ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ক্ষোভে ফুঁসছেন দেশি আম্পায়াররা

ক্ষোভে ফুঁসছেন দেশি আম্পায়াররা
×

নাজমুল হক নোবেল

প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৩ | ০৩:৫৬

একই টুর্নামেন্টে দুই নীতিতে চলছে বিসিবি। বিপিএলে দেশি ও বিদেশি আন্তর্জাতিক প্যানেল আম্পায়ারদের পারিশ্রমিকে বৈষম্য করছে তারা। বিদেশিরা ম্যাচ ফি পাচ্ছেন আন্তর্জাতিক মানের। কিন্তু দেশি আন্তর্জাতিক প্যানেলের আম্পায়ারদের দেওয়া হচ্ছে খুবই কম। অথচ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নিয়মে সব আন্তর্জাতিক আম্পায়ারদের সম্মানী সমান। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল সেখানে ঠকাচ্ছে দেশের আন্তর্জাতিক তিন আম্পায়ারকে। 

এ নিয়ে দেশি আন্তর্জাতিক আম্পায়ারদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। বিসিবি আম্পায়ার্স বিভাগও দেশের আন্তর্জাতিক আম্পায়ারদের কোণঠাসা করে রেখেছে। ফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে ম্যাচ বরাদ্দ দিচ্ছে কম, যেটা বৈশ্বিকভাবে খারাপ বার্তা যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্নিষ্টরা। দেশের আন্তর্জাতিক আম্পায়ারদের উপেক্ষা করার বিষয়টি আইসিসির আম্পায়ার্স বিভাগের নজরেও গেছে। এ ব্যাপারে বিসিবি আম্পায়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ মিঠুর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।

দেশে আন্তর্জাতিক আম্পায়ার চারজন- শরফুদ্দৌলা ইবনে সৈকত, মাসুদুর রহমান মুকুল, গাজী সোহেল ও তানভীর আহমেদ। সৈকত দক্ষিণ আফ্রিকায় নারী অনূর্ধ্ব-১৯ টি২০ বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করছেন। ১ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরে বিপিএলে ম্যাচ পরিচালনা করবেন তিনি। বাকি তিনজন বিপিএলে আম্পায়ারিং করছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টিভি আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে দেশি তিনজনকে। বিদেশি তিন আম্পায়ারকে রাখা হচ্ছে ফিল্ড আম্পায়ারিংয়ে। 

মুকুল ফিল্ড আম্পায়ার ছিলেন চার ম্যাচে। গাজী সোহেল দুই ম্যাচে ফিল্ড আম্পায়ার। সবচেয়ে বেশি ছয় ম্যাচে ফিল্ড আম্পায়ার ছিলেন তানভীর। অথচ বিসিবি প্যানেল আম্পায়ারদের বেশি ম্যাচ দেওয়া হচ্ছে। গুঞ্জন আছে, দেশের চার আন্তর্জাতিক আম্পায়ারকে শিক্ষা দিতেই নাকি এ ব্যবস্থা। তাই কপাল খুলে গেছে আলি ইমরান, মোর্শেদ আলি খানের। এ বিষয়ে বিসিবি আম্পায়ার্স বিভাগের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার ওমর ফারুক অভির ফোনে যোগাযোগ করা হলে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। এ বিভাগের চেয়ারম্যান মিঠুর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি। অনেক চেষ্টার পর মিঠুকে ফোনে পাওয়া গেলেও মিটিংয়ে রয়েছেন বলে কল কেটে দেন। ফিরতি কল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও পরে আর সাড়া দেননি তিনি।

বিপিএলের উদ্বোধনী দিন থেকেই বিদেশি আম্পায়ার নিয়োগ দিয়েছে বিসিবি। শ্রীলঙ্কান আন্তর্জাতিক আম্পায়ার রবীন্দ্র ভিমালাশ্রী প্রথম ম্যাচে টিভি আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইংল্যান্ডের আন্তর্জাতিক আম্পায়ার ডেভিড মিলনস যোগ দেওয়ার পর থেকে টানা ম্যাচ পাচ্ছেন। চট্টগ্রাম পর্ব থেকে যোগ দেন আরও এক শ্রীলঙ্কান আন্তর্জাতিক আম্পায়ার প্রগিথ রাম্বুকওয়ালা। 

বিসিবির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, দেশের আন্তর্জাতিক আম্পায়ারদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য আরও বিদেশি আম্পায়ার আনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ইফতেখার মিঠু। প্যানেল আম্পায়াররা বেকে বসায় শেষ পর্যন্ত সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন তিনি। আম্পায়ার এবং বিসিবির এই টানাপোড়েন মূলত সম্মানী বৈষম্য নিয়ে। একই টুর্নামেন্টে দ্বৈতনীতি ক্ষুব্ধ করেছে দেশিদের। দেশের চার আন্তর্জাতিক আম্পায়ারের লম্বা ক্যারিয়ার। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও আন্তর্জাতিক ম্যাচে ফিল্ড আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করছেন তাঁরা। 

সৈকত নারী বিশ্বকাপে আম্পায়ার ছিলেন। এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ পরিচালনা করে খ্যাতি কুড়িয়েছেন তিনি। গাজী সোহেলও এশিয়া কাপের ম্যাচ অফিসিয়াল ছিলেন। সেখানে দেশের টি২০ টুর্নামেন্ট বিপিএলে উপেক্ষার শিকার তাঁরা। গুণে-মানে এলিট আম্পায়ারদের সমান হলেও বিসিবির উপেক্ষার কারণে আইসিসি আম্পায়ার্স বিভাগের ইচ্ছা থাকলেও প্রমোশন দিতে পারেন না। উল্টো তারা বলে থাকে, বাংলাদেশেই তো আম্পায়ারদের সম্মান নেই, হোম বোর্ড যোগ্য সম্মান দিলে তারাও মূল্যায়ন করবে। বাস্তবতা হলো বিসিবি আম্পায়ারদের মূল্যায়ন করার চেয়ে অবজ্ঞাই করছে সম্মানী নীতিতে বৈষম্য রেখে। 

এ নিয়ে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক, বিসিবির সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরীকে ফোন করে পাওয়া যায়নি। বিপিএলের নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিদেশি এবং দেশি আম্পায়ারদের ম্যাচ ফি ইস্যুতে কথা বলতে রাজি হননি। বিসিবির সিইও সুজনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

আরও পড়ুন

×