ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তবুও মনে থাকবে এই সাফ

তবুও মনে থাকবে এই সাফ
×

ম্যাচের পর ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষকে এভাবেই সান্ত্বনা দেন কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা সংগৃহীত

সাখাওয়াত হোসেন জয়

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ০২ জুলাই ২০২৩ | ০৬:১৫

ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে কুয়েতের কাছে হারটি। তবে ফুটবলে দিনবদলের শুরুটা এই বেঙ্গালুরু থেকেই। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে কুয়েতের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু এই বিদায়েও আছে গর্ব করার মতো অনেক কিছুই। লড়াই করেও লেবাননের কাছে পরাজয়ে যখন চোখ রাঙাছিল আরেকবার সাফের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের, তখনই কিনা নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে তারিক কাজী-রাকিব হোসেনরা লিখলেন প্রত্যাবর্তনের গল্প। মালদ্বীপ ও ভুটানকে হারিয়ে ২০০৯ সালের পর ওঠে সাফের সেমিফাইনালে। গতকাল শেষ হয়েছে স্বপ্নযাত্রা। তাতে অবশ্য মাথা উঁচুতেই জামাল ভূইয়াদের। লড়াকু ও সাহসী ফুটবলে মন জয় করেছে ফুটবলপ্রেমীদের।

মোরসালিন-রাকিবের রসায়ন

সাফে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর যাত্রাটা ছিল মালদ্বীপ ম্যাচ দিয়েই। গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে রাকিব হোসেনের সমতাসূচক গোলের পর শেখ মোরসালিনের করা শেষ গোলটি তো বাংলাদেশের ফুটবলের সোনালি সময়কে মনে করিয়ে দেয়। আর ভুটান ম্যাচে এ দুই তারকা ছিলেন দুর্দান্ত। শনিবার কুয়েতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে দু’জনের রসায়নটাও জমে ছিল বেশ। কিন্তু মনে রাখার মতো ম্যাচটি আফসোস হয়েই থাকবে তাঁদের। ম্যাচের ২ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে রাকিব হোসেনের ক্রসে বল চলে যায় মোরসালিনের পায়ে। কিন্তু কুয়েত গোলরক্ষক বরাবর শট মেরে মোরসালিন অবিশ্বাস্য মিস করেন। আর দ্বিতীয়ার্ধে এই মোরসালিনের ডিফেন্সচেরা পাস ডান প্রান্ত থেকে রাকিবের বুলেট গতির শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। দীর্ঘদিন স্কোরিংয়ের যে সমস্যা বাংলাদেশের ফুটবলে ছিল, এবারের সাফে তা অনেকটাই কেটে গেছে। বিশেষ করে, মোরসালিন ও রাকিব দেখিয়েছেন স্কিল থাকলে গোল করা সম্ভব।

বদলে যাওয়া বিশ্বনাথ

অনেক ম্যাচেই মেজাজ হারিয়ে বাংলাদেশকে ডুবিয়েছেন বিশ্বনাথ ঘোষ। অহেতুক প্রতিপক্ষের ফুটবলারকে ফাউল করে দলের বিপদ ডেকে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু বেঙ্গালুরু সাফে অন্য বিশ্বনাথকে দেখেছেন ফুটবলপ্রেমীরা। তাঁর কাজ মূলত রক্ষণ সামলানো। এবার আক্রমণের সুর বাঁধতে দেখা গেছে তাঁকে। তাঁর লম্বা থ্রো কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে মালদ্বীপ ম্যাচে। গতকাল কুয়েতের বিপক্ষে বসুন্ধরা কিংসের এ ডিফেন্ডার ছিলেন আরও পরিণত ‌ও পরিপক্ব। ঠান্ডা মাথায় প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের কাছ থেকে বল কেড়ে নিতে দেখা গেছে তাঁকে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো প্রতিপক্ষের আক্রমণের সময় মাথা ঠান্ডা রাখা। সেই কাজটিই নিখুঁতভাবে করেছেন তিনি। গতকাল কুয়েতের ফরোয়ার্ডরা যখন বল নিয়ে বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেছেন, তারিক কাজী-তপু বর্মনের সঙ্গে বিশ্বনাথের ট্যাকলও ছিল নিখুঁত। এবারের সাফে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের খেলোায়াড়দের খুব বেশি ভুল করতে দেখা যায়নি। তাঁরা দেখিয়েছেন নিজেদের সামর্থ্য। তবে বিশ্বনাথ ছিলেন একটু আলাদা।

অতিমানবীয় জিকো

কাগজে-কলমে এগিয়ে থাকা লেবাননের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হবে, তা অনুমেয় ছিল। তবে গোলপোস্টের নিচে আনিসুর রহমান জিকো আস্থার প্রতীক হয়ে ছিলেন। সেদিন তারিক ভুল না করলে হয়তো লেবাননকে আটকে রাখতে পারত বাংলাদেশ। সতীর্থদের দারুণ পারফরম্যান্সে মালদ্বীপ ও ভুটানের বিপক্ষে খুব চ্যালেঞ্জে পড়তে হয়নি জিকোকে। তবে গতকাল সেমিফাইনালে কুয়েতের বিপক্ষে বারবার পরীক্ষা দিতে হয়েছে বসুন্ধরা কিংসের এ ডিফেন্ডারকে। প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি সেভ করেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে কুয়েতের সঙ্গে লড়াইটা যেন হয়েছে জিকোর সঙ্গে। এই অর্ধে তাঁর অসাধারণ সেভের কারণে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। সেখানে অতিমানবীয় সেভ করেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক। বিশেষ করে, ম্যাচের ৯৮ মিনিটে তিনি যা করেছেন; তা এক কথায় দুর্দান্ত। আল খালিদির শট ওয়ান টু ওয়ান পজিশনে আটকান বাংলাদেশ গোলরক্ষক। এরপর আল রশিদির শটও ঝাঁপিয়ে ঠেকান জিকো। তাঁর বীরত্বে এক সময় টাইব্রেকারে ম্যাচ গড়ানোর সম্ভাবনা জাগে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। তারপরও এই ম্যাচের অন্যতম সেরা পারফরমার জিকো।

আরও পড়ুন

×