ক্যাম্প ন্যুতে আগুন আগে থেকেই জ্বলছিল। লিওনেল মেসির বার্সার ছাড়ার চেষ্টা সেই আগুনে ঢেলেছিল ঘি। পরে মেসি বার্সায় থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু বার্সার আগুন নেভেনি। বরং মেসি আগুনে দিয়েছেন বাতাস। ক্লাব প্রেসিডেন্ট মারিও বার্তামেউয়ের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করেছেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড মেসি। বার্তামেউ তাই আছেন বড় সংকটের সামনে।

মেসির সঙ্গে সম্পর্ক: তিক্ততার একটা মাত্রা আছে। কিন্তু বার্সা প্রেসিডেন্ট বার্তামেউয়ের সঙ্গে দলের সেরা তারকা মেসির তিক্ততা মাত্রা ছাড়িয়েছে। মুখ দেখাদেখি নেই দু’জনের। মুখ দেখাদেখি হবে কি-না বলাও মুশকিল। কাজের প্রয়োজনে দু’জনের কথা-বার্তা হয়তো হবে। কিন্তু সম্পর্কের বরফ গলার সম্ভাবনা খুবই কম।

দলের অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক: শুধু দলের অধিনায়ক মেসি নন অন্যরাও বার্তামেউয়ের ওপর নাখোস। পিকে সরাসরি এ নিয়ে কথা বলেছেন। সুয়ারেজ নাখোস প্রেসিডেন্টের ওপর। দলের অন্যরাও সদয় নন ক্লাব প্রেসিডেন্টের ওপর। করোনায় লিগ স্থগিতের সময় খেলোয়াড়দের মতের এবং প্রস্তাবের বাইরে গিয়ে বেতন কাটা। নতুন মৌসুমে বেতন কাটার ইঙ্গিত দেওয়া সম্পর্ক আরও খারাপ করেছে।

বার্তামেউয়ের প্রতি অনাস্থা এবং ভোট: শুধু বার্সার ফুটবলাররা না, বার্সার সদস্যরাও বার্তামেউয়ের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করেছেন। তারা দ্রুতই ভোট চেয়ে সাক্ষর কর্মসূচি করছেন। মার্চে বার্সার বোর্ড নির্বাচন আছে কিন্তু অনাস্থা ভোটে বার্তামেউ তার আগেই বিদায় হয়ে যেতে পারেন।

বার্সার সাধারণ সভা: সামনেই বার্সার বোর্ডের সাধারণ সভা আছে। বার্তামেউকে অবশ্যই ওই সভায় বোর্ড মেম্বারদের বাস্তবতা বোঝাতে  হবে।  তাদের থেকে ইতিবাচক মত তৈরি করতে হবে। তা না হলে বার্তামেউকে অবশ্যই দায়িত্ব থেকে সরে যেতে এবং মান সম্মান হারিয়েই পদ থেকে সরতে হবে।

আর্থিক কাঠামো: করোনার কারণে বার্সার আর্থিক কাঠামো ভেঙে গেছে। বার্সার করোনার কারণে গত মৌসুমে ক্ষতি হয়েছে ১৫৪ মিলিয়ন ইউরো। শুরু হতে যাওয়া মৌসুমেও বার্সার আর্থিক ক্ষতির জোরালো সম্ভাবনা আছে। কারণ করোনার কারণে এখনও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। এই পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের বেতন না কেটে আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা হবে বার্সার বড় চ্যালেঞ্জ। সেটা বার্তামেউ সামাল দিতে পারবেন কি-না দেখার বিষয়।

বার্সাগেট কেলেঙ্কারি: নিজেদের পদ স্থায়ী করতে বার্তামেউরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বার্সার প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী এবং দলের সেরা তারকা মেসিদের বিপক্ষে মিথ্যা ছড়িয়েছে। পুলিশ এ বিষয়ে কিছু তথ্যও পেয়েছেন। এরই মধ্যে বিষয়টির তদন্ত করতে বলা হয়েছে। ঘটনা সত্য হলে বার্সার কলঙ্কিত প্রেসিডেন্ট হয়ে যাবেন বার্তামেউ।