ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পদাবলি

পদাবলি
×

অলংকরণ :: ফাইয়াজ হোসেন

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:০৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রণয়ের প্রকৃষ্ট সময়
খালেদ হোসাইন 
 
উদ্যত খড়্গের নিচে 
এখন শুধু প্রেমের কবিতা লিখবার কাল।
আকাশে দুর্যোগের ঘনঘটা থাক কিংবা 
নীল হাহাকার
এখন শুধু চুম্বন আর আলিঙ্গন দরকার। 

অর্জিত অর্থ যদি হারায় তার সমস্ত মর্যাদা 
ক্ষুধার তীব্রতায় যদি ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদন্ত্র
ঘূর্ণাবর্তের মতো মুচড়ে মুচড়ে ওঠে 
হাসি যেন মুদ্রিত থাকে ঠোঁটে– 
প্রথম প্রেমের নিবিড় আবেগে 
শিউরে ওঠার এটাই তো শ্রেষ্ঠ সময়! 

মানবিক জীবনে যদি নেমে আসে 
অতলান্ত আঁধার 
জীবের জিহ্বা যদি হয়ে ওঠে চাপাতি ও ক্ষুর–  
বুঝে নিও জীবন মধুর। 

মন্ময় মদিরা নয়, জল যদি হয়ে ওঠে জ্বালা
শয্যা যদি হয়ে ওঠে কণ্টকময় 
নিদ্রা নয়, চোখ যদি বিদ্ধ হয় তিরে
অস্থির হয়ো না, ধীরে অতি ধীরে 
ইন্দ্রধনু উপভোগ করো
পশ্চাতে ফিরে–
এটাই এখন প্রকৃষ্ট প্রণয়
আর কিছু নয়।

 

ঘুমের কাছে ঋণ
শাহেদ কায়েস

ঘুমের কাছে তোমার অনেক ঋণ,
সারারাত জেগে থাকে জানালায় চাঁদ
শিশিরের গায়ে ভোর লিখে যায়–
হারিয়ে যাওয়া কোনো নক্ষত্রের সংবাদ।

বনের ভিতর বাতাস ঘুমিয়ে পড়ে,
পাতারা তবু স্বপ্নের শব্দ শোনে;
দূরের নদী অন্ধকার বয়ে নিয়ে–
একলা জেগে থাকে কাশের বনে।

ঘুমের কাছে তোমার অনেক ঋণ
কত রাত ফেরেনি পাখি তার নীড়ে,
কত মেঘ বৃষ্টি হতে ভুলে গিয়ে–
ঝুলে আছে পাহাড়ের নীল শরীরে।

একদিন সমস্ত ঋণ শোধ হলে
ভোর নামবে শিউলির সাদা বিছানায়,
শুধু একটি জেগে থাকা তারা–
হারানো ঘুমের ঠিকানা খুঁজে যায়।

 

অপরাধী
নভেরা হোসেন

তোমরা যা বলছ আজকাল তার অর্ধেকটাই মিথ্যে
আর অর্ধেকটা নিরেট জালে বোনা
অহেতুক বাতাসের ক্রন্দন তটে জেগে ওঠে
যতসব ভালো আর মন্দের মিশেল
সেখান থেকেই বেছে নাও সুপেয় জল
নিজেকে বানালে কাচের পুতুল
একপাশে তার তারকাখচিত
অন্যপাশে তলোয়ারের মসৃণতা
রাতজাগা একেকটা দীর্ঘ সময়
কাটাছেঁড়া নিজের হৃদয়ে
তবু ভাব এই ভালো
নিজেকে অপরাধী বানিয়ে কারাগারে যাওয়া
কে তোমাকে ভালোবাসল আর কে তোমাকে জলে ডোবাল
তার হিসেব যায় না কষা
ভুলে যাও দুধ আর বিষের তফাত
এক চুমুকেই পান করো অমিয় জল
এক হাতেই তুলে নিয়েছ
প্রেম ও ঘৃণার অমোঘ ত্রিশূল

 

তাস 
জাহিদ সোহাগ

সারা দিন গেল
একা তাস খেলে

সন্ধ্যা বিপুল 
বৃষ্টিতে ভেজা কাক
হৃদয়ের চাকা 
ডুবে গেছে জলজটে

অফিস নিভেছে 
মেঘভারি রোদে
মনে মনে আমি  
যাই তাস খেলে 

আগুন লেগেছে কি ইস্কাটনে

ফোন বেজে বেজে 
একা চলে যায়

কত কেউ ভেজে 
আর নাচে নাচে
যদিও পেখম
মেলেনি ময়ূর

ঠোঁটে ছিল তৃষা 
বরষায় ভেজা
সময় ফুরায় 
একা তাস খেলে
 

 

পাখি
রনক জামান 

চৈত্রের রোদ– 
পুকুরঘাটে 
একটা চড়ুই পাখি 
পানি খায়
খুঁটে খুঁটে
নিজেরই প্রতিবিম্ব 
খায়–
আর
চঞ্চুতে দুপুর একা 
টলমল করে

আরও পড়ুন

×