ঢাকা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বন্য হস্তীরও মাফ নাই!

বন্য হস্তীরও মাফ নাই!
×

প্রতীকী ছবি।

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৩ | ১৮:০০

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী বনবিট এলাকায় যেইভাবে একটি হস্তীর প্রাণহানি ঘটিয়াছে, উহা যদ্রূপ বেদনাদায়ক তদ্রূপ বিক্ষোভ-জাগানিয়া। সমকালসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা যাইতেছে, ঐ এলাকায় ব্যক্তি মালিকানায় সৃজিত আম্রবাগান হইতে দলছুট বন্য হস্তীকে ‘তাড়াইতে’ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহৃত হইয়াছিল। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বন বিভাগের চিকিৎসা প্রচেষ্টা ব্যর্থ করিয়া শনিবার রাত্রিতে অবলা প্রাণীটি প্রাণ হারায়। আমরা জানি, সাম্প্রতিক বৎসরগুলিতে শুধু বৃহত্তর চট্টগ্রাম নহে; ময়মনসিংহের গারো পাহাড় অঞ্চলেও হস্তী বিতাড়নের এইরূপ নৃশংস পদ্ধতি চালু হইয়াছে। যুগ যুগ ধরিয়া চর্চিত বিবিধ লোকায়ত পদ্ধতির পরিবর্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের এই বেআইনি কর্মকাণ্ড যে কোনো মূল্যে রুখিয়া দিতে হইবে।

স্বীকার করিতে হইবে– কাহারও যতনে সৃজিত ক্ষেত কিংবা বাগান যখন হস্তীর ভোগে লাগিতে থাকে, তখন তাহাদের পক্ষে স্থির থাকা কঠিন বটে। কিন্তু উহার প্রতিক্রিয়া বুলেটের মাধ্যমে জানাইবার সুযোগ কোনো বিবেচনাতেই নাই। চকরিয়ার অঘটনে এই প্রশ্নও গুরুতর হইয়া উঠিবে– বন বিভাগের এলাকায় ব্যক্তিমালিকানাধীন বাগান কেন? ‘সংরক্ষিত’ বনাঞ্চলে বাগানই বা ‘সৃজিত’ হয় কী প্রকারে? প্রশ্নবিদ্ধ বাগান লইয়া বন্য হস্তীকে হত্যায় জড়িত ব্যক্তির খুঁটির জোর খতাইয়া দেখা জরুরি।

আমরা মনে করি, যুগপৎ হস্তীর জীবন ও মানুষের সম্পত্তি কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায়– এই ব্যাপারেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ভাবিবার সময় আসন্ন। স্মরণে রাখিতে হইবে, বন্যপ্রাণীর চিরায়ত আবাস যখন বসবাসের অনুপযোগী হইয়া পড়ে, তখনই কেবল তাহারা লোকালয়ে প্রবেশ করে।

আমরা জানি, অব্যাহত বন উজাড়করণের কারণে হস্তীসহ বন্য জীবজন্তুর আবাস ও খাদ্যস্থল হারাইয়া যাইতেছে। হস্তীর ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ভাবিতে হইবে উহার চলাচল পথের কথাও। কারণ, এই প্রাণীটি বংশপরম্পরায় একই পথে বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়িয়া বিচরণ করিয়া থাকে। কিন্তু আমরা উদ্বেগের সহিত লক্ষ্য করিতেছি, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে হস্তীর চলার পথে নানা স্থাপনা ও অবকাঠামো নির্মিত হইতেছে। এই সকল অবিমৃষ্যকারিতা বন্ধ করিবার বিকল্প নাই। কারণ প্রকৃতির উপকারী বন্ধু হস্তী এইভাবে প্রাণ হারাইতে থাকিলে তাহা পরিবেশ, প্রতিবেশ ব্যবস্থা ও মনুষ্য সমাজের জন্যও হইয়া উঠিবে আত্মঘাতী।

আরও পড়ুন

×