আমিরাতে লকডাউনের জের টানছে বাংলাদেশি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো
ফাইল ছবি
কামরুল হাসান জনি, ইউএই
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২০ | ১০:০৭ | আপডেট: ০২ জুলাই ২০২০ | ১০:০৯
তেলসমৃদ্ধ দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় এগিয়ে আছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর লকডাউন খুলে দেওয়ায় আবারও বাড়তে শুরু করেছে এই দু'টি সেক্টরের কর্মব্যস্ততা। তিনমাসের দীর্ঘ লকডাউনে শ্রমিকদের বেতন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ে জের টানছে দুই সেক্টরের বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো।
বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক বাংলাদেশি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তারা জানান, শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে আবারও কর্মব্যস্ত হতে শুরু করেছে নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা। তবে স্বাস্থ্যবিধি ও করোনাকালীন আইনের কঠোরতা থাকায় শতভাগ শ্রমিক কাজে পাঠাতে পারছে না দেশটির নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ না থাকায় শ্রমিকদের বেতন বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন দপ্তরে জমে গেছে এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনের বিবরণী।
খলিফা মোহাম্মদ হুসাইন জেনারেল কন্ট্রাক্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুর হোসেন সুমন বলেন, 'লকডাউন থাকায় শ্রমিকরা পুরোপুরি কাজে যেতে পারেনি। বর্তমানে স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী ৩২ সিটের একটি বাসে ১৬ জন করে শ্রমিক কাজে পাঠাচ্ছি আমরা। এতে করে খরচ দ্বিগুণ হচ্ছে। বিভিন্ন দপ্তরের আর্থিক হিসাব বিবরণীগুলো আটকে থাকায় শ্রমিকদের বেতন নিয়মিত দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।'
আবুধাবির এক্সিলেন্ট মডেল কন্ট্রাক্টিং অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট ম্যানেজমেন্ট এলএলসি'র ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল বাশার সমকালকে বলেন, 'করোনাকালীন তিন মাসের লকডাউন আমাদের ব্যবসায় স্থবিরতা এনে দিয়েছে। লকডাউন খুলে গেলেও অনেকের আয়ের পথ পুরোপুরি সচল হয়নি। আয়হীন প্রবাসীদের মলিন চেহারা দেখে ভাড়ার টাকা তুলতে পারছি না। এমনকি কারো কারো দেওয়া ব্যাংক চেক বাউন্সের ঘটনাও ঘটছে।'
এদিকে আগামী ৬ জুলাই থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আমিরাতের সঙ্গে স্বাভাবিক ফ্লাইট চালুর ঘোষণা দিয়েছে। দেশে আটকে পড়া প্রবাসীরাও আমিরাত ফেরার জন্য অপেক্ষা করছে। তাদের মধ্যে নির্মাণ শ্রমিকদের তালিকাটা দীর্ঘ। তবে শুধু অনলাইনে করা আবেদনের মাধ্যমে অনুমতি পাওয়া প্রবাসীরাই আপাতত স্বাভাবিক ফ্লাইটে আমিরাতে ফিরতে পারবেন। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে আটকে পড়া প্রবাসীদের পরামর্শ দিচ্ছে দেশটিতে থাকা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো।
নির্মাণ প্রতিষ্ঠান আল শিহাব গ্রুপ অব কোম্পানির পরিচালক খন্দকার আমির হামজা বলেন, 'স্বাভাবিক ফ্লাইট চালু হচ্ছে শিগগিরই। প্রবাসীরা দ্রুত ফিরতে পারবেন। তবে প্রত্যেকের করোনা পরীক্ষার মাধ্যমে নেগেটিভ সার্টিফিকেট পেলে তবেই আমিরাতে ফিরে আসা উচিত হবে। কারণ আমিরাতে করোনা অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এখন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ও রিয়েস এস্টেট ব্যবসায়ীসহ কাজে ফেরা প্রবাসীদের আবারও সুদিন আসবে।'
- বিষয় :
- আরব আমিরাত
- প্রবাস