ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভার্জিনিয়ায় আয়োজন ও বিষয় বৈচিত্র্যে মুগ্ধ করল বাংলা সাহিত্য উৎসব

ভার্জিনিয়ায় আয়োজন ও বিষয় বৈচিত্র্যে মুগ্ধ করল বাংলা সাহিত্য উৎসব
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬ | ১৬:৪৬ | আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬ | ১৬:৫৩

ভার্জিনিয়ার ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো বহুল প্রতীক্ষিত ‘বাংলা সাহিত্য উৎসব ২০২৬’। ‘কবিতার সাথে’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসব সাহিত্য, সংস্কৃতি, সংগীত, নাটক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।

মূল আয়োজন ৩০ মে অনুষ্ঠিত হলেও ২৯ মে সন্ধ্যায় প্রারম্ভিক পর্বের মধ্য দিয়েই উৎসবের আবহ তৈরি হয়। গান, কবিতা পাঠ, নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন এবং সাহিত্য আড্ডায় মুখর হয়ে ওঠে আয়োজনস্থল। এদিন নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনে ফরহাদ হোসেন, ড. হাসান মাশরিকী, অনামিকা নেওয়াজ, আবু লিয়াকত হোসাইন, ডা. গৌতম দত্ত ও সামছুদ্দীন মাহমুদ বই নিয়ে ছিলেন মঞ্চে। আর উন্মোচন করেন আনোয়ার ইকবাল কচি, কবিতা দিলাওয়ার, রোকেয়া হায়দার, সাদাত হোসাইন, আহমাদ মাযহার ও সরকার কবির উদ্দিন। কবিতা পাঠ করেন ভার্জিনিয়া পপি, ইনশা হক, মাহমুদ মেনন, ড. তানজিনা নওশিন, সৈয়দ হাই ও ফরিদা ইয়াসমিন। সঞ্চালনায় ছিলেন অ্যান্ড্রু বিরাজ।  

পরদিন সকাল থেকেই উৎসবস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন সাহিত্যপ্রেমীরা। প্রধান আয়োজক কবিতা দিলাওয়ার ও আনোয়ার ইকবাল কচির নেতৃত্বে একটি বড় স্বেচ্ছাসেবী দল আয়োজনকে সফল করতে নিরলসভাবে কাজ করেন। নেপথ্যে ছিলেন দিলাওয়ার হোসেন এবং মঞ্চ, শব্দ ও আলোকসজ্জার দায়িত্বে ছিলেন জামিল আহমেদ।

উৎসবের উদ্বোধন হয় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে। পরে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও ফিতা কেটে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি লেখক ও কবি সাদাত হোসাইন। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, লেখক আহমেদ মাজহার, অভিনেত্রী শিরিন বকুলসহ আরও অনেকেই। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইকবাল বাহার চৌধুরী, রোকেয়া হায়দার, ড. আবদুন নূর, আবুবকর হানিপ, আনিস খান, একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী রোকেয়া সুলতানা, কবি তারফিয়া ফয়জুল্লাহসহ অনেকে। ভার্জিনিয়া স্টেট সিনেটের পক্ষ থেকে বাংলা সাহিত্য উৎসবকে স্বীকৃতি জানিয়ে একটি বিশেষ সিনেট রেজুলেশন স্মারক তুলে দেন স্টেট সিনেটর সাদ্দাম আজলান সেলিম। 

সারাদিনজুড়ে ছিল গীতি-আলেখ্য, আলোচনা, নৃত্য, কবিতা পাঠ, বই আলোচনা, আবৃত্তি, নাটক ও সংগীত পরিবেশনা। ‘আবহমান এই বাংলায়’ শিরোনামের গীতি-আলেখ্য পরিবেশন করে ‘ইছামতি’। জীবনানন্দ দাশের কবিতার সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে সৃষ্টি নৃত্যাঙ্গন।

বাংলা সাহিত্যের আন্তর্জাতিক বিস্তার নিয়ে আলোচনা করেন আহমেদ মাযহার। সঞ্চালনায় ছিলেন ড. আমীনুর রহমান। উৎসবে বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘নতুন বই: লেখক-আলোচক মুখোমুখি’ পর্ব, যেখানে বিভিন্ন লেখকের নতুন বই নিয়ে আলোচনা হয়।

উৎসবে অংশ নেয় দেশের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বাতিঘর, অন্যপ্রকাশ, ইউপিএল ও মুক্তধারা। ‘লেখকের প্রশ্ন, প্রকাশকের উত্তর’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন শামারুখ মহিউদ্দিন, রাশেদ জাফর আহমেদ, অনামিকা নেওয়াজ, বিশ্বজিৎ সাহা ও মজিবর রহমান খোকা।

‘শব্দের দীপাবলি’ পর্বে নিজস্ব কণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন সাদাত হোসাইন, তারফিয়া ফয়জুল্লাহ, এইচ বি রিতা, মোস্তফা তানিম, আনোয়ার ইকবাল, ড. আমীনুর রহমান, আনিস খান, আহসান জামান, কুলসুম আক্তার সুমি, আহমেদ সায়েম, ফাতেমা সিদ্দিক, গৌতম দত্ত, অনামিকা নেওয়াজ ও ইশতিয়াক রুপু।

উৎসবে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাহিত্যের ভবিষ্যৎ’, ‘নতুন মাটি, নতুন ভাষা’ এবং ‘কলমের দুই ধারা: সাহিত্য ও সাংবাদিকতা’ শীর্ষক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসব আলোচনায় অংশ নেন মোস্তফা তানিম, শামারুখ মহিউদ্দিন, ডা. গৌতম দত্তসহ আরও অনেকে।

সংগীত পরিবেশন করেন মাহদিয়া ইশাল, ক্লেমেন্ট স্বপন গোমেজ, শেখ মাওলা মিলন, ড. ফয়সল কাদের এবং সবশেষে রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী অদিতি মহসিন। আবৃত্তি পরিবেশন করে সমস্বর ও আবৃত্তিকথা। মঞ্চস্থ হয় শ্রুতি নাটক ‘রক্তকরবী’, যেখানে অংশ নেন অভিনেত্রী শিরিন বকুল ও রেজা অনিরুদ্ধ।

অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে অতিথি, লেখক, কবি ও আলোচকদের সম্মাননা ও উত্তরীয় প্রদান করা হয়। দিনব্যাপী সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার উৎসবে মুগ্ধ হন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা।

দিনশেষে অদিতি মহসিনের কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘তবু মনে রেখো’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পর্দা নামে বাংলা সাহিত্য উৎসব ২০২৬-এর। সফল ও সুশৃঙ্খল এই আয়োজন আগামী বছর আরও বৃহত্তর পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আরও পড়ুন

×