোমবার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, এআই প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় চীনকে পেছনে ফেলে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে আছে। এআইয়ের ‘প্রবৃদ্ধি ব্যাহত করতে চান না’, তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে সতর্ক থাকবে ।
বুধবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে হোয়াইট হাউসের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা মাইকেল ক্রাটসিওস বলেন, যে প্রযুক্তি সম্পর্কে বোঝাপড়া নেই, তা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। জাতিসংঘ ও এ ধরনের অন্যান্য সংস্থার উচিত অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়াতে সর্বোত্তম কর্মপদ্ধতি বিনিময়ে মনোযোগ দেওয়া, কোনো বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রণ কাঠামো বা নীতিমালা প্রণয়নে নয়।
- বিষয় :
- হ্যাকড
- স্বাস্থ্য
- ওপেনএআই
- অস্ট্রেলিয়া
- প্রধানমন্ত্রী