ঢাকা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ববাজারে আবার বাড়ল তেলের দাম, ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৬ ডলার

বিশ্ববাজারে আবার বাড়ল তেলের দাম, ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৬ ডলার
×

ফাইল ছবি

রয়টার্স

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:১৫ | আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:৫১

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর সোমবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর ফলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। 

সোমবার সকালে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের আগাম দাম ১ দশমিক ৩২ ডলার বা ১ দশমিক ২৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৬৪ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৭০ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ দশমিক ১১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরান একটি শান্তি প্রস্তাব দেয়। কাতারের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয় বলে জানায় তেহরান। শনিবার ট্রাম্প জানান, তিনি প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে রোববার ‘অ্যাক্সিওস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসবে বলে তিনি আশা করছেন।

এএনজেডের বিশ্লেষকেরা এক নোটে বলেন, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এখনো অনেক বেশি। হুথি ও ইরান সৌদি আরবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

শনিবার ভোরে সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেনের জোট জানায়, ইরান-সমর্থিত হুথিদের সৌদি আরবের দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। একই সঙ্গে আরও দুটি ড্রোনও প্রতিহত করা হয়।

গত সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বাড়লেও ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমেছে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় ওঠার পর দেশটি ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করতে পারে—এমন আশঙ্কায় ডব্লিউটিআইয়ের দামে বড় পতন হয়। রপ্তানি বন্ধ করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের পরিশোধনাগারগুলোর উৎপাদন কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এএনজেডের বিশ্লেষকেরা বলেন, পরিশোধিত তেলের বাজারে এখনো চাপ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় ওঠায় মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ডিজেল রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র এমন বিধিনিষেধ দিলে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ কমে যেতে পারে এবং এর প্রভাব ইউরোপের বাজারেও পড়তে শুরু করেছে।

এদিকে জ্বালানিপণ্যবিষয়ক তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বেড়ে দৈনিক ১ কোটি ২৮ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর এটি সর্বোচ্চ রপ্তানি। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের রপ্তানি বৃদ্ধির কারণে এ সরবরাহ বেড়েছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনও আবার বেড়েছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৭৪ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হতে পারে।

সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হুথিদের হামলার পর দেশটি তেল রপ্তানির একাংশ লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর থেকে পূর্বাঞ্চলের রাস তানুরা বন্দরে সরিয়ে নেয়। এর ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সৌদি আরবের তেল পরিবহনের পরিমাণ বেড়েছে।

আরও পড়ুন

×