ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ম্যাচ রেফারি হতে প্রস্তুতি নান্নুর

ম্যাচ রেফারি হতে প্রস্তুতি নান্নুর
×

ফাইল ছবি

সেকান্দার আলী

প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১০:২৩

জাতীয় নির্বাচক প্যানেল ভেঙে দেওয়ার একটা পরিকল্পনা নিয়ে ফেলেছে বিসিবি। পরিবর্তনটা হতে পারে প্রধান নির্বাচকের পদে, মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর জায়গায়। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের কথাতেও নির্বাচক প্যানেলে পরিবর্তনের সুস্পষ্ট বার্তা রয়েছে। দেশের ক্রিকেটপাড়ায় আলোচনা আছে, হাবিবুল বাশারকে প্রধান নির্বাচক করে নতুন প্যানেল করা হবে। এই খবর মোটামুটি চাউর হয়ে গেছে দেশের ক্রিকেটে। নান্নুও বুঝে গেছেন, প্রধান নির্বাচকের পদে থাকা হবে না তাঁর। বিকল্প পেশার জন্য মানসিক প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তিনি। ম্যাচ রেফারি হিসেবে দেখা যেতে পারে তাঁকে। ক্রিকেটের সঙ্গে থাকতে এ রকম ভাবনা তাঁর।

বিসিবির নির্বাচক প্যানেলে এক দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করছেন নান্নু-বাশার। ২০১৫ সালে ফারুক আহমেদ প্রধান নির্বাচকের পদ ছেড়ে দিলে নান্নুকে প্রমোশন দেওয়া হয়। ৮ বছর ধরে প্রধান নির্বাচক তিনি। বিশ্বকাপে জাতীয় দলের ব্যর্থতার পর নির্বাচক প্যানেলে পরিবর্তন আনার দাবি ওঠে। নান্নু-বাশারকে বাদ দেওয়ার পক্ষে জনমতও গড়ে উঠেছে পরিচালকদের মধ্যে। তবে বাশারকে এক মেয়াদে হলেও প্রধান নির্বাচক হিসেবে দেখতে চান কেউ কেউ। 

বাশারকে প্রধান করা হলে আব্দুর রাজ্জাক ও হান্নান সরকার হবেন সদস্য। বিকল্প আলোচনাও আছে– রাজ্জাককে প্রধান নির্বাচক করে হান্নান সরকার আর হাসিবুল হোসেন শান্তকে সদস্য করা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এ ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্ত হবে। বিসিবির কোর পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। ২০২৪ সালের পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভায় দেওয়া হবে অনুমোদন। এ পর্যন্ত বর্তমান কমিটিকে কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়কদের থেকে প্রধান নির্বাচক করার অলিখিত একটা নিয়ম চালু আছে বিসিবিতে। তাই নান্নু-বাশারের বদলি হিসেবে সাবেক অধিনায়ক খুঁজে পাচ্ছে না বোর্ড। এ কারণে প্যানেলে একাধিক পরিবর্তন করা সম্ভব নাও হতে পারে। এ সমস্যা পাকাপাকি দূর করতে জুনিয়র নির্বাচকদের থেকে প্রমোশন দেওয়ার নিয়ম চালুর প্রস্তাব করেছেন পরিচালকরা। ২০২৪ সাল থেকে এ নিয়ম কার্যকর করতেও পারে বোর্ড। এ থেকে একটা বিষয় পরিষ্কর, পরবর্তী নির্বাচক প্যানেলে নান্নুকে রাখছেন না কেউই। প্রধান নির্বাচকের পদ হারালে কী করবেন নান্নু? 

এ নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘তখন হয়তো বেশি সক্রিয়া থাকা হবে না। ক্রিকেটের সঙ্গে থাকার জন্য ম্যাচ রেফারি হতে পারি। বছরে ১০ থেকে ১২টি ম্যাচ করলে মাঠে থাকা হবে।’

নির্বাচক হওয়ার আগে কোচিং পেশায় ছিলেন নান্নু। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ করা হয়েছিল তাঁকে। ২০১০ সালে যুব বিশ্বকাপ দলের কোচ ছিলেন তিনি। কোচিং পেশায় আবার ফেরার ইচ্ছা আছে কিনা– জানতে চাওয়া হলে নান্নু বলেন, ‘আর কোচিং হবে না।’ 

ম্যাচ রেফারি হওয়ার মানসিক প্রস্তুতি নিলেও নান্নুর বিশ্বাস, ২০২৪ সালের টি২০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত রেখে দেওয়া হতে পারে তাঁকে। পরিচালকদের কারও কারও কাছ থেকে এ রকম আশ্বাস পেলেও বাস্তবতা ভিন্ন। প্রধান নির্বাচকের পদে পরিবর্তন দেখতে চান বেশির ভাগ কর্মকর্তা। বিসিবি সভাপতিও পরিবর্তনের পক্ষে। তবে কাউকে দোষারোপ না করে নিয়মতান্ত্রিক পরিবর্তন চান তিনি।

আরও পড়ুন

×