ঢাকা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাজ্যে মার্কিন ঘাঁটির কাছে সন্ত্রাসী হামলার প্রস্তুতির সন্দেহে গ্রেপ্তার ৫

যুক্তরাজ্যে মার্কিন ঘাঁটির কাছে সন্ত্রাসী হামলার প্রস্তুতির সন্দেহে গ্রেপ্তার ৫
×

আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছে সড়ক আটকে রেখেছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। ছবি: রয়টার্স

বিবিসি

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:৫০

যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী (ইউএসএএফ) ব্যবহার করা আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে সন্ত্রাসী হামলার প্রস্তুতি ও বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে সন্ত্রাসবাদবিরোধী পুলিশ। তিনটি ‘সন্দেহজনক গাড়ি’ ঘাঁটির দিকে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর এ অভিযান চালানো হয়।

রোববার রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের (বিএসটি) দিকে ওই তিনটি গাড়ির বিষয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এরপর বড় ধরনের জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করা হয়। ঘাঁটির কাছাকাছি গ্লুচেস্টারশায়ারের ওয়েলফোর্ড এলাকার প্রায় ৮৫টি পরিবারের বাসিন্দাদের বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

কাউন্টার টেররিজম পুলিশিংয়ের নেতৃত্বে তদন্ত চলার সময় ঘাঁটির কাছে থাকা গাড়িগুলো পরীক্ষা করছে সেনাবাহিনীর বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী দল। ওই এলাকায় ৪০০ মিটারের নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। জরুরি সেবার অংশ হিসেবে সেখানে ‘হ্যাজার্ডাস এরিয়া রেসপন্স টিম’ও মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে ওয়েলফোর্ড থেকে সরিয়ে নেওয়া বাসিন্দাদের জানানো হয়েছে, রোববার রাতে তারা নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারবেন না। যারা আত্মীয় বা বন্ধুর বাড়িতে থাকার সুযোগ পাবেন না, তাদের জন্য কটসওল্ড ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল রাত কাটানোর বিকল্প ব্যবস্থা করবে।

আকাশ থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, বনাঞ্চলের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি সাদা ভ্যানের দিকে একটি দূরনিয়ন্ত্রিত রোবট এগিয়ে যাচ্ছে। তবে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে রোবট ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

ঘাঁটিটির সঙ্গে মার্কিন সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি ইরানবিরোধী প্রতিরক্ষামূলক হামলার প্রস্তুতির কেন্দ্র বা ‘স্টেজিং পোস্ট’ হিসেবেও মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ঘাঁটিটি ব্যবহার করেছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা ‘বড় ধরনের ক্ষতি করার’ পরিকল্পনা করছিল। তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই আমরা তাদের ওপর নজর রাখছিলাম এবং শেষ পর্যন্ত তাদের আটক করতে সক্ষম হয়েছি।’

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং জানিয়েছেন, মার্কিন সমকক্ষ পিট হেগসেথের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ইউএসএএফের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের কর্মীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তবে বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি বা কৌশল সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

এদিকে সাফোকে অবস্থিত আরএএফ লেকেনহিথ ঘাঁটিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ। ওই ঘাঁটিতে ইউএসএএফের ৪৮তম ফাইটার উইং মোতায়েন রয়েছে।

কাউন্টার টেররিজম পুলিশিং ও গ্লুচেস্টারশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাঁচজনই পুলিশি হেফাজতে ছিলেন।

বিবিসি জানিয়েছে, অভিযানটি কোনো গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়নি। গ্লুচেস্টারশায়ার পুলিশ প্রথমে ওই ব্যক্তিদের বিস্ফোরক আইনের আওতায় অপরাধের সন্দেহে আটক করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পুলিশ অন্য কোনো ব্যক্তির সন্ধান করছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে গ্লুচেস্টারশায়ার কনস্ট্যাবুলারির ভারপ্রাপ্ত চিফ কনস্টেবল ম্যাগি ব্লাইথ রোববার গভীর রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি মনে করেন পরিস্থিতি এখন ‘নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে।

পাঁচ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের সময়ের একটি ছবি বিবিসির কাছে পাঠানো হয়েছে। ছবিতে তাদের ওয়েলফোর্ড এলাকায় দেখা যায়, যা আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের ‘ক্র্যাশ গেট ৬এ’-এর রানওয়ে প্রবেশপথ থেকে প্রায় ৩৫০ মিটার বা ১ হাজার ১৪৮ ফুট দূরে। বিবিসি ছবিটির মূল উৎস যাচাই করতে পারেনি। তবে বিবিসি ভেরিফাই ছবিটির অবস্থান শনাক্ত করে নিশ্চিত হয়েছে যে এটি সম্ভবত আসল।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বিবিসিকে জানান, রোববার ভোরের দিকে ঘাঁটির কাছে সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখে তিনি পুলিশকে খবর দেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই নারী জানান, প্রথমে তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের (এমওডি) পুলিশকে ফোন করেছিলেন; কিন্তু কেউ সাড়া না দেওয়ায় পরে ৯৯৯ নম্বরে কল করেন। তিনি সেখানে তিনটি ভ্যান দাঁড়িয়ে থাকতে এবং মুখোশ পরা একদল লোককে দেখতে পান।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, ভোরের দিকে পুলিশ তাদের বাড়ি থেকে সরিয়ে একটি বিনোদন কেন্দ্রে নিয়ে যায়। জুলিয়ান টাডসবারি জানান, সকাল ৭টার দিকে পুলিশ ওয়েলফোর্ডে তাঁর দরজায় কড়া নেড়ে তাকে ঘুম থেকে জাগায়। ওই এলাকায় ৮৫টি পরিবারকে এলাকা ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, সেখানে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও তিনটি পুলিশের গাড়ি ছিল। তারা আমাকে জানায় যে এলাকা ছাড়তে হবে, কারণ বড় ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছে; তবে বিস্তারিত কিছু তারা বলতে পারেনি।

তিনি আরও জানান, স্থানীয় আরেক বাসিন্দা ঘাঁটির দিকে তিনটি গাড়ি যেতে দেখেছিলেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দিয়েছিলেন।

জেফ নামে আরেক বাসিন্দা জানান, রাত ২টার দিকে তিনি বাইরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুনতে পান। তিনি বলেন, ‘আমি জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখি, বাড়ির বাইরে পুলিশ কয়েকজন ব্যক্তিকে আটকে রেখেছে। তাদের কাছে অস্ত্র ছিল; দৃশ্যটি ছিল অবিশ্বাস্য ও অবাস্তব।

গ্লুচেস্টারশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হওয়া বাসিন্দাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে রোববার রাতে তারা আর নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারবেন না।

ডেপুটি চিফ এক্সিকিউটিভ ডেভিড স্ট্যানলি জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে যারা আত্মীয় বা বন্ধুদের বাড়িতে থাকার সুযোগ পাবেন না, তাদের জন্য কটসওল্ড ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল রাত কাটানোর বিকল্প ব্যবস্থার আয়োজন করবে।

আরও পড়ুন

×