ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিমানের ভেতরেই শোবার ঘর, বাথরুম, রান্নাঘর—রাত কাটাতে লাগবে ২৫০ পাউন্ড

বিমানের ভেতরেই শোবার ঘর, বাথরুম, রান্নাঘর—রাত কাটাতে লাগবে ২৫০ পাউন্ড
×

ছবি: সিএনএন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:৫৬

বিমানটি আকাশে ওড়ে না। তবে এর ভেতরে ঢুকলে মনে হবে, যেন ১৯৮০-এর দশকের কোনো বিলাসবহুল ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে উঠে পড়েছেন। বিমানটিতে রয়েছে দুটি লাউঞ্জ, কিং সাইজের বিছানাসহ শোবার ঘর, বাথরুম, রান্নাঘর ও আসল ককপিট। চাইলে অতিথিরা ককপিটে বসে বিভিন্ন বোতামও চাপতে পারেন।

ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল শহরের একটি শিল্পাঞ্চলে রাখা বোয়িং ৭২৭ উড়োজাহাজটিকে এমনই একটি থাকার জায়গায় রূপ দিয়েছেন স্থানীয় উদ্যোক্তা জনি পালমার। ‘পিচএয়ার’ নামের এই আবাসনটি এখন স্বল্পমেয়াদি ভাড়ায় পাওয়া যাচ্ছে। ভাড়া শুরু হয় সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে প্রতি রাতে ২৫০ পাউন্ড (প্রায় ৩৪০ ডলার) থেকে। সপ্তাহান্তে তা বেড়ে ৫০০ পাউন্ড (প্রায় ৬৮০ ডলার) পর্যন্ত হয়। বড়দিনে ভাড়া ১ হাজার পাউন্ডের বেশি হতে পারে।

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উড়োজাহাজটি ১৯৬৭ সালে প্রথমবার আকাশে ওড়ে। ১৯৬৮ সালে এটি জাপান এয়ারলাইনসের বহরে যুক্ত হয়। পরে ১৯৮১ সালে এটিকে ধনীদের ব্যবহারের উপযোগী একটি ব্যক্তিগত জেটে রূপান্তর করা হয়। প্রায় তিন দশক ব্যবহারের পর ২০১২ সালে উড়োজাহাজটি অবসর নেয়।

এরপর পশ্চিম ইংল্যান্ডের একটি উড়োজাহাজের কবরস্থানে থাকা বিমানটির সন্ধান পান পালমার। তিনি উড়োজাহাজটি কিনে নেন। এর ডানা ও ইঞ্জিন খুলে ফেলার পর সড়কপথে সেটি ব্রিস্টলে নিয়ে যাওয়া হয়।

পালমার বলেন, ছোটবেলা থেকেই তার একটি উড়োজাহাজের মালিক হওয়ার ইচ্ছা ছিল। তবে সেটি ওড়ানোর চেয়ে উড়োজাহাজের প্রকৌশল ও ইঞ্জিন তৈরির বিষয়টিই তাকে বেশি আকৃষ্ট করত। তাই তিনি এমন একটি বিমান চেয়েছিলেন, যেটি পুরোপুরি তার নিজের হবে, কিন্তু উড়বে না।

প্রথমে পালমার উড়োজাহাজটি তার সন্তানদের জন্য পার্টি ও রাত কাটানোর জায়গা হিসেবে ব্যবহার করতেন। পরে নতুনত্বের আকর্ষণ কমে গেলে তিনি সেটিকে স্বল্পমেয়াদি ভাড়ার জন্য তালিকাভুক্ত করেন।

শুরুতে অবশ্য অতিথিদের আগ্রহ খুব বেশি ছিল না। পালমারের ধারণা, জায়গাটির অস্বাভাবিক ধরন দেখে অনেকে দ্বিধায় ছিলেন। তবে উড়োজাহাজটির সিঁড়ি বেয়ে ভেতরে ঢোকার অভিজ্ঞতা অতিথিদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করে।

ভেতরে ১৯৮০-এর দশকের আবহ
এক হাজার বর্গফুটের বেশি জায়গাজুড়ে থাকা উড়োজাহাজটির ভেতর এখনো ১৯৮০-এর দশকের সাজসজ্জা অনেকটাই অক্ষত রয়েছে। দুটি লাউঞ্জের পাশাপাশি আছে কিং সাইজের বিছানাসহ মূল শোবার ঘর, শাওয়ারসহ বাথরুম, সোফা, পূর্ণাঙ্গ রান্নাঘর ও আসল ককপিট।

ককপিটটিই অতিথিদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশগুলোর একটি। সেখানে বসে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা দেখার সুযোগ রয়েছে। বিমানটি আর উড়বে না- তাই সক্রিয় উড়োজাহাজের ককপিটে যে স্বাধীনতা পাওয়া সম্ভব নয়, এখানে তা পাওয়া যায়।

উড়োজাহাজটি প্রস্তুত করার কাজে যুক্ত পাত্রিজা চুদজিকা জানান, সম্প্রতি এক অতিথি তার ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন। তিনি নিজে একজন পাইলট এবং ছেলেকে বিমানের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা দিতে ককপিটে বসিয়েছিলেন।

তবে একা রাত কাটালে জায়গাটি কিছুটা ভৌতিক মনে হতে পারে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলটি রাতে প্রায় নির্জন হয়ে যায়। উড়োজাহাজের ধাতব কাঠামোর ওপর বাতাসের শব্দও তখন স্পষ্ট শোনা যায়। অবশ্য সেখানে আছে বাইরের গরম পানির টব ও সনা।

‘এটি যেন একটি জাদুঘর’
উড়োজাহাজটির পুরোনো সাজসজ্জা নিয়ে অতিথিদের কেউ কেউ অভিযোগও করেন। গরমের সময় শীতাতপনিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা না থাকায় অস্বস্তির কথাও জানিয়েছেন কেউ কেউ। বর্তমানে বিছানার সামনে দুটি বড় বহনযোগ্য ফ্যান রাখা হয়েছে। পুরোনো নকশা অক্ষুণ্ন রেখে মূল বায়ু চলাচলের পথ ব্যবহার করে ঠান্ডা বাতাস সরবরাহের একটি ব্যবস্থা তৈরির কাজ চলছে বলে জানান পালমার।

পুরোনো অভ্যন্তর নিয়েই অবশ্য পালমারের আপত্তি নেই। তার মতে, ১৯৮১ সালের সেই সময়ের সাজসজ্জাই এই উড়োজাহাজের মূল আকর্ষণ। পুরোনো না হলে এটি আর আগের মতো থাকবে না।

উড়োজাহাজটির অনেক সুইচ ও সরঞ্জাম এখনো আগের জায়গায় রয়েছে। ফলে অতিথিদের কাছে ভেতরটা অনেকটা জাদুঘরের মতো মনে হতে পারে। এমনকি কোনো কোনো সুইচ খুঁজে বের করাও ধাঁধার মতো মনে হয়।

বিছানার আরাম নিয়েও পালমারের একটি মজার দাবি আছে। তিনি জানিয়েছেন, উড়োজাহাজের পুরোনো গদি এখনো রাখা হয়েছে। তার ধারণা, গদিগুলো ৪০ বছরের পুরোনোও হতে পারে। তবে বিছানার চাদর ও অন্যান্য ব্যবহার্য সামগ্রী নতুন।

বোয়িং ৭২৭টি কলম্বিয়ার কুখ্যাত মাদকসম্রাট পাবলো এসকোবারের মালিকানাধীন ছিল- এমন গুজবও ছড়িয়েছে। এ কারণে উড়োজাহাজটির প্রতি মানুষের আগ্রহ আরও বেড়েছে। তবে পালমার নিজেই বলেছেন, এই দাবির সত্যতা তিনি নিশ্চিত করতে পারেন নি। 

পালমারের ভাষ্য অনুযায়ী, কেউ একজন তাকে রেডিটে একটি পোস্টের কথা জানিয়েছিলেন। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, বিমানটি এসকোবারের ছিল। পরে সেই তথ্য উইকিপিডিয়াসহ অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। এভাবেই কোনো ভিত্তি না থাকা তথ্যও ইন্টারনেটে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বর্তমানে উড়োজাহাজটি এয়ারবিএনবি ও বুকিং ডটকমের মাধ্যমে ভাড়া নেওয়া যায়। পালমার ইচ্ছাকৃতভাবেই ব্রিস্টলের উচ্চমানের হোটেলগুলোর তুলনায় ভাড়া কম রাখার চেষ্টা করেছেন। তার লক্ষ্য, বিশেষ করে উড়োজাহাজে আগ্রহী শিশুদের নিয়ে পরিবারগুলো যেন এখানে থাকতে পারে।

সূত্র: সিএনএন

আরও পড়ুন

×