এশিয়ার অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ গ্রাস করবে চীন!
নভেম্বরে আরসিইপি বাণিজ্য চুক্তি অনুষ্ঠান
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২১ | ০৪:১১ | আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২১ | ০৫:০১
গত বছরের নভেম্বরে চীনসহ এশিয়া প্যাসিফিকের ১৫টি দেশ রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ বা আরসিইপি নামে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। চুক্তিটির পর থেকেই এটি কীভাবে বাণিজ্য প্রবাহকে বাড়িয়ে তুলবে এবং এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াবে তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। এই অবাধ বাণিজ্য এই অঞ্চলে জয়ী এবং পরাজিতের দল তৈরি করবে বলে জানিয়েছেন লেখক উইলিয়াম ব্রাটন।
নিক্কি এশিয়ার মতাতমতধর্মী এক নিবন্ধে এমন কথাই লিখেছেন তিনি।
তিনি লিখেছেন, আরসিইপি চুক্তির ফলে অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের ব্যবহার করে সুবিধাগুলি মূলত চীন ভোগ করবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এশিয়ার অর্থনীতির মূল হিসেবে চীনের মর্যাদা আরও বাড়বে এবং দেশটি দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা ভোগ করবে।
চীনকে ড্রাগনের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেছেন, অর্থনৈতিকভাবে বলতে গেলে, এশিয়ার বাকি দেশগুলি ড্রাগনের সঙ্গে খেতে বসেছে, যা তার ভবিষ্যতকে গ্রাস করতে শুরু করবে। কীভাবে এটি মোকাবিলা করা যায় তা এই অঞ্চলের নীতিনির্ধারকদের দ্রুত চিন্তা করা দরকার।
তিনি দুটি বিষয়ের কথা বলেছেন। প্রথমত, যেকোন বাণিজ্যে কিছু সুবিধা থাকে এবং এগুলি প্রায়ই যথেষ্ট পরিমাণে থাকে। প্রকৃতপক্ষে, বর্ধিত বাণিজ্য প্রবাহ এবং উচ্চ আয়ের প্রতিশ্রুতি সব সময় একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ’র অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে বেশ কয়েকটি এশীয় দেশ রফতানিমুখী প্রবৃদ্ধির মডেল হিসেবে সাফল্য পেয়েছে। এই সাফল্যে এ অঞ্চলের নীতিনির্ধারকরা অর্থনৈতিক বিকাশের ব্যবস্থা হিসেবে বৃহত্তর বাণিজ্যের দিকে তাকালে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
দ্বিতীয়ত, এশিয়ার পূর্ববর্তী এফটিএ’র নজিরটি কিছুটা হলেও আরসিইপি সম্পর্কে আশাবাদকে ন্যায্যতা দেয়। উদাহরণস্বরূপ, চীন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় ১০ সদস্যের অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে সামগ্রিক পণ্য বাণিজ্যের কথা বলা যায়। ২০১০ সালের শুরুর দিকে আসিয়ান ও চীন এফটিএ’র পর বৃহৎ আকারের শুল্ক হ্রাস পর থেকে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি গড়ে ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একইভাবে, ২০০৮ সালে চীন নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করে। এর ফলে ২০১৯ সালের মধ্যে উভযয়ের প্রতি বছর ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয় এবং এই উভয় প্রবৃদ্ধির হার একই সময়কালে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যের সামগ্রিক বিস্তারের চেয়ে অনেক দ্রুত ছিল।
তিনি সমস্যার কথা উল্লেখ করে লিখেছেন, তবে কেবল এ জাতীয় চুক্তিগুলি সামগ্রিক বাণিজ্যের লাভের দিকটি দেখে। তাদের দীর্ঘমেয়াদী ভৌগলিক পরিণতি এখানে উপেক্ষা করা হয়। বিশেষত এফটিএ থেকে প্রাপ্ত সুবিধাগুলি দেশগুলির মধ্যে সমানভাবে বিতরণ করা যায় না। প্রকৃতপক্ষে, মুক্ত বাণিজ্য অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ভৌগলিক ঘনত্বকে ত্বরান্বিত করে, যা এশিয়ায় চীন অর্থনৈতিক পরিধিগুলির মধ্যে শ্রেণিবিন্যাসের সম্পর্ক স্থাপন করছে। এটি বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান শিল্প কাঠামো ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। অন্যান্য দেশের মূল্য শৃঙ্খল বৃদ্ধির সক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করে দিচ্ছে চীন।
ব্রাটন বলেছেন, এই জাতীয় দেশগুলির জন্য ঝুঁকি হলো-তারা তাদের সাবস্কেল উৎপাদন কার্যক্রম স্বল্প ব্যয়ের আমদানির বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতামূলক নয়, কিংবা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় শিল্পগুলিকে তারা বিকশিত করতে পারে না। এই উভয় কারণেই এশিয়ার শিল্প তৎপরতা চীনকে ঘিরে আরও বেশি কেন্দ্রীভূত হয়ে উঠবে, যা এই অঞ্চলের বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও শিল্পক্রমিক স্তরগুলিকে শক্তিশালী করবে। এর ফলে এ অঞ্চলের ক্ষুদ্র উন্নয়নশীল দেশগুলির চিরকাল অর্থনৈতিকভাবে নিচু স্তরে থাকার ঝুঁকি বাড়বে।
এশিয়ার অর্থনীতিতে চীনের অবস্থান উল্লেখ করে তিনি বলেন, এশিয়ার অর্থনৈতিক ভূগোল দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। চীন নিজেকে এই অঞ্চলের অর্থনীতির মূল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই মর্যাদার ফলে এ অঞ্চলের তার সমস্ত সুবিধা উপভোগ করবে চীন। এর বাজারের আকার, উপলভ্য সংস্থানসমূহ এবং অর্থনৈতিক জটিলতা সব কিছুর ছাপিয়ে তার আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের তুলনায় প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে চীন। এর প্রেক্ষাপটে বলতে পারি, আরসিইপিতে চীনের সঙ্গে যোগ দেওয়া দেশগুলি বহু বছরের নিম্ন-স্তরীয় অর্থনীতির দেশে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।