ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যন্ত্রপাতি আমদানিতে পোশাক খাতের মতো সুবিধা চাই

সাক্ষাৎকার

যন্ত্রপাতি আমদানিতে পোশাক খাতের মতো সুবিধা চাই
×

মো. নাছিরুল আলম ব্যবস্থাপনা পরিচালক পলি প্ল্যান লিমিটেড

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৪ | ২৩:৫৮

সমকাল : বর্তমানে দেশে কত কারখানায় অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। এ খাতে বিনিয়োগের আকার কেমন?
মো. নাছিরুল আলম : এক সময় অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং পণ্য আমদানি করা হতো। বর্তমানে আমদানি নির্ভরতা কাটিয়ে এবং স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি করা হচ্ছে– যা  দেশের উদ্যোক্তাদের পরিশ্রম, সাধনা ও বিনিয়োগের ফসল। দেশে দেড় হাজারের বেশি কারখানায় এসব পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। প্রতিবছর প্রায় ১০০ নতুন কারখানা যুক্ত হচ্ছে। এর সুবাদে এ খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। মূল্য সংযোজন হয়েছে ৪০ শতাংশের মতো। প্রচ্ছন্ন রপ্তানি ছাড়াও পাকিস্তান, মরক্কো, ভারত, চীন, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে সরাসরি অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। এ রপ্তানির পরিমাণ বছরে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি।  
 

সমকাল : আপনারা বলছেন, গার্মেন্টস শিল্পকে পেছন থেকে নীরবে সহযোগিতা করছে অ্যাকসেসরিজ খাত। কিন্তু এ খাতের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি পাচ্ছেন না। কেন এ পরিস্থিতি?  
 

মো. নাছিরুল আলম : সরকারের সঙ্গে দেনদরবার করার ক্ষেত্রে এ খাতের সংগঠনের দুর্বলতা রয়েছে। দাবিদাওয়া আদায়ে শক্তিশালী নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। ফলে আমাদের অবদান সবার কাছে তুলে ধরা সম্ভব হয়নি, যথাযথ স্বীকৃতিও মেলেনি।
 

সমকাল: বিজিএপিএমইএর নির্বাচন সামনে। নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনার মতামত কী?
 

মো. নাছিরুল আলম: ৩৩ বছর পর বিজিএপিএমইএতে প্রথমবারের মতো সরকারি প্রশাসনের অধীনে আগামী ১১ মে সরাসরি নির্বাচন হতে যাচ্ছে। সদস্যরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে যোগ্যদের নির্বাচিত করে একটি শক্তিশালী ও কার্যকরী কমিটি গঠন করবে। কারণ সঠিক নেতৃত্ব না থাকায় এ খাত বেশ ইমেজ সংকটে পড়েছে। তাই রপ্তানির মাধ্যমে টেকসই অর্থনীতির ভিত্তি স্থাপনে এ খাতে সুশৃঙ্খল ও যোগ্য নেতৃত্ব দরকার। 
সমকাল : ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে আপনারা কোনো প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন? এ ব্যাপারে কী সহায়তা প্রত্যাশা করেন? 
মো. নাছিরুল আলম : ব্যাংক থেকে ঋণে ডাবল ডিজিটের সুদের হার আমাদের জন্য খুবই বিপজ্জনক। কভিড-পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে পণ্যের রপ্তানি মূল্য অনেক কমে গেছে। তাই ১৩ শতাংশ সুদ দিয়ে ব্যবসা করা অসম্ভব। মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে পোশাক ও বস্ত্র খাতের মতো আমাদেরকেও অগ্রাধিকারমূলক ও কম সুদে ঋণ দিতে হবে।  
 

সমকাল : বর্তমান ডলার সংকট ও মূল্যবৃদ্ধিতে আপনাদের কাঁচামাল আমদানিতে কোন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে?
 

মো. নাছিরুল আলম : ডলার সংকট অনেকটা কৃত্রিম। কারণ আমাদের অর্জিত ডলার বিভিন্ন ব্যাংক অন্যান্য খাতে ব্যয় করায় আমরা সময়মতো কাঁচামাল আমদানি করতে পারছি না। সরকারের উচিত রপ্তানিমুখী শিল্প অ্যাকসেসরিজ খাতের জন্য অতিরিক্ত ডলার মজুত করে আমদানিতে সহায়তা করা। যাতে উৎপাদন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত না হয়। 
 

সমকাল : নতুন রপ্তানি নীতিতে অ্যাকসেসরিজ খাতের জন্য কি থাকা উচিত মনে করেন?
 

মো. নাছিরুল আলম : রপ্তানি নীতিতে ‘পোশাক খাত’ অধ্যায়ে গার্মেন্টস, নিটওয়্যার ও টেক্সটাইলের সঙ্গে গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ যুক্ত করতে হবে। মূলধনি যন্ত্র আমদানিতে শুল্ক ছাড় এবং যন্ত্রাংশ আমদানি শুল্কমুক্ত করতে হবে। এ ছাড়া নিরবচ্ছিন্ন কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স সুবিধা, কাস্টমসের একক সেল, কাস্টমস শুল্কের স্ব-মূল্যায়ন, চীনের মতো রপ্তানির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারমূলক ডলার বিনিময় হার, রপ্তানিকারকদের জন্য বিদ্যুতের মূল্যহ্রাস, মেশিন এবং কাঁচামাল আমদানির জন্য আর্থিক সহায়তার বিষয় যুক্ত করতে হবে।
 

সমকাল : বিনিয়োগ ও পণ্য রপ্তানির সমস্যা সমাধানে আসন্ন বাজেটে কী ধরনের শুল্ক ও কর কাঠামো প্রণয়ন করা দরকার?
 

মো. নাছিরুল আলম : চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এ খাতের উৎপাদন বাড়ছে। ফলে অ্যাকসেসরিজ আইটেমের পরিধিও বড় হচ্ছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন মেশিনারিজ আমদানি করতে হয়। তাই যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক হ্রাস ও খুচরা যন্ত্রাংশকে শুল্কমুক্ত করার অনুরোধ জানাচ্ছি। এ ছাড়া বন্ড অ্যাকসেসরিজ প্রস্তুতকারকদের জন্য ৫ শতাংশ করপোরেট কর এবং পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য উৎসে কর শূন্য করার জোর দাবি করছি। অনেক সময় বায়ারদের নির্ধারিত সময়ে তৈরি পোশাক জাহাজীকরণ করা যায় না। তাই লিডটাইম ও উৎপাদন ব্যয় কমানোর মাধ্যমে পোশাকসহ অন্যান্য খাতের রপ্তানি সক্ষমতা অব্যাহত রাখতে পোশাকের মতো এ খাতকে সমান সুবিধায় বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা দিতে হবে।
 

সমকাল : বর্তমান রপ্তানি বাণিজ্যে কী ধরনের প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছেন আপনারা? এগুলো মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নেওয়া দরকার?
 

মো. নাছিরুল আলম : প্রতিযোগী সক্ষম রাখতে অ্যাকসেসরিজ খাতের উন্নয়ন প্রয়োজন। সে জন্য এ খাতের পণ্যের মান উন্নয়ন, পণ্যের বহুমুখীকরণ ও বৈচিত্র্য আনতে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। নতুন বাজার সৃষ্টির জন্য এ খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ও প্রদর্শনীতে সহজে যোগদানের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনীয় কাঁচামাল এখনও চীন ও অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এসব কাঁচামাল দেশে উৎপাদন করতে না পারলে সময়মতো পোশাক শিল্পে সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিংয়ের যেসব পণ্য দেশে উৎপাদন হয়, দেশীয় শিল্প সংরক্ষণের লক্ষ্যে সেসব পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করতে হবে। উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের কারণে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা উঠে গেলে রপ্তানিতে প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হবে। সে জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।
 সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জসিম উদ্দিন বাদল

আরও পড়ুন

×