চরিত্রের জন্য ৩৫ কেজি ওজন বৃদ্ধি, স্ট্রাগলের গল্প বললেন নাঈম
এফএস নাঈম
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৪ | ১৭:৫৫ | আপডেট: ১৩ মে ২০২৪ | ১৮:০৯
সিনেমার জন্য ওজন কমিয়ে শিরোনামে আসেন নায়ক-নায়িকারা। সেটাও হলিউড-বলিউড সিনেমার ক্ষেত্রে দেখা যায়। ঢাকায় সিনেমায়ও ইদানীং চরিত্রের প্রয়োজনে নায়ক-নায়িকাদের ওজন বাড়ানো-কমানোর বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়। এই যেমন ‘ঢাকা অ্যাটাক’-এর জন্য চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ বডি ট্রান্সফরমেশন করেছিলেন। আবার ‘মুজিব একটি জাতির রূপকার’ ছবির জন্য বাড়াতে হয়েছিল ওজন।
সিনেমার জন্য হরহামেশাই আজকাল ওজন বাড়ানো-কমানোর বিষয়টি ঘটে। কিন্তু ওটিটির ওয়েব সিরিজ বা ওয়েব ফিল্মের জন্য এমন পরিশ্রমের খবর দেশের তারকাদের বেলায় খুব একটা আসে না। সেটিও এবার এলো। এক ওয়েব সিরিজের জন্য ৩৫ কেজি ওজন বাড়াতে হয়েছিল অভিনেতা এফ এস নাঈমের। শুনতে অবাক হলেও এটিই সত্যি।
নাঈম বলেন, ‘গল্প ভালো পেলে আর চরিত্রের প্রতি প্রেম থাকলে এমন কাজ সম্ভব হয়ে ওঠে। কালপুরুষ গল্পটি পড়ার পরই চরিত্রটির প্রেমে পড়ে যাই। পরে নির্মাতার সাজেশন অনুযায়ী নিজের ওজন বাড়ানোর যুদ্ধে নামি। তখন আমার ওজন ছিল ৭৪-৮০ কেজির মধ্যে থাকতো। সেখান থেকে ওজন বাড়িয়ে ১১০ কেজির বেশি করি।’
এই ওজন বাড়ানোর জার্নিটা সহজ ছিল না নাঈমের। খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হয়েছে, জীবনযাপনেও পরিবর্তন আনতে হয়েছে অনেকটা। যে নাঈম ভাত খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন, সেই নাঈমকে দিনে তিনবেলাই ভাত খেতে হয়েছে। বেশি বিপাকে পড়েছেন ওজন বেড়ে যাওয়ার পর। যে জামাগুলো এতদিন পরে আসছিলেন, সেই জামা তাঁর গায়ে আর ফিট হচ্ছিল না। ‘কালপুরুষ’-এর শুটিং শেষ হওয়ার পর সেই বিড়ম্বনা বেড়ে যায় আরও। ওজন বেড়ে যাওয়ায় বাইরে বের হওয়া বন্ধ করে দেন তিনি। অনুষ্ঠানে যাওয়াও বন্ধ করে দেন বলে জানান।
নাঈম বলেন, ‘কালপুরুষের শুটিং শেষ করার পর এক বছর আমি বাইরে বের হইনি। এই এক বছর ফের ওজন কমানোর মিশনে নামি। এই সময়টায় অনেকটা ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলাম। মানুষের মধ্যে যাওয়াটা একেবারেই কমিয়ে দিয়েছিলাম। এক বছর টানা পরিশ্রমের পর আবার আগের ফিটনেসে ফিরে আসি।’
কিছুদিন আগে ‘কালপুরুষ’ পোস্টার প্রকাশিত হয়; যেখানে চঞ্চল চৌধুরী, এফ এস নাঈম, তানজিকা আমিনকে দেখা যায়। পোস্টারেও নাঈমের ওজন বাড়ানোর বিষয়টি ফুটে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে রহস্যের ধোঁয়াশা এবং প্রশ্ন নিয়ে সিরিজটির টিজারও সামনে এসেছে। সেখানেও ভুঁড়িওয়ালা এক নাঈমকেই দেখেছেন দর্শক। নতুন এ সিরিজের নির্মাতা সালজার রহমান। নির্মাতা হিসেবে পরিচালক সালজার রহমান একেবারেই নতুন। এর আগে নির্মাণ করেছেন মিউজিক ভিডিও ও বিজ্ঞাপন চিত্র। তবে ওটিটিতে কাজ এই প্রথম।
সিরিজের আইডিয়া বা গল্পের ধারণা তিনি কীভাবে পেয়েছেন– এ প্রশ্নের উত্তরে সালজার বলেন, ‘অনেক আগে পুরান ঢাকার একটি ওষুধের দোকানে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে নানা কারণে এই সিরিজের গল্পটা মাথায় আসে। এরপর কভিডের সময় সিরিজটা লিখেছিলাম। নানা ঘটনার পর সিরিজটি লেখা শেষ হয়।’