ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

'কানাডায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের বাজার ধরতে চাই সরকারি উদ্যোগ'

'কানাডায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের বাজার ধরতে চাই সরকারি উদ্যোগ'
×

কানাডা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২০ | ০৩:১৪

কানাডায় বাংলাদেশের জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলারের একটি বাজার তৈরি হয়েছে অপ্রচলিত পণ্যের। বাংলাদেশ চাইলে এ বাজারটা পেতে পারে। সেজন্য বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারের নীতিগত সহায়তা বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান অর্থনীতিবিদ ও উদ্যোক্তারা নতুন এ বাজারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী এবং সরকারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

কানাডার বাংলা পত্রিকা 'নতুন দেশ'-এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগরের সঞ্চালনায় টরন্টোর স্থানীয় সময় বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত 'শওগাত আলী সাগর লাইভে' তারা এ মত প্রকাশ করেন। 

আলোচনায় অংশ নেন আলবার্টার অ্যাডমন্টন ম্যাকইউয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রাফাত আলম, কানাডার মূলধারার বড় স্টোরগুলোতে বাংলাদেশি পণ্যের সরবরাহকারী শেখ সাদ আলম এবং নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা রাফি সাইয়িদ। 

ব্যবসায়ী শেখ সাদ আলম বলেন, 'কানাডায় দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসী বাড়ছে। একই সঙ্গে মুসলিম দেশগুলো থেকেও রাজনৈতিক আশ্রয় এবং অভিবাসন নিয়ে কানাডায় আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে কানাডার মূলধারার স্টোরগুলো হালাল খাদ্য এবং দক্ষিণ এশিয় প্রক্রিয়াজাত খাদসামগ্রীর চাহিদা বাড়ছে।' 

নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'লব ল, মেট্টোর মতো স্টোরগুলো দক্ষিণ এশিয় পণ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৬/৭ গুণ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ওয়াল মার্ট এবং ডলার স্টোরগুলোও এ ধরনের পণ্যের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। ফলে তৈরি পোশাক বা চামড়াজাত পণ্যের বাইরে অপ্রচলিত পণ্যের বিশাল একটি বাজার তৈরি হয়েছে।'

শেখ সাদ আলম জানান, তিনি এখন কানাডার মূলধারার স্টোরগুলোতে এই ধরনের পণ্য সরবরাহ করছেন। কিন্তু চাহিদামতো পণ্যের যোগান দিতে হলে আরও মানুষের সম্পৃক্ত হওয়া দরকার।  আগামী পাঁচ বছরে কেবল বাংলাদেশি হিমায়িত এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসামগ্রীরই এক বিলিয়ন ডলারের একটি বাজার তৈরি করা সম্ভব বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 অর্থনীতিবিদ ড. রাফাত আলম বলেন, 'বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই এথনিক ডায়াস্পোরার হাত ধরে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন পণ্যের বাজার তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের বড় বড় কোম্পানিগুলোও বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওপর ভিত্তি করেই তাদের পণ্যসামগ্রী সরবরাহ করছে। কানাডার জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশই ভিজিবল মাইনরিটি। তাদের প্রায় সবারই পছন্দের শীর্ষে প্রক্রিয়াজাত বা হিমায়িত খাদ্যসামগ্রী। কানাডায় বাংলাদেশি অপ্রচলিত পণ্যের বাজার তৈরি হলে প্রতিবেশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও এখান থেকে পণ্য যাবে।'

 অর্থনীতিবিদ ড. রাফাত আলম বলেন, 'কানাডার বাজারে পণ্য নিয়ে ঢুকতে হলে অবশ্যই গুণগত মান, প্যাকেজিং এগুলোর দিকে নজর দিতে হবে। কানাডিয়ানরা এ ব্যাপারে খুবই সতর্ক।' কানাডায় বাংলাদেশের অপ্রচলিত পণ্যের বিশাল সম্ভাবনা স্বীকার করে এ ব্যাপারে সরকারকে এগিয়ে আসার পরামর্শ দেন তিনি। বলেন, 'সরকারি উদ্যোগ থাকলে কানাডার সরকার, নীতি নির্ধারক এবং ব্যবসায়ী সবাই আস্থা পাবে।  আগামী কয়েক বছর পর বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের অবস্থা থেকে বেরিয়ে যাবে। তার আগেই কানাডার বাজার দখরের জন্য প্রয়োজনীয় সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি সম্পাদনের উদ্যোগ নেওয়া দরকার।'

 কানাডার মূলধারায় বাংলাদেশি পণ্য জনপ্রিয় করে তোলার জন্য নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তরুণ উদ্যোক্তা রাফি সাইয়িদ বলেন, 'গুণগত মান এবং উৎকর্ষতা নিশ্চিত করেই আমরা কানাডার বাজারে বিভিন্ন ধরনের পণ্য সরবরাহ করছি। ফলে সামগ্রীকভাবে বাংলাদেশি পণ্যের ব্যাপারে কানাডিয়ানদের আগ্রহ বাড়ছে।'

 নতুনদেশ-এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর বলেন, 'কানাডার বাইরে আমেরিকা, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেখানেই বাংলাদেশিদের বসবাস, সেখানেই এ ধরনের অপ্রচলিত পণ্যের বাজার বিস্তৃতি পেতে পারে। এ ব্যাপারে উদ্যোগী হবার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বাান জানাই।' 

তিনি আরও বলেন, 'তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্য বরাবরই সরকারের বড় ধরনের সহায়তা পেয়েছে। এখন অপ্রচলিত ভোগ্যপণ্যের দিকেও নজর দেওয়া দরকার।'

আরও পড়ুন

×