ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাড্ডা দখল

‘সমমনা দোকানদার সমিতির’ সাইনবোর্ড ভাঙল এনসিপির কর্মীরা

‘সমমনা দোকানদার সমিতির’ সাইনবোর্ড ভাঙল এনসিপির কর্মীরা
×

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ভাঙচুরের পর এই সাইবোর্ড লাগানো হয়েছিল। ছবি-সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:০৩ | আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:১০

রাজধানীর মিরপুর-১-এর বেসরকারি সংস্থা রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পরিদর্শনে গিয়ে সেখানে লাগানো ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’-এর সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মীরা। এ সময় আরেকটি সাইনবোর্ড কালো কালি দিয়ে মুছে দেওয়া এবং একটি ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটে।

রোববার দুপুরে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাড্ডা সেন্টার পরিদর্শনে যায়। তারা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শনের সময় এসব ঘটনা ঘটে।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাড্ডা সেন্টারে লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন আসিফ মাহমুদ। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির ওই সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে সেখানে ‘ধ্বংসযজ্ঞ, লুটতরাজ ও মবতন্ত্র’ কায়েম করা হয়েছে।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করলাম, বিএনপির একজন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপির নেতৃত্বে, যার স্বামী এই এলাকার কমিশনার ছিলেন একসময় এবং যার ভাই ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন একসময়, তার নেতৃত্বে ধ্বংসযজ্ঞ, লুটতরাজ, একটা মবতন্ত্র কায়েম করা হলো।’

তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সেই সংগ্রামকে সম্মান করি। কিন্তু আমরা দেখলাম তার নেতৃত্বে ধ্বংসযজ্ঞ, লুটতরাজ ও মবতন্ত্র কায়েম করা হলো।’

রাড্ডা সেন্টারের ভেতরের পরিস্থিতি তুলে ধরে এনসিপির এই নেতা বলেন, ওষুধ, ইনজেকশন ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পর্যন্ত লুট করে নেওয়া হয়েছে। দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য রাখা টিকাও লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাড্ডা সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রায় পাঁচ দশক ধরে দরিদ্র ও অসহায় মা ও শিশুদের বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি সেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে জমিটির সামনে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’-এর সাইনবোর্ড টানিয়ে দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মবতন্ত্রের বিরুদ্ধে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পরে বলেছেন, বাংলাদেশে আজ থেকে মবতন্ত্রের কবর রচনা করা হলো। কিন্তু আমরা কী দেখলাম?’

তিনি বলেন, ‘মবতন্ত্র দিয়ে ঠিক তিনটি জায়গায় দুই দিনের মধ্যে একটা স্বাস্থ্যসেবা ক্লিনিক, একটা স্টুডিও আরেকটা প্রতিষ্ঠানের কবর রচনা করা হলো। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কারা? আমরা দেখলাম সিসিটিভি ক্যামেরায় পুলিশ এসে দাঁড়িয়েছিল।’

রাড্ডা সেন্টারের ভবন এক্সকাভেটর দিয়ে ভাঙার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখানে এক্সকাভেটর, ট্রাক আনা হয়েছে। একটা এক্সকাভেটর যখন আসে, পুলিশের স্বাভাবিক কার্যক্রম কী হওয়া উচিত? এই এক্সকাভেটরের এখানে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করার অনুমতি আছে কি না, সেটি দেখা।’

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘ঢাকা শহরে আমি যদি আমার বাড়িও ভাঙতে চাই এক্সকাভেটর দিয়ে, আমার পুলিশের অনুমতি নিতে হয়, সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিতে হয়। তো পুলিশ এখানে এসে মবতন্ত্র কায়েম করতে পারে, এটা নিশ্চিত করেছে। যখন ভাঙচুর শুরু হয়েছে, তখন পুলিশ এখান থেকে হেঁটে চলে গেছে।’

ঘটনার পর পুলিশের তৎপরতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন এসে দেখলাম প্রবেশপথে পুলিশ, ভেতরে পুলিশ। বাংলা ছায়াছবিতে একটা বিষয় আছে না, ঘটনা ঘটার পরে পুলিশ আসছে। তো এখানেও ঘটনা ঘটার পরে পুলিশ এসেছে পরিদর্শন করতে।’

রাড্ডা সেন্টার এবং ইসিবি এলাকায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় ‘নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি’ গঠনের দাবি জানান আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘যারা এটার সঙ্গে জড়িত, যারা দায়িত্বে অবহেলা করেছে, সবাইকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এই ঘটনা বিএনপির এমপি, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, স্থানীয় পুলিশ সবার ঐক্যবদ্ধ এবং সংঘটিত একটা অপরাধ।’

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘যদি আপনারা কোনো ধরনের বিচার এবং ব্যবস্থা দ্রুত সময়ের মধ্যে না নেন, তাহলে আমরা মনে করব, এটা প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সবাই অবগত আছেন এবং সবাই এটার ভাগ পাবেন।’

একই সঙ্গে রাড্ডা সেন্টার ও সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

আরও পড়ুন

×