পাহাড় ও মানুষ
ট্রিলিয়াম লেক
লেন্সের পেছনের কথা
ট্রিলিয়াম লেক, যুক্তরাষ্ট্র
শৈবাল দাশ
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১৬ | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:৩২
| প্রিন্ট সংস্করণ
একটি ছবি তুলতে লাগে সেকেন্ডের ভগ্নাংশ। কিন্তু সেই মুহূর্তটিতে পৌঁছাতে লাগে দিনের পর দিন হাঁটা, ঠান্ডায় কাঁপা, অচেনা মানুষের ঘরে ঠাঁই নেওয়া। ফ্রেমে ধরা পড়ে শুধু ফলটুকু। পথের গল্প থেকে যায় ক্যামেরার পেছনে। হিমালয় থেকে বান্দরবান, ওরেগনের আগ্নেয় পর্বত থেকে এভারেস্টের সন্ধ্যা। পাঁচ আলোকচিত্রী শোনালেন তাদের পাঁচটি ছবির পেছনের কথা। গ্রন্থনা ফরহান জামান
গ্রীষ্মে আমেরিকা খুব প্রাণচঞ্চল। আমারও তখন সেমিস্টারের ছুটি। গত বছরের এ সময় বেরিয়েছিলাম দেশটির উত্তর-পশ্চিমের পাহাড়ি জনপদে। পাহাড়, সমুদ্র, দিগন্তছোঁয়া খোলা মাঠ। আঠারো দিনে কী দেখিনি! চার চাকায় পাড়ি দিয়েছি প্রায় সাত হাজার মাইল।
শেষ দিনে ইচ্ছা হলো কাছেপিঠে কোথাও যাই। লাট্টুর মতো ঘুরতে ঘুরতে পৌঁছালাম মাউন্ট হুডের কাছে। ওরেগন অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে উঁচু পর্বত, প্রায় ১১ হাজার ২৪৯ ফুট। তবে একে নিছক পর্বত বললে ভুল হবে। এটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। শেষবার জেগেছিল আঠারো শতকের শেষ দিকে, প্রায় আড়াইশ বছর আগে। ঘুমিয়ে থাকলেও বিজ্ঞানীরা একে এখনও উচ্চ ঝুঁকির আগ্নেয়গিরির তালিকায় রাখেন।
গুগল ঘেঁটে খুঁজছিলাম আশপাশে আর কী আছে। এভাবেই চলে এলাম ট্রিলিয়াম লেকের পাড়ে। নামটা এসেছে এ অঞ্চলের বুনোফুল ট্রিলিয়াম থেকে। লেকটা অবশ্য প্রকৃতির গড়া নয়। ১৯৬০ সালে মাড ক্রিক নামের এক পাহাড়ি জলধারায় বাঁধ দিয়ে এটি তৈরি।
পাড়ে দাঁড়িয়ে দেখি জীবনের নানা রং। কেউ দল বেঁধে সাঁতার কাটছে, কেউ কায়াক বা প্যাডেল বোর্ডে ভাসছে। কেউ পরিবার নিয়ে গল্পে মশগুল, কেউ পাড়ে বসে দুপুরের খাবার খাচ্ছে। অল্প দূরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে মাউন্ট হুড। তাকে অপার্থিব লাগছিল। মনে একটা সাধ জাগল, পূর্ণিমার রাতে না জানি কেমন দেখায়! সেই সাধ বুকে নিয়ে ফিরছি। কাল থেকে আবার আঁটোসাঁটো নিয়মের জীবন।
- বিষয় :
- যুক্তরাষ্ট্র
- আলোকচিত্র