নওগাঁয় ৫৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনে ফাটল, ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান
ছবি: সমকাল
রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:৩৪
নওগাঁর রাণীনগরে ১০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অন্তত ৫৩টি বিদ্যালয় ভবনের বিম ও দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা। আবার কোনো কোনো ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই সেখানে পাঠদান চলছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার ১০০টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। এর মধ্যে ২৫টি বিদ্যালয়কে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জোনাব আলী।
সরেজমিন পিরেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির ভবন নির্মাণ করা হয় ১৯৯৬ সালে। ভবন নির্মাণের ৩০ বছর না পেরোতেই সেটিতে জরাজীর্ণ অবস্থা দেখা দিয়েছে। প্রধান শিক্ষক মাহাতাব হোসেন বলেন, গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর উপজেলা প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় পুরো ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। তবে দীর্ঘ ১০ মাসেও বিকল্প ভবন বা ব্যবস্থা না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে ওই ভবনেই পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
রাণীনগরের ৩৮ নম্বর কসবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের দুটি শ্রেণিকক্ষ অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করে তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে টিনের ছাউনির একটি ঘরে পাঠদান চলছে। এ ছাড়া আরেকটি ভবনের কক্ষে দেয়ালে ফাটল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়লেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই সেখানে পাঠদান চালাতে হচ্ছে।
ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তারের বাবা মহসিন আলী বলেন, মাথার ওপর ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ কারণে কয়েকদিন সন্তানকে বিদ্যালয়ে যেতে দেননি। পরে শিক্ষকদের অনুরোধে পাঠালেও সন্তান বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত আতঙ্কে থাকতে হয়। শিশুদের নিরাপত্তায় দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জোনাব আলী বলেন, ২৫টি বিদ্যালয়কে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে তালিকা পাঠানো হয়েছে। অন্য বিদ্যালয়গুলোও পরিদর্শন করে নতুন তালিকা তৈরি ও সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ধরণ অনুযায়ী ৫৫টি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নকাজের জন্য তালিকা করা হয়েছে। তালিকার বাইরে থাকা বিদ্যালয়গুলোও পর্যায়ক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পিরেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে টিনের বেড়া দিয়ে বিকল্প পাঠদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
- বিষয় :
- বিদ্যালয়
- ঝুঁকিপূর্ণ ভবন
- নওগাঁ