মাস্টারকার্ডের গবেষণা
এআই ব্যবহারে ঝুঁকছে এশিয়ার এসএমই খাত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
ব্যবসার প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো (এসএমই) ক্রমে ডিজিটাল টুল, নতুন ধরনের পেমেন্ট পদ্ধতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে নিজেদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও সহজ ও সমন্বিতভাবে পরিচালনার প্রয়োজনও অনুভব করছে এসব প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি মাস্টারকার্ডের ‘ড্রিমোনমিক্স’ নামে গবেষণা রিপোর্টে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ৭৪ শতাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। ৬১ শতাংশ প্রতিষ্ঠান নিয়মিত নতুন ধারণা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। ৬৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ব্যবসার ক্ষেত্রে পূর্বানুমানযোগ্যতা ও স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দেয়। বৈশ্বিক পর্যায়ে এই হার ৬৮ শতাংশ।
অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রবৃদ্ধি এখন আর কে কত প্রযুক্তিনির্ভর তার ওপর নির্ভর করে না। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল টুল, পেমেন্ট পদ্ধতি ও আর্থিক সম্পর্ককে এমনভাবে সমন্বয় করা, যাতে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত শুধু দ্রুত নয়, আরও কার্যকরভাবে নেওয়া যায়।
ড্রিমোনমিক্সের প্রথম প্রতিবেদনটি ২০২৬ সালে ১৮টি দেশের ছয় হাজারেরও বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ওপর পরিচালিত এক জরিপের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের অস্ট্রেলিয়া, চীন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া থেকে এতে এক হাজারেরও বেশি উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধির মতামত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মাস্টারকার্ডের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের কমার্শিয়াল অ্যান্ড নিউ পেমেন্ট ফ্লোজ বিভাগের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যানুস্কা ল্যাডস বলেন, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো পেমেন্টের অবকাঠামো বা অর্থায়নের উৎসের কথা চিন্তা করে না। তারা চিন্তা করে কীভাবে সরবরাহকারীদের অর্থ পরিশোধ করা যায়, নগদ অর্থপ্রবাহ সুন্দরভাবে ব্যবস্থাপনা করা যায় এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম সচল রাখা যায়। প্রতিটি ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের সঙ্গে কোনো না কোনো আর্থিক দিক জড়িত থাকে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন পেমেন্ট ব্যবস্থা প্রয়োজন, যা তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে সত্যিকার অর্থে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে তারা আরও সহজে কার্যকর মূলধনের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে, পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত খাপ খাওয়াতে এবং নতুন প্রবণতা ও গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের মানিয়ে নিতে পারবে।
এশিয়া-প্যাসিফিকের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে গড়ে পাঁচটি ব্যবসায়িক টুল ব্যবহার করে। ৯৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠান অন্তত এমন একটি ব্যবসায়িক টুল গ্রহণে আগ্রহী, যা তারা বর্তমানে ব্যবহার করছে না। বৈশ্বিক পর্যায়ে এই হার ৮৯ শতাংশ।
প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব টুল আরও কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন বাড়ছে। প্রতি চারটির মধ্যে তিনটি, অর্থাৎ ৭৪ শতাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মনে করে সমন্বিত টুল ব্যবসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা ডিজিটাল টুল গ্রহণে আগ্রহী হলেও চায় এসব টুল যেন প্রতিদিনের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে কার্যকর সহায়তা দেয়। ব্যবসায়িক খরচ মেটাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে চার ধরনের পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করে। এর মধ্যে ইলেকট্রনিক ব্যাংক ট্রান্সফার ব্যবহার করে ৫৯ শতাংশ, তাৎক্ষণিক পেমেন্ট ৫৫ শতাংশ, ডেবিট কার্ড ৫২ শতাংশ এবং ক্রেডিট কার্ড ৪৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠান।
আরও সহজ পেমেন্ট ব্যবস্থার চাহিদা
ভারতের চিত্র থেকে বোঝা যায়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রত্যাশা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। ভারতে ৬৩ শতাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রিয়েল-টাইম পেমেন্টে আগ্রহী। আঞ্চলিক পর্যায়ে এই হার ৫১ শতাংশ। আর ৪৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান আরও সহজ ডিজিটাল পেমেন্ট সমাধান গ্রহণে আগ্রহী। ৩৯ শতাংশ নিয়ন্ত্রণের সুবিধা থাকবে এমন একটি সমন্বিত ক্রেডিট/ডেবিট ব্যবসায়িক কার্ডে আগ্রহী।
এসব প্রয়োজন পূরণে মাস্টারকার্ড ও সিটি ইউনিয়ন ব্যাংক ভারতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করছে ‘মাস্টারকার্ড ওয়ান ক্রেডেনশিয়াল’। এর মাধ্যমে উপযুক্ত ভোক্তা ও বাণিজ্যিক পেমেন্ট সম্পর্কগুলো একটি একক ক্রেডেনশিয়ালের আওতায় আনার অভিজ্ঞতা তৈরি করা হচ্ছে। এই প্রথম ভারতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হলো।
বাড়ছে নিরাপত্তার গুরুত্ব
ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সাইবার নিরাপত্তাকে শুধু একটি প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ হিসেবে দেখছে না; বরং ব্যবসার সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। এশিয়া-প্যাসিফিকের ৭০ শতাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মনে করে সাইবার হুমকি থেকে নিজেদের ব্যবসাকে সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্তমানে মাত্র ৩৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান সাইবার নিরাপত্তা টুল ব্যবহার করছে।
ব্যবসার দৈনন্দিন কার্যক্রমেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ছে। প্রায় চারটির মধ্যে তিনটি, অর্থাৎ ৭৪ শতাংশ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী।
- বিষয় :
- মাস্টারকার্ড