ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গুম প্রতিরোধ আইনের উদ্দেশ্যই অকার্যকর করছে সরকার: বিরোধীদলীয় নেতা

গুম প্রতিরোধ আইনের উদ্দেশ্যই অকার্যকর করছে সরকার: বিরোধীদলীয় নেতা
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ২২:২৯

সংসদে উত্থাপিত গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলে আইনের মূল উদ্দেশ্যকেই সরকার অকার্যকর করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার এক এই অভিযোগ করেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, আইনটি পাস হলে জনগণ গুমের প্রতিকার এবং তথ্য পাবে কী না সন্দেহ রয়েছে। মানবাধিকার কমিশন পরিণত হবে দন্তহীন বাঘে।

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ এবং মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ পাস করেনি বিএনপি সরকার। এর পরিবর্তে আইন দুটি নতুন করে প্রণয়নে গত বৃহস্পতিবার বিল এনেছে সংসদ। আগের অধ্যাদেশে বলা হয়েছিল, গুমের অভিযোগ তদন্ত করবে মানবাধিকার কমিশন। নতুন আইনের বিলে বলা হয়েছে, কমিশন নয়; আইন শৃঙ্খলাবাহিনী তদন্ত করবে। বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করবে না কমিশন।

এর সমালোচনায় আওয়ামী লীগ শাসনামলের উদাহরণ দিয়ে বিরোধী দল বলছে, সরকারের নির্দেশে গুম করে বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থা। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদেরকে দিয়ে তদন্ত করলে প্রতিকার মিলবে না। এই পরিস্থিতিতে আগামীকাল রোববার পালিত হবে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস।

শেখ হাসিনার আমলে দেড় হাজারের বেশি মানুষকে গুমের অভিযোগ তদন্ত করে নিশ্চিত করেছে এই সংক্রান্ত কমিশনে। যাদের ২৫১ জনকে তুলে নেওয়ার পর আর সন্ধান মেলেনি। জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এসব গুমের বিচার এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান দাবি করেছেন বিবৃতিতে। 

তিনি বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের যন্ত্রণা কতটা দুঃসহ, তা ভুক্তভোগী পরিবার ছাড়া অন্য কারও পক্ষে পুরোপুরি অনুধাবন করা সম্ভব নয়। শেখ হাসিনার শাসনামলে, বিরোধী মত ও কণ্ঠরোধ করার ঘৃণ্য উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল ‘আয়নাঘর’-এর মতো গোপন বন্দিশালা। দীর্ঘ ৮ বছরের অবর্ণনীয় বন্দিদশা শেষে আব্দুল্লাহিল আমান আযমী, ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান জামায়াত নেতা হাফেজ জাকির হোসাইন, শিবির আল মোকাদ্দাস ও মোহাম্মদ ওলিউল্লাহ, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও সাবেক কমিশনার চৌধুরী আলমসহ বহু নিখোঁজ ব্যক্তি আজও ফিরে আসেননি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকার সংসদের প্রথম অধিবেশনে কথা দিয়েছিল, অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ ও আলোচনায় কার্যকর আইন প্রণয়ন করা হবে। কিন্তু নতুন আইনের বিলে, গুমের সংজ্ঞাসহ বিভিন্ন ধারায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগ হল গুমের মতো গুরুতর অপরাধ, যা সাধারণত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে সংঘটিত হয়, তা তদন্তে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তভার তাদের হাতেই তুলে দেওয়া অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত। 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গুম-সংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডার তত্ত্বাবধানের দায়িত্বও সরকারের কাছে রেখেছে। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রে গুমে ক্ষমতাসীন সরকার সম্পৃক্ত থাকে। গুমের তদন্ত মানবাধিকার কমিশনের মতো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংস্থার হাতেই থাকা বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশন আইনের বিল যেভাবে প্রণয়ন করেছে, তাতেও কমিশনকে কার্যত একটি দন্তহীনবাঘে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন

×