বাঁশঝাড়ে কাঁদছিল নবজাতক, দেখে বাড়িতে নিয়ে এলেন কৃষক
শেফালী খাতুনের কোলে নবজাতক শিশুটি। ছবি - সমকাল
ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:২৯ | আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:৪১
বগুড়ার ধুনটে বাঁশঝাড় থেকে এক বেওয়ারিশ নবজাতক ছেলে শিশু উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার সকালে গোশাইবাড়ি ইউনিয়নের পূর্বগুয়াডহরী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নবজাতককে এক নজর দেখতে স্থানীয়দের ভিড় জমে যায়। পরে শিশুটিকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
পূর্বগুয়াডহরী গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান জানান, সোমবার সকাল ৮টার দিকে ধুনট-গোশাইবাড়ি সড়কের মসজিদসংলগ্ন বাঁশঝাড়ে গোখাদ্যের জন্য বাঁশপাতা সংগ্রহ করতে যান তিনি। এ সময় বাঁশঝাড়ের ভেতর থেকে নবজাতকের কান্নার শব্দ শুনতে পান। পরে সেখানে গিয়ে একটি নবজাতক ছেলে শিশুকে পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি শিশুটিকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
শিশুটিকে পেয়ে মিজানুর রহমানের স্ত্রী শেফালী খাতুন পরম মাতৃস্নেহে তাকে বুকে আগলে নেন। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে মিজান-শেফালী দম্পতির বাড়িতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। এলাকাবাসীর ধারণা, কেউ হয়তো নবজাতকটিকে সেখানে রেখে গেছে।
পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় শেফালী খাতুন শিশুটিকে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তাঁর মাতৃস্নেহ ও পরিচর্যায় শিশুটি সুস্থ আছে এবং স্বাভাবিকভাবে খাবার গ্রহণ করছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
শেফালী খাতুন বলেন, ‘দাম্পত্য জীবনে আমার চার মেয়ে সন্তান রয়েছে। আমার ছেলে সন্তান নেই। তাই আল্লাহ আমাকে একটি ছেলে সন্তান দিয়েছেন। আমি সকাল থেকেই কুড়িয়ে পাওয়া নবজাতককে পরম মাতৃস্নেহে আদর-যত্ন করছি। আমি এই শিশুকে মাতৃস্নেহে লালন-পালন করতে চাই।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজ্জাদ কদির বলেন, ‘নবজাতক শিশুটি সুস্থ ও স্বাভাবিক আছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সদস্যসচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবদুল্লাহেল কাফি বলেন, নবজাতক উদ্ধারের বিষয়টি জানার পর শিশু কল্যাণ বোর্ডের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। শেফালী খাতুন শিশুটিকে মাতৃস্নেহে পরিচর্যা করছেন। তিনি শিশুটিকে লালন-পালন করতে চাইলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, উদ্ধার হওয়া শিশুটির বাবা-মা পাওয়া যায়নি। কোনো ব্যক্তি শিশুটিকে লালন-পালন করতে চাইলে উপজেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শেফালী খাতুন শিশুটির পরিচর্যা করছেন এবং তিনি নিতে চাইলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁকেও বিবেচনা করা হবে।