ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘বিচার বিভাগীয় সংস্কারে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ অপরিহার্য’

‘বিচার বিভাগীয় সংস্কারে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ অপরিহার্য’
×

ব্লাস্ট আয়োজিত ‘বিচার বিভাগীয় ও পুলিশ সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাবিত সুপারিশমালা’ শীর্ষক আলোচনা

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৪ | ২১:৪৩

বিচার বিভাগীয় সংস্কারে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ অপরিহার্য। কার্যকর এডিআর ব্যবস্থার মাধ্যমে মামলার দীর্ঘসূত্রিতা ও মামলা জট কমানো সম্ভব। আদালতের বিভিন্ন কার্যক্রম ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে পরিচালনা করে সময় ও সম্পদ সাশ্রয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। আসামিদের নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানোর জন্য হাজিরার জন্য আলাদা করে আদালত কক্ষ তৈরি করা যেতে পারে। আইনজীবীদের নিয়মিত  নতুন আইন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। যেন আইনগুলো সচল হয় এবং আইনজীবীদের মাধ্যমেও বিচারকেরা নতুন আইন সম্পর্কে জানতে পারে। 

ব্লাস্ট আয়োজিত ‘বিচার বিভাগীয় ও পুলিশ সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাবিত সুপারিশমালা’ শীর্ষক আলোচনায় আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

মামলার দীর্ঘসূত্রিতা হ্রাস করার জন্য বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্বারোপ করে ইমান আলী বলেন, বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও যোগ্যতা নির্ভর নিয়োগ ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। বিচারকদের নিয়মিত কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন করাও প্রয়োজন। যাতে করে তা মামলা দায়ের কারীদের কোনোভাবে প্রভাবিত করতে না পারে। পাশাপাশি বিচারকের কর্মদক্ষতা হ্রাসে পেলে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের বিচারককে বরখাস্ত করারও অধিকার থাকতে হবে। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে কীভাবে কার্যকরী করা যায় সে দিকেও নজর দিতে হবে। 

তিনি বলেন, একজন আসামি হিসেবে শাস্তি ভোগ করে জেল থেকে বের হওয়ার পরে তার পুনর্বাসনের কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না এবং তার চারিত্রিক পরিবর্তন যে হয়েছে সে সম্পর্কে কোন ধরনের সনদ প্রদান করা হয় না।

আলোচ্য বিষয়ে সারসংক্ষেপ উপস্থাপনা করেন ব্লাস্টের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড উইম্যান এমপাওয়ামেন্টের আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট আয়েশা আক্তার এবং ব্লাস্টের গবেষণা কর্মকর্তা ফাহাদ বিন সিদ্দিকি। 

সভায় পুলিশ সংস্কারের জন্য জাতিসংঘ নির্যাতন বিরোধী সনদ ও এর ঐচ্ছিক প্রোটোকল এবং ইস্তাম্বুল প্রটোকলসহ গুরুত্বপূর্ণ সনদের অনুমোদন ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত, হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী ৫৪ ও ১৬৭ ধারাসহ ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন, পুলিশ প্রশিক্ষণের শিক্ষাক্রমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের (আদিবাসী, দলিত, লিঙ্গ বৈচিত্র্যপূর্ণ জনগোষ্ঠী) প্রথা এবং সাংস্কৃতিক নিয়মাবলী সম্পর্কে সচেতনতামূলক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা, কোনো শিশুকে হেফাজতে নেওয়ার সময় বা তাকে নিয়ে পরিবহন করার সময় আলাদা স্থানে রাখার ব্যবস্থা করা এবং লিঙ্গভিত্তিক ও পারিবারিক সহিংসতার ক্ষেত্রে, অভিযোগকারী যাতে অনলাইনে অভিযোগ দায়ের করতে পারে তার জন্য একটি নির্ধারিত ওয়েব পোর্টাল চালু করাসহ আরও বেশ কয়েকটি সুপারিশ উপস্থাপনা করেন।

আলোচনা সভায় উপস্থিত জুলাই আন্দোলনের ভুক্তভোগী সাদিক শাহরিয়ার জারিফ বলেন, ছাত্রদের বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে পুলিশ তাদের বয়স বাড়িয়ে প্রাপ্তবয়স্ক দেখিয়ে মামলা করছে।  তাই মামলা করার সময় বয়স নিরূপণের বিষয় থাকা উচিত।

অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় আলোচনা করেন- অ্যাডভোকেট খন্দকার শাহরিয়ার শাকির, অ্যাডভোকেট আমিনুল হক তুহীন, অ্যাডভোকেট শিহাব আহমেদ সিরাজী, অ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম রবি, বৈষম্যবিরোধী আইনজীবী ফোরামের অ্যাডভোকেট নাফিউল আলম সুপ্ত, অ্যাডভোকেট আবিদ হোসেন আনসারী। 

ব্লাস্টের আইন উপদেষ্টা এস এম রেজাউল করিম, ব্লাস্টের পরিচালক (আইন) অ্যাডভোকেট মো. বরকত আলী, ব্লাস্টের ঢাকা ইউনিটের সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মো. মশিউর রহমান, অ্যাডভোকেসি ও কমিউনিকেশন পরিচালক মাহবুবা আক্তার, ব্লাস্টের প্যানেল আইনজীবী অ্যাডভোকেট নমিতা রাণী বিশ্বাস।

আরও পড়ুন

×