ঢাকা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হারলেও ডুলির সন্তুষ্টি, ‘আজ আমরা ফুটবল খেলেছি’

হারলেও ডুলির সন্তুষ্টি, ‘আজ আমরা ফুটবল খেলেছি’
×

ছবি- বাফুফে

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:২১

সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হারলেও বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট কোচ থমাস ডুলি। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে আগের ম্যাচের তুলনায় সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দলকে সম্পূর্ণ ভিন্ন মানসিকতা ও খেলার ধরনে দেখেছেন তিনি। শেষ ২০ মিনিটে পাওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে ফলাফলও বাংলাদেশের পক্ষে আসতে পারত বলে মনে করেন এই কোচ।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ডুলি বলেন, ‘আজ রাতে আমরা গত ম্যাচের চেয়ে ভিন্ন একটি দল দেখেছি। খেলোয়াড়রা যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তাতে আমি খুবই আনন্দিত। আমরা ফুটবল খেলার চেষ্টা করেছি এবং খেলোয়াড়রা মাঠে কী করার চেষ্টা করেছে, সেটাও আপনারা দেখেছেন। শেষ ২০ মিনিটে যদি আমাদের গোল করার সুযোগগুলো কাজে লাগত, তাহলে ফলাফল আরও ইতিবাচক হতে পারত।’

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ার বিপরীতে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে শুরু থেকেই লড়াই করার মানসিকতা দেখিয়েছে বাংলাদেশ, এমনটাই মনে করেন ডুলি। ‘আমরা ১১ জন খেলোয়াড় নিয়েই লড়েছি, আগের ম্যাচের মতো নয়। সবাই বুঝতে পেরেছে, লড়াই করলে এবং প্রতিপক্ষকে বেশি জায়গা না দিলে আমরা তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি,’ বলেন তিনি।

বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের সীমাবদ্ধতাকেও দলের পারফরম্যান্সের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন ডুলি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর নিয়মিত লিগ ও ম্যাচ খেলার সুযোগের সঙ্গে বাংলাদেশের পার্থক্য রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। ডুলি বলেন, ‘ফুটবলে মূল বিষয় হলো প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশে আমাদের যে ঘরোয়া প্রতিযোগিতা রয়েছে, তা খুব বড় নয়। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর বা ইন্দোনেশিয়ার মতো লিগ আমাদের নেই। লিগ থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেখানে প্রতি সপ্তাহে খেলোয়াড়রা ম্যাচ খেলে এবং ভুল থেকে শেখার সুযোগ পায়। এই ঘাটতিটাই আমাদের রয়েছে।’

তবে আসিয়ান কাপে খেলার সুযোগকে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন তিনি। ‘আমরা এখানে সবাইকে হারিয়ে দিতে আসিনি। নিজেদের ভুলগুলো চিহ্নিত করে তা থেকে শিখতে এসেছি। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি খেলোয়াড়দের জন্য বড় শিক্ষা ছিল। আর আজকের ম্যাচ প্রমাণ করেছে যে আমরা খেলতে পারি এবং সিঙ্গাপুরকে হারানোর মতো সামর্থ্যও রাখি,’ বলেন বাংলাদেশ কোচ। যদিও ডুলির মতে, বাংলাদেশ দলে নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকারের ঘাটতি রয়েছে, যিনি সুযোগ পেলে নিয়মিত বল জালে জড়াতে পারবেন।

ডুলির চাওয়া, বলের দখল রেখে পরিকল্পিত ফুটবল খেলুক বাংলাদেশ। ‘দাবা খেলার মতো ফুটবলেও পরিকল্পনা করে খেলতে হয়। পরবর্তী দুই-তিন সেকেন্ডে কী হবে, সতীর্থরা কোথায় আছে, সেটা স্ক্যান করতে হয়। আজকের খেলায় আমরা অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ছিলাম এবং ৫০-৫০ বলগুলোতে জয়ী হয়েছি,’ বলেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের কাছে হারলেও এই ম্যাচ থেকে পাওয়া ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে সামনে এগোতে চান ডুলি। তার লক্ষ্য, আসিয়ান কাপের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো করতে চায় বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন

×