ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাহাড়ি নারীদের জন্য পাহাড়সম ভালোবাসা

পাহাড়ি নারীদের জন্য পাহাড়সম ভালোবাসা
×

খাগড়াছড়ির দরিদ্র কিন্তু হস্তশিল্পে পারঙ্গম নারীদের কাপড় বোনার জন্য সুতো, মোড়ার জন্য বেত উপহার দিয়েছেন অধ্যাপক ফেরদৌসী পারভিন সমকাল

 খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬ | ০৬:৫৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

পেশায় তিনি শিক্ষক। বাস করেন পাহাড় থেকে শত কিলোমিটার দূরে সমতলে। কিন্তু তাঁর মন পড়ে থাকে পাহাড়ের ছিন্নমূল নারীদের কাছে। ২০২১ সালে অবসর গ্রহণের পর পার্বত্য চট্টগ্রামের নারীদের জন্য তিনি গড়ে তুলেছেন ‘মাত্রা’ নামের একটি সংগঠন। ‘নারীর স্বস্তির যাত্রা’ স্লোগানে সেই সংগঠনের ব্যানারে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নে পাহাড়ের নারীদের স্বাবলম্বী করতে কাজ করে যাচ্ছেন গাজীপুর সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফেরদৌসী পারভিন। অবসর ভাতার প্রতিটি টাকা পাহাড়ের নারীদের জন্য ব্যয় করেন তিনি। পাহাড়ি ও বাঙালি–উভয় সম্প্রদায়ের দরিদ্র, কিন্তু হস্তশিল্পে পারঙ্গম নারীদের কাপড় বোনার জন্য সুতা, মোড়া তৈরির জন্য প্লাস্টিক বেত, সেলাই মেশিনসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ দেন তিনি। 
‘মাত্রা’র উদ্যোগে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের মধ্যে হুইলচেয়ার, এতিমখানা ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোরআন শরিফ এবং চাল ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। ২০২১ সাল থেকে এ পর্যন্ত খাগড়াছড়ির প্রায় এক হাজার ৭০০ জন অসচ্ছল নারী ও পরিবারের মাঝে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা সামগ্রী বিতরণ করেছে ‘মাত্রা’।
  আশির দশকের শুরুতেই পাহাড়ের মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে শিক্ষক ফেরদৌসী পারভিনের। স্বামীর কর্মস্থল রাঙামাটির বিলাইছড়িতে থাকার সময় পাহাড়ের মানুষের জীবনসংগ্রাম খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান তিনি। পরবর্তী সময়ে ২০১৬ সালে সাজেক ভ্রমণ এবং ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন জনপদ ঘুরে পাহাড়ের মানুষের করুণ জীবন প্রত্যক্ষ করেন তিনি। অবসরজীবনে পাহাড়ের নারীদের জন্য কিছু করার দৃঢ় সংকল্প নেন তিনি।
অধ্যাপক ফেরদৌসী পারভিন বলেন, ‘পাহাড়ের নারীরা পিছিয়ে থাকে কেবল সুযোগের অভাবে। সহানুভূতি নয়, দক্ষতা ও উপকরণ দিলে একজন নারী নিজেই নিজের ভাগ্য গড়ে নিতে পারেন। 
অনেক নারীর হাতের কাজে দক্ষতা রয়েছে, কিন্তু পুঁজির অভাবে তারা উদ্যোক্তা হতে পারছেন না। সেই জায়গাটুকু পূরণ করাই ‘মাত্রা’-র মূল লক্ষ্য।’
তিনি বলেন, ‘থামি–রিনাই-রিসা বয়ন, কোমরতাঁত, কারুকাজ কিংবা সেলাই–এসব ঐতিহ্যইপাহাড়ের নারীদের শক্তি। আমরা শুধু সেই শক্তিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর অবসরভাতার প্রতিটি টাকা আমি পাহাড়ের অসহায় ও অবহেলিত নারীদের জন্য ব্যয় করছি। এটি কোনো দান নয়, এটি আমার সামাজিক দায়িত্ব। যতদিন বেঁচে থাকব, এই মানবিক কাজ অব্যাহত রাখব।’’
সেলাই মেশিন পাওয়া আল্পনা চাকমা বলেন, ‘সেলাইয়ের কাজ জানতাম, কিন্তু মেশিন কেনার সামর্থ্য ছিল না। মাত্রা থেকে সেলাই মেশিন পেয়ে মনে হলো নতুন করে জীবন শুরু করতে পারব। এই মেশিন এখন শুধু কাজের উপকরণ নয়, এটি আমাদের আত্মবিশ্বাস।’
 

আরও পড়ুন

×