ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মরা গাং-এ জোয়ার আনিতে হইবে

মরা গাং-এ জোয়ার আনিতে হইবে
×

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০

ময়মনসিংহ নগরীর বুক চিরিয়া বহিয়া যাওয়া ২০-৩০ ফুট প্রস্থের চারটি খাল দখল-দূষণের কবলে পড়িয়া দুই থেকে আড়াই ফুট হইয়া গিয়াছে।

শনিবার সমকালে প্রকাশিত খবরটিতে আমরা উদ্বিগ্ন না হইয়া পারিতেছি না। দখলদারমুক্ত করিয়া দৃষ্টিনন্দনের জন্য ২৫০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করিয়াছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন। ইতোমধ্যে সেহড়া খালের ৬ কিলোমিটার দখলমুক্ত হইয়াছে। ইহা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। স্থায়ীভাবে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ৩৫ কিলোমিটার খাল দখলমুক্ত করিবার উদ্যোগকে স্বাগত জানাইতেছি। দখলমুক্ত করিতে গিয়া সহস্রাধিক ভবনের অংশবিশেষ ভাঙিতে হইবে। দখলকারীরা যে রাজনৈতিক-সামাজিকভাবে প্রভাবশালী, উহা বুঝিবার জন্য বিশেষজ্ঞ হইবার প্রয়োজন নাই। উদ্ধার অভিযানে নানা চাপ আসাটাই স্বাভাবিক। এইসব উপেক্ষা করিয়া সিটি করপোরেশন কতটা কামিয়াব হইতে পারে তাহা দেখিবার অপেক্ষায় রহিলাম।

খালের জমিতে প্রভাবশালীরা কীভাবে স্থাপনা নির্মাণ করিল, তাহা খতাইয়া দেখা জরুরি। কেবল দখলদার উচ্ছেদ করিলেই চলিবে না, নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিগণের পরিচয় প্রকাশিত হওয়া প্রয়োজন। বনখেকো, ভূমিখেকোর ন্যায় নদী-খালখেকোদের দাপটে পরিবেশ-প্রতিবেশ দিন দিন হুমকির মুখে পড়িতেছে। শুধু ময়মনসিংহ নহে, দেশের অন্যান্য স্থানেও এইসব দখলদারের তাণ্ডব লীলা চলিতেছে। রাজনৈতিক আশ্রয় আর প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে ইহারা জলাশয় হত্যায় মাতিয়া উঠিয়াছে। মাঝে মধ্যে দেখা যাইতেছে, ঢাকাসহ অন্যান্য নগরীতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটিলে পানি সংকটে ভুগিতে হয় দমকল বাহিনীর কর্মীগণের।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল যথাক্রমে বুড়িগঙ্গা, কর্ণফুলী ও কীর্তনখোলা নদীর তীরে অবস্থিত। অব্যাহত দখল-দূষণে হুমকিতে থাকিলেও এইসব নদী প্রবহমান। দখল আর দূষণে নৌপথ মরিয়া যাওয়ায় অনেক হাটবাজারের ব্যবসায় মন্দাভাব নামিয়া আসিয়াছে। কাজেই আর কালবিলম্ব না করিয়া দেশের সকল নদী-খাল দখল ও দূষণমুক্ত করিতে হইবে এবং মরা গাং বা নদী-খালে জোয়ার-ভাটার প্রবাহ নিশ্চিত করিতে হইবে।

উহার জন্য জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করিতে হইবে। ঢাল নাই তলোয়ার নাই/ নিধিরাম সর্দার মার্কা প্রতিষ্ঠান দিয়া আর যাহাই হউক জনসাধারণের উপকার হইতে পারে না।

আরও পড়ুন

×