মকবুল যাচ্ছেন অবসরে

জামায়াতের নেতৃত্বে কে?

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০১৯     আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০১৯       প্রিন্ট সংস্করণ     

রাজীব আহাম্মদ

অবসরে যাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির মকবুল আহমাদ। তার উত্তরসূরি বাছাইয়ে ভোট শুরু হয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্যদের ভোটে গত সপ্তাহে আমির প্যানেলও করা হয়েছে। এতে রয়েছেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান, নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান ও মিয়া গোলাম পরওয়ার। সারাদেশে থাকা জামায়াতের প্রায় ৪৫ হাজার রুকন (সদস্য) এই তিনজনের মধ্যে একজন বেছে নেবেন আমির পদে। তবে প্যানেলের বাইরেও ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, যদিও অতীতে এমন নজির নেই। তাই মজলিসে শূরা সদস্যদের সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া শফিকুর রহমানই পরবর্তী আমির হতে যাচ্ছেন তা প্রায় নিশ্চিত।

জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার থেকে দলের সাংগঠনিক শাখাগুলোতে আমির নির্বাচনের ব্যালট পাঠানো শুরু হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হবে আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে।

যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর পর থেকে কোণঠাসা জামায়াত প্রকাশ্যে নেই। তাই ধরপাকড় এড়াতে পুলিশের নজর এড়িয়ে ভোট কার্যক্রম চলছে। জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা ঢাকা থেকে ব্যালট নিয়ে যাবেন শাখায়। থাকবে না ভোটকেন্দ্র। রুকনরা ভোট দিয়ে ব্যালট ফেরত দেবেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধির কাছে। গণনার পর আমির নির্বাচনের ফল প্রকাশ করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত মতিউর রহমান নিজামী গ্রেপ্তার হলে ২০১০ সালের ৩০ জুন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির হন মকবুল। ছয় বছর ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০১৬ সালের ১৬ অক্টোবর তিনি আমির নির্বাচিত হন। তিন বছরের দায়িত্বকাল শেষে অবসরে যাচ্ছেন ৮০ বছর বয়সী নেতা। তার বিরুদ্ধেও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতার অভিযোগ রয়েছে। আমির  প্যানেলে থাকা তিন নেতাই স্বাধীনতার পর জামায়াতে এসেছেন। তাদের কেউ আমির নির্বাচিত হলে স্বাধীনতা-পরবর্তী নেতাদের হাতে উঠবে জামায়াতের নেতৃত্ব।

২০১৭ সালে জামায়াতের গঠনতন্ত্রের ৬৩তম সংশোধনীতে রুকনদের পরিবর্তে জাতীয় কাউন্সিল সদস্যদের সরাসরি ভোটে আমির নির্বাচনের নিয়ম করা হয়। জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানার মজলিসে শূরার সদস্যরা জাতীয় কাউন্সিলের সদস্য। জামায়াতের মনোনয়নে নির্বাচিত এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়ররাও কাউন্সিলের সদস্য।

গত মাসে গঠনতন্ত্রের ১৫(২) স্থগিত করে রুকনদের ভোটে আমির নির্বাচনের নিয়ম পুনর্বহাল করা হয়। এর কারণ সম্পর্কে দলটির নেতারা জানিয়েছেন, টানা ১০ বছর প্রতিকূলতার মধ্যে রয়েছেন রুকনরা। ভোটাধিকার না থাকলে তারা নিজেদের গুরুত্বহীন মনে করতে পারেন। আর জাতীয় কাউন্সিল যেহেতু করা সম্ভব হচ্ছে না, তাই রুকনরাই আমির নির্বাচন করবেন। তবে জাতীয় কাউন্সিল সর্বোচ্চ ফোরামের দায়িত্ব পালন করবে।

স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকার জন্য ক্ষমা চেয়ে দলে সংস্কার করার দাবি জানিয়ে সাড়া না পেয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে জামায়াত ছাড়েন ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক। বহিস্কার হন ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু। এরপর ভাঙনের মুখে পড়তে যাওয়া জামায়াত দলের নেতাকর্মীদের জানিয়ে দিয়েছিল নতুন নামে দল গঠন করা হবে। এ জন্য শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়।

কিন্তু সে কার্যক্রম স্তিমিত হয়ে পড়ে। শফিকুর রহমানকে নতুন দলের আমির পদে ভাবা হয়েছিল। তিনি আমির নির্বাচিত হলে নতুন দল গঠনের সম্ভাবনা শেষ বলে মনে করছেন জামায়াত নেতারা। শফিকুর রহমান সম্প্রতি সমকালকে জানান, নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ বছরের মধ্যেই নতুন নেতৃত্ব দলের দায়িত্ব নেবে।