ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিএনপিতে ফিরছেন এলডিপি নেতারা

বিএনপিতে ফিরছেন এলডিপি নেতারা
×

কামরুল হাসান

প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ১৩:২০

বিএনপির দলছুট নেতা অনেকেই এবার ঘরে ফিরছেন। রাগ, ক্ষোভ, দুঃখ আর অভিমানে যারা একসময়ে বিএনপিকে ছেড়ে নিষ্ফ্ক্রিয় হয়েছেন, অন্য দল গঠন করেছেন কিংবা ভিন্ন রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়েছেন তাদের আবার ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এসব নেতার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির হাইকমান্ড তাদের বিষয়ে গুরুত্ব দিতে শুরু করেছেন। এরই মধ্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চার নেতাকে বিএনপিতে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলটির হাইকমান্ডের সঙ্গে এ বিষয়ে নিবিড় যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, এলডিপির শীর্ষ নেতার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে গত ২৬ জুন পদত্যাগ করা সাবেক হুইপ আব্দুল করিম আব্বাসী, সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ ও আব্দুল গণি ছাড়াও এলডিপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিমকে বিএনপিতে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে দলটির। শাহাদাত হোসেন সেলিমের বিগত দিনের কার্যক্রমে বিএনপির হাইকমান্ড সন্তুষ্ট রয়েছে বলে জানা গেছে। কর্মীবান্ধব আর টেলিভিশন টকশো ব্যক্তিত্ব হিসেবে ইতোমধ্যে তিনি তার অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। এলডিপির ওই চার নেতা ছাড়াও দলটির মহাসচিব রেদোয়ান আহমদকে বিএনপির পক্ষ থেকে নূ্যনতম বার্তা দেওয়া হলে তিনিও যে কোনো সময়ে দলত্যাগ করতে পারেন বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ২০ দলীয় জোটের মধ্যে পৃথকভাবে এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের জাতীয় মুক্তিমঞ্চকে ভালোভাবে নেয়নি বিএনপি। বিএনপির আপত্তির পরও নিজ দায়িত্বে নতুন এ প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। শুরুতে এ মুক্তিমঞ্চকে গণতন্ত্র আর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম বলা হলেও পরে সে অবস্থান থেকে অনেকটা সরে গেছেন কর্নেল অলি।

নেতাকর্মীরা জানান, মুক্তিমঞ্চে এখন জিয়া পরিবার আর বিএনপিকে নিয়েই সমালোচনা করা হয়। দেশের গণতন্ত্র আর অবিচারের জন্য তাদের বিদ্রোহ করতে দেখা না গেলেও বিএনপির নেতৃত্বভার গ্রহণে কর্নেল অলির ইচ্ছা পোষণ করায় তারা হতাশ হয়ে পড়েন। ২০ দলীয় জোটে এলডিপি শরিক দল হয়েও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন বেঙ্গলকে বাগিয়ে তাকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ের অখ্যাত নেতাদের নিয়ে এসে দল ভারী করার চেষ্টায় দলীয় নেতাকর্মীরাই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় দলটির প্রতিষ্ঠাতা নেতা শাহাদাত হোসেন সেলিমের সঙ্গে এলডিপির হাইকমান্ডের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটে দলটির সর্বশেষ জাতীয় নির্বাহী কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে। কমিটির কোনো পদেই সেলিমকে জায়গা দেওয়া হয়নি। ছাত্রদলের হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ করা সেলিম চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, পরে আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।

অন্যদিকে দলের নিয়মিত কার্যক্রম না থাকা, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন না দেওয়া এবং রাজনৈতিকভাবে মূল্যায়ন না করার কারণে কর্নেল অলি আহমদের জাতীয় মুক্তিমঞ্চ গঠনের আগের দিন দলের হেভিওয়েট তিন সাবেক এমপি পদত্যাগ করেন। এর মধ্যে আব্দুল করিম আব্বাসী নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে ২৫ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি তিনবারের এমপি। আব্দুল গণিও বিএনপির মনোনয়নে তিনবারের এমপি ছিলেন। কিন্তু একাদশ জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে এলডিপি তাদের সঙ্গে 'নোংরা' খেলা করেছে অভিযোগ করে তারা পদত্যাগ করে নিজেদের পুরাতন জায়গায় আসছেন।

আব্দুল গণি সমকালকে বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তি ঐক্যবদ্ধ হোক তা তাদের সবার চাওয়া। সেই চাওয়ায় যা কিছু দরকার তা তারা করবেন।

শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, বিএনপি তার আপন ঠিকানা। খালেদা জিয়া তার রাজনৈতিক অভিভাবক। তাকে অন্যায়ভাবে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। এখন নিজেদের মধ্যকার সব ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে আর খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগ করতেও তিনি প্রস্তুত রয়েছেন।

চারদলীয় জোট সরকারের শেষ সময়ে ২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর বিএনপির স্থায়ী কমিটির তৎকালীন সদস্য কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমসহ তৎকালীন জোট সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী-এমপি দল থেকে পদত্যাগ করেন। একইদিন জোট সরকারের সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও কর্নেল অলি আহমদের যৌথ নেতৃত্বে এলডিপির আত্মপ্রকাশ ঘটে। স্বল্প সময়ের মধ্যেই বি. চৌধুরী ও কর্নেল অলির মধ্যে সাংগঠনিক কারণে মতবিরোধ দেখা দিলে দু'জনই আলাদা পথে হাঁটেন। এখন এলডিপি বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে রয়েছে আর বি. চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্প ধারা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে রয়েছে।

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে মহাজোট থেকে এলডিপি বের হয়ে আসে এবং স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়। নির্বাচনে এলডিপি ৩৮টি আসনে প্রার্থী দিয়ে একটিতে জয়লাভ করে। ২০১৪ সালের বিএনপির সঙ্গে জোটের শরিক এলডিপিও দশম সংসদ নির্বাচন বয়কট করে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে জোটের মনোনয়নে ৫টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এলডিপি। এর মধ্যে কর্নেল অলি চট্টগ্রাম-১৪ আসনে তার দলীয় প্রতীক ছাতা, দলের মহাসচিব রেদোয়ান আহমদ কুমিল্লা-৭ এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসনে শাহাদাত হোসেন সেলিম জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন।

আরও পড়ুন

×